গত তিন দিন ধরে প্রবল শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। অসুস্থতা নিয়েই টানা দুদিন শুটিং চালিয়ে গেলেও বুধবার আর শরীর সায় দেয়নি। পেটের তীব্র ব্যথায় তিনি শুটিংয়ে পৌঁছতেই পারেননি। ব্যথা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে হাঁটাচলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পেটের নীচের অংশ থেকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ছিল পা পর্যন্ত। এমন অবস্থায় শুটিংয়ের আলো ক্যামেরার বদলে তাঁকে লড়াই করতে হচ্ছে নিজের শরীরের সঙ্গে।
শ্রীময়ী জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকেই হালকা ব্যথা শুরু হয়েছিল। ওষুধ খেয়ে সেটে গেলেও শট দেওয়ার সময় অসুস্থ বোধ করেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে যান অভিনেত্রী। যিনি তাঁর সন্তানের সময় চিকিৎসা করেছিলেন, তাঁর কাছেই প্রথমে যান শ্রীময়ী। পরীক্ষা করে জানা যায়, এটি কোনও স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা নয়। এরপর অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় এবং আরও পরীক্ষা নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার তাঁর আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়েছে। যদিও রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণা, বিষয়টি কিডনির কোনও সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। নিশ্চিতভাবে জানতে আগামী ২৮ জানুয়ারি এমআরআই করা হবে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলেই সম্পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে। আপাতত চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে থাকার কথা থাকলেও মানসিক দুশ্চিন্তা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না অভিনেত্রীর।
বর্তমানে মিলন হবে কত দিনে ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন শ্রীময়ী। শুটিংয়ের মাঝখানে ছুটি নেওয়ার কথা ভাবতেই তাঁর অস্বস্তি হচ্ছে। কাজের প্রতি দায়িত্ববোধই হয়তো তাঁকে বিশ্রাম নিতে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু অসহ্য যন্ত্রণার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্মেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমনকি ছোট্ট মেয়ে কৃষভিকে কোলে নিতেও কষ্ট হচ্ছে তাঁর।
আরও পড়ুনঃ “তুমিই আমার মা-বাবা, আমরা তো অনেকদিন ধরেই শুধু দু’জন…” মেয়ের থেকে মাত্র ২ বছরের বড় বাবার নতুন বউ! হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সংসারের খবরে নাইসার পোস্টেই ফুটে উঠল পরিবারের ভাঙনের বাস্তব ছবি!
সব মিলিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে শ্রীময়ীর। একদিকে রিপোর্টের অপেক্ষা, অন্যদিকে কাজের চাপ ও মাতৃত্বের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশাতেই দিন গুনছেন অভিনেত্রী ও তাঁর অনুরাগীরা। চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হলেই তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।




