“ভোটার যাচাইয়ের নামে ক্ষ’তি করা হচ্ছে, ভোটাধিকার নিয়ে মানুষের মনে ভ’য় তৈরি হলে চুপ থাকা যাবে না!” এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোগা’ন্তির অভিযোগ তুলে, নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়!

সম্প্রতি এসআইআর (SIR) পদ্ধতি চালু হওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত ও বৈধ ভোটারদের একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই নানা জটিলতা সামনে আসতে থাকে। একদিকে অতিরিক্ত কাজের চাপে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু বিএলও, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা ও ভয়। শুনানির নোটিস পাওয়ার পর অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, এমন অভিযোগও উঠে এসেছে! তবু প্রশাসনিক স্তরে এই প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি, বরং নানা সমস্যার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে।

সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি সামনে এসেছে, তা হল শুনানির পদ্ধতি। অসু’স্থ মানুষ, প্রবীণ নাগরিক, এমনকি হাঁটাচলায় অসুবিধা থাকা ব্যক্তিদেরও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, ভোটার যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে না? নির্বাচন কমিশনের কাছেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার দাবি উঠেছে বারবার।

এই প্রেক্ষাপটেই এসআইআর প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গেল টলিউড অভিনেতা ‘পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়’কে (Parambrata Chatterjee)। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, অভিষেক রায় সহ সংস্কৃতি জগতের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ। সাধারণ মানুষের হয়রানির কথা মাথায় রেখে তাঁরা গড়ে তুলেছেন ‘বাংলা একতা মঞ্চ’। এই মঞ্চের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে মানুষের সমস্যাগুলি সংগঠিতভাবে তুলে ধরাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

গতকাল, একতা মঞ্চ গঠনের বিষয়ে পরমব্রত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এটি কোনও বড় রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি চেষ্টা মাত্র। তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ অযথা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং কোথাও কোথাও ভোটাধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি হওয়াটাও তাঁর কাছে উদ্বেগের। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা আরও সংবেদনশীল মনোভাবের আবেদন জানাতে চান।

আরও পড়ুনঃ অভাবের লড়াই শেষে প্র’য়াত ‘দূরদর্শনের মহিষাসুর’ অমল চৌধুরী! যার হাসিতে কাঁপত পর্দা, নিঃশব্দে শেষ হল বাংলার সেই উজ্জ্বল নক্ষত্রের গল্প!

উল্লেখ্য, এই দাবিগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরমব্রত ছাড়াও অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, তন্ময় ঘোষদের উপস্থিতি ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় যদি মানুষের ক্ষতি হয়, তাহলে তার বিরোধিতা করাই একতা মঞ্চের মূল অবস্থান বলে মনে করছেন তাঁরা। মানুষের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই অবস্থানেই অনড় সবাই।

You cannot copy content of this page