আজকের দিনেই গত সপ্তাহে সমাজ মাধ্যম তোলপাড় হয়েছিল, ভ্লগার এবং জনপ্রিয় গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) লাইভ ভিডিওর পর, ৭৮ টা ওষু’ধ খেয়ে আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টার ঘটনায়। শুধু কারণ নয়, দেবলীনাকে নিয়ে বন্ধু সায়কের উৎকণ্ঠাকেও অনেকে বিকৃ’ত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। কেউ বলেছেন, সমস্তটাই একটা সহানুভূতি এবং জনপ্রিয় পাওয়ার নাটক। তো কেউ বলেছেন, সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ নাকি সংসার জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। এতদিন শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দেবলীনা চুপ থাকলেও, এবার মুখ খুললেন তিনি!
মাঝ রাতে একটি লাইভ ভিডিও করেন তিনি। সেখানে লেখা, “এটার আমার প্রথম এবং শেষ বক্তব্য। অনেকেই বলছেন আশঙ্কাজনক অবস্থায় কি করে ভ্লগ করা যায়! অনেকেই আমার মৃ’ত্যু কামনা করেছে। অনেককিছু তাদের নিয়ে করতে পারতাম, কিন্তু না! এবার সব প্রমাণ সমেত অন্য জায়গায় দেখাব। বিয়ে হয়েছে মানেই নিজেকে বিক্রি করিনি, যে নিজের মাকে ছেড়ে দেব। হ্যাঁ, আমি দোষ করেছিল সব দুঃখ লুকিয়ে আসল অপরাধীকে আয়নার সামনে ভালো সাজিয়েছি। এবার দরকার হলে, উল্টোটাও করব।”
ভিডিওটিতে তিনি বলেন, “ফোন থেকে আমি দূরেই ছিলাম, কিন্তু আজকে কয়টা কথা না বলে পারছি না। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে যে বেঁচে গিয়ে বড় ভুল করে ফেলেছি! ৭৮ না ৬৮ নাকি ৮০, এটা নিয়ে সবার এত মাথা ব্যথা! শুধু আমি কেন, যে কোনও মানুষ যখন ভাবে মরে যাবে, সেটা যে কোন পরিস্থিতিতে নেয় বলে বোঝানো যাবে না। আমি বলছি না যে খুব ভালো কাজ করেছি বা আ’ত্মহ*ত্যাই একমাত্র মুশকিল আসান ছিল, কিন্তু অনেকেই দেখছি অনেক কিছু বলছেন। যার মধ্যে এখন নন্দিনী ভট্টাচার্য, উনি বলছেন যে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। আমি প্রবাহকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি।
এমনকি যেই পর্যায় আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল, তখনও ওর কথাই ভেবেছি। মানুষ তো বিয়ে করে থাকার জন্য, ভাঙার জন্য তো না! আমি কোনদিনও ডিভোর্স দেবে সেটা ভাবিনি। বিয়ের পরেই একমাস দিল্লি চলে গিয়েছিল। সেই সময় আমি এক বোনের সাহায্যে পুরো ফ্ল্যাটটা সাজিয়ে তুলেছিলাম। আমি কিন্তু কখনও বলিনি প্রবাহ বাজে বা খারাপ। শেষে বাধ্য হয়ে ওই লাইভটা করেছিলাম। প্রবাহ আমায় কতটা ভালোবাসে জানি না, কিন্তু ওর কাছে কাজ আর মায়ের কথার মূল্য সব থেকে বেশি। বিয়ের আগে আমি হাসপাতালে ভর্তি হই।
প্রবাহ পাশে থাকেনি কাজ আছে বলে। ও আমাকে কতটা ভালোবেসে জানি না, কিন্তু আমি ওকে খুব ভালোবাসি।” এর সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “যেই কথাটা আমার এবার বলার, সেটা বোধহয় প্রবাহ এসে বললেই ভালো হয়! প্রবাহ নিজেই যদি বলে যে সায়ককে নিয়ে ওর কোনও সমস্যা ছিল না, অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। সায়ক বাড়ি আসতো, আমার-প্রবাহর সঙ্গে সুন্দর সময় কাটিয়েছে। প্রবাহ না থাকলে সায়ক কোনদিনও পা রাখেনি! আমরা যেখানে থাকি, ওখানে গাড়ির নম্বর দিয়ে এন্ট্রি হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘হৃদয়ে জন্ম নেওয়া চৈতন্যের বৈরাগ্যই আমার রূপান্তর’ পেট ভিতরে ঢুকে, পাঁজর এসেছে বেরিয়ে! তবুও দিব্যজ্যোতি সর্বক্ষণ নিজের মধ্যেই খুঁজছেন শ্রীচৈতন্যের ছায়া! চরিত্র শেষ হলেও, একাত্ম হয়ে রয়ে গেছেন অভিনেতা!
তাই লুকিয়ে চুরিয়ে আসার রাস্তা নেই। কাজ ছাড়া সায়কের সঙ্গে আমার দেখাও হতো না। কোথাও ঘুরতেও যাইনি একসঙ্গে। বেকার বেকার সায়ককে টেনে আনা হচ্ছে, শুধু প্রথম যোগাযোগটা আমি ওকে করেছিলাম তাই! ওকেই আমি ভরসা করে সেদিন কিছু বলতে চেয়েছিলাম। আজকে আপনাদের বলছি, প্রবাহ ওর মায়ের কথা শুনলে অন্যরকম হয়ে যায়, ম্যাসেজ এনক্রিপ্ট করে রাখে। সবাই বলেছিল যে পাইলটদের চরিত্র ভালো হয় না, কিন্তু আমি বলেছিলাম মানি না।
আমার ভালোই ছিলাম বিয়ের পর, সমস্যা শুরু করে প্রবাহের মা। ওনার কথা, আমার ম্যানেজমেন্ট উনি সামলাবেন। কেন, আমার মা থাকলে নাকি সব টাকা ওদিকে চলে যাচ্ছে। আমি না করায় সবকিছু শুরু হয়। কুকুরের মতো আমি প্রবাহর চারপাশে ঘুরে গেছি। আজও ওকে আমি ছাড়তে চাই না। সবাই বলছে টাকার জন্য নাকি এরম করেছি, কিন্তু বিশ্বাস করুন ওর একটা ফোনের অপেক্ষা করছি শুধু।” বলতে বলতেই অঝোরে কেঁদে ফেললেন দেবলীনা!






