বিনোদন জগতের শিল্পীদের ব্যক্তিগত মতামত অনেক সময়ই দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন তোলে। কখনও সেই বক্তব্য প্রশংসা কুড়োয়, কখনও আবার বিতর্কের জন্ম দেয়। বিশেষ করে ধর্ম, বিশ্বাস কিংবা ঈশ্বরচিন্তা নিয়ে কোনও পরিচিত মুখ প্রকাশ্যে কথা বললে তা দ্রুতই চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। কারণ শিল্পীদের ভাবনা শুধু পর্দায় সীমাবদ্ধ থাকে না, তাঁদের কথাবার্তাও বহু মানুষ অনুসরণ করেন, নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
এই তালিকায় বরাবরই আলাদা জায়গায় রয়েছেন মমতা শঙ্কর। স্পষ্টভাষী, নিজের মতামতে অনড় এবং জীবনদর্শনে খোলামেলা—এই পরিচয়েই তিনি বহুদিন ধরে পরিচিত। নাচ, অভিনয় কিংবা সামাজিক ভাবনা—সব ক্ষেত্রেই তিনি সরাসরি কথা বলতে ভালোবাসেন। তাই তাঁর বলা প্রতিটি কথাই আলাদা করে নজর কেড়ে নেয় দর্শকদের।
ঠাকুর এবং পুজো নিয়ে মমতা শঙ্করের ভাবনাও বরাবরই প্রথাগত ধারার বাইরে। এর আগেও বহুবার তিনি জানিয়েছেন, তিনি ঠাকুরকে কোনও আলাদা শক্তি বা ভয়ের জায়গা বলে মনে করেন না। তাঁর মতে, সব কিছুই তাঁর নিজের। সেই কারণেই প্রসাদ নিবেদন করার আগে তিনি নিজেই সেই খাবার চেখে দেখেন। তাঁর যুক্তি, যাকে আপনি নিজের মতো ভালোবাসেন, তার সঙ্গে কোনও দূরত্ব রাখা যায় না—ঠাকুরও তার ব্যতিক্রম নন।
চলতি বছরের সরস্বতী পুজোতেও সেই একই ভাবনাই ফের একবার প্রকাশ্যে আনলেন মমতা শঙ্কর। গত ২৩ তারিখ সরস্বতী পুজোর দিন তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলাদা করে ‘ঠাকুর মশাই’ ডেকে তিনি পুজো করেননি। যা করেছেন, মন থেকেই করেছেন। তাঁর কথায়, ভালোবাসা দিয়ে করা কাজের জন্য কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা থাকা উচিত নয়। পুজো মানে তাঁর কাছে চাওয়া নয়, অনুভব।
আরও পড়ুনঃ ‘ফলের আশা কোরো না…’ বিয়ের আইনি জটিলতার মাঝেই, হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকার পোস্টে গীতার শ্লোক! আত্মশুদ্ধি না কি অনিন্দিতাকে পরোক্ষ খোঁচা?
এ দিনের পুজোয় মমতা শঙ্করকে দেখা গিয়েছে সম্পূর্ণ পারিবারিক আবহে। স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে হাসি-মজায়, আড্ডায় কাটিয়েছেন সরস্বতী পুজোর দিন। কোনও আড়ম্বর নয়, কোনও আলাদা পুরোহিত ডেকে আয়োজন নয়—নিজের মতো করেই বিশ্বাস ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে পুজো উদযাপন করলেন তিনি।






