নতুন বছরের শুরুতেই টলিপাড়ায় যে খুশির আমেজ, একাধিক শিল্পী জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন আর তার মাঝেই আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেতা ‘রণজয় বিষ্ণু’ (Ranojoy Bishnu) এবং ‘শ্যামৌপ্তি মুদলি’ (Shyamoupti Mudly)। অনেকদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ফিসফাস চলছিল, তবে এবার আর জল্পনা নয় সবটাই নিশ্চিত। এই মাসেই তাঁরা সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন। হাতে আর খুব বেশি সময় নেই, তাই বিয়ের আগে প্রস্তুতিও চলছে একেবারে জোর কদমে, আর তারই ঝলক মিলছে সাম্প্রতিক কিছু মুহূর্তে।
প্রসঙ্গত, দু’জনের সম্পর্কের সূত্রপাত স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গুড্ডি’র সময় থেকেই। সহশিল্পী হিসেবেই শুরু হয়েছিল সম্পর্ক, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা গড়িয়ে যায় ব্যক্তিগত জীবনের কাছাকাছি। যদিও কখনওই তাঁরা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেননি, তবুও একসঙ্গে তাঁদের উপস্থিতি, চোখে চোখে বোঝাপড়া মিলিয়ে কারোর কাছেই বিষয়টা আর অজানা ছিল না। অনস্ক্রিনে যে রসায়ন দর্শক দেখেছিলেন, সেটাই যেন অজান্তেই অফস্ক্রিনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি তাঁদের প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের কিছু ছবি সমাজ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিয়ের আগে এই বিশেষ সময়টাকে ধরেই রাখার উদ্দেশ্যেই শুট, কিন্তু সেই ছবিগুলো ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা! প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও কম নয়। কালো পোশাকে রণজয় আর সাদা টি-শার্ট ও জিন্সের শর্টসে শ্যামৌপ্তিকে দেখা গেল কখনও কাঁধে, কখনও কোলে তো কখনও আবার একেবারে রণজয়ের বাহুলগ্না হয়ে আদরে মাখামাখি সমুদ্র সৈকতে। আর এই দেখেই সমালোচনায় মেতেছেন অনেকে।
এই ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসতেই, আলোচনায় চলে এসেছে পুরোনো নানান বিতর্কিত বিষয়। অনেকেই সম্পর্কের বয়সের ফারাক টেনে এনেছেন আলোচনায়। শ্যামৌপ্তির থেকে রণজয় প্রায় ১৪ বছর বড়, এই বিষয়টি নতুন নয়, তবে প্রি-ওয়েডিং ছবির পর সেই প্রসঙ্গ আবার সামনে এসেছে। তার উপর দু’জনের উচ্চতার বিস্তর পার্থক্যও নজরে পড়েছে অনেকের। ফলত কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ছবিগুলো দেখে নাকি বাবা-মেয়ের সম্পর্কের মতোই লাগছে! ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও যে কম আসেনি, তা নয়।
আরও পড়ুনঃ “অন্য কারোর দোষের দায়ভার আমি নেব না!” সায়ক ‘গো*মাংস’ বিতর্কে জড়াতেই দূরত্ব অনন্যার, প্রশ্নের মুখে বন্ধুত্ব! “একই টেবিলে বসে খেয়েছে, অথচ দোষ এলে সব সায়কের ঘাড়ে!” “যেই দেখল ঝামেলা, অমনি নিজেকে বাঁচিয়ে নিল, এরা বন্ধু?” তীব্র প্রতিক্রিয়া নেটিজেনদের!
কেউ লিখেছেন, “প্রি-ওয়েডিং কম, প্রথম জন্মদিনের অ্যালবাম বেশি মনে হচ্ছে।” আবার কারও মতে, “এটা বিয়ের ছবি নয়, বিক্রম-বেতালের নতুন পর্ব মনে হচ্ছে!” এমনকি আরও তীক্ষ্ণ কটাক্ষও করেছেন কেউ, “বাবা তাঁর মেয়েকে কোলে তুলে সমুদ্র দেখাচ্ছে মনে হচ্ছে। আমি আমার মেয়েকে ছবিগুলো দেখিয়ে বলছিলাম, ছোটবেলায় এভাবেই কোলে তুলতাম।” এই ধরনের মন্তব্যে ভরে উঠেছে কমেন্ট বক্স। তবে সব কিছুর মধ্যেই সত্যিটা একটাই, হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, আর সেই সময়টুকু নিজেদের মতো করেই উপভোগ করছেন হবু দম্পতি। সমালোচনা থাকুক বা প্রশংসা, তাঁদের জীবনের নতুন অধ্যায় ভরে উঠুক আনন্দে।






