টানা এক বছর উঠে দাঁড়াতেও পারতেন না! সায়াটিকার অসহনীয় যন্ত্র’ণায় থমকে গিয়েছিল সৌমিতৃষার জীবন! দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, ভাগ করলেন ভ’য়ংকর অভিজ্ঞতা! এই রো’গ কেনই এত কষ্টকর?

সদ্য মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ কালরাত্রি ২ আবারও দর্শকের নজরে এনেছে অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডুকে। পর্দায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও গত এক বছর তাঁকে নিয়মিত কাজে দেখা যায়নি। কারণ একটাই, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুগছিলেন সায়াটিকার সমস্যায়। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই জানান, টানা যন্ত্রণার কারণে তিনি ঠিকভাবে দাঁড়াতে কিংবা কাজ করতে পারতেন না। প্রায় এক বছর ধরে এই শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করার পর এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ।

সৌমিতৃষার অভিজ্ঞতা আজ বহু কর্মরত মানুষের বাস্তব চিত্র। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব আর ভুল ভঙ্গিতে বসার অভ্যাস থেকেই ধীরে ধীরে হানা দেয় সায়াটিকার ব্যথা। এই ব্যথা মূলত সায়াটিকা নামের একটি বড় স্নায়ুর উপর চাপ পড়লে দেখা যায়। কোমরের নীচের অংশ থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব ও ঊরুর পিছন দিয়ে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এই যন্ত্রণা। অনেক সময় পায়ের একাংশ অবশ হয়ে আসাও সাধারণ উপসর্গ।

মানবদেহের সবচেয়ে লম্বা ও মোটা স্নায়ু হল সায়াটিকা, যার উৎপত্তি মেরুদণ্ড থেকে। লাম্বার স্পাইন ও স্যাক্রাম অঞ্চল থেকে বেরিয়ে এই স্নায়ু শরীরের নীচের অংশে বিস্তৃত। মেরুদণ্ডের মাঝখানে থাকা ডিস্ক কোনও কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে এবং শুরু হয় তীব্র ব্যথা। দুর্ঘটনা, বাতজনিত সমস্যা, স্নায়ুর রোগ এমনকি গর্ভাবস্থাতেও সায়াটিকার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই ব্যথা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, বরং সময়মতো সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। সঠিক ভঙ্গিতে বসা, আরামদায়ক চেয়ার ব্যবহার করা এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পেছনের পকেটে মানিব্যাগ রেখে বসার মতো ছোট অভ্যাসও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে, যা অনেকেই গুরুত্ব দেন না।

আরও পড়ুনঃ বাবার কণ্ঠে ভক্তিগীতি, চোখে-মুখে মুগ্ধতা রাসামৃতার! বাবার কাছেই মন দিয়ে, একরত্তি কন্যা শিখছে কৃষ্ণভক্তির প্রথম পাঠ! গৌরব-চিন্তামণির আধ্যাত্মিক সংসারের ঝলক, আবারও মন ছুঁয়েছে সকলের!

সায়াটিকার যন্ত্রণা কমাতে গরম জলে স্নান, বরফ সেঁক, নির্দিষ্ট যোগাসন এবং ফিজিওথেরাপি বেশ কার্যকর। তবে নিজের ইচ্ছেমতো তেল বা ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সৌমিতৃষার মতো অনেকেই এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন, সচেতনতা আর সঠিক চিকিৎসাই এখানে সবচেয়ে বড় ভরসা।

You cannot copy content of this page