বিনোদনজগতে ‘মিটু’ আন্দোলনের প্রভাব আজও বহুবিধ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সিনেমা, নাটক, থিয়েটার—যে কোনও ক্ষেত্রেই মহিলা হেনস্থার ঘটনা সামনে আসে। কিন্তু সমাজের যা অবস্থা তাতে ভাবার বিষয়, এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধুই কাজের জগতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে কি? সম্প্রতি সেই দিকেই নজর আকর্ষণ করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। সোশাল মিডিয়ায় নিজের জীবন থেকে এক অত্যন্ত দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি।
সোহিনী জানান, ঘটনার স্থান ছিল তার নিজস্ব বাড়ি। পাশের ফ্ল্যাটে এক ইলেকট্রিশিয়ান এসেছিলেন কিছু কাজ করার জন্য। তিনি তখন নিজে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলছিলেন। হঠাৎ করেই লক্ষ্য করেন, পিছন থেকে কেউ চিমটি কেটে চলে গেছে। অভিনেত্রীর কথায়, “ভাবুন, নিজের বাড়িতে দাঁড়িয়ে এমন ঘটনা” মুহূর্তে রাগটা সামলানো সম্ভব হয়নি। ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যে অভিনেত্রী সেই ব্যক্তিকে ধরে শাস্তি দিতে পারিনি। আর ততক্ষণে সে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।
ঘটনার পর সোহিনী মানসিকভাবে কতোটা বিপর্যস্ত ছিলেন, তা তিনি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। “ওই রাতটি আমি প্রায় ঘুমাতে পারিনি। নিজের মায়ের সঙ্গে আচরণও স্বাভাবিকের থেকে খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বারবার মনে ঘৃণা তৈরি হচ্ছিল। এমন ঘটনার পর মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত কতটা গভীর হতে পারে, সেটা বুঝতে পারা যায়,” জানিয়েছেন সোহিনী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অভিযুক্তদের সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সোহিনী আরও উল্লেখ করেছেন, বর্তমান প্রজন্মই প্রথম, যারা সোশাল মিডিয়ার সাহায্যে নিজের কথা বলার সাহস পাচ্ছে। তারা ‘মিটু’ আন্দোলনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নির্যাতন বা হেনস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, শুধু বিনোদন জগত নয়, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ “বাবা নিজের মেয়েকে কোলে তুলে সমুদ্র দেখাচ্ছে মনে হচ্ছে!” “প্রি-ওয়েডিং নয়, বিক্রম-বেতালের নতুন পর্ব!” অসমবয়সী প্রেমের ফটোশুট দেখে হেসে কুটোপুটি নেট পাড়া
শেষ পর্যন্ত সোহিনী সরকারের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে কোনো ব্যক্তির জীবনেই হঠাৎ সময়ে হেনস্থা ঘটতে পারে, এমনকি নিজের বাড়িতেও। সমাজের প্রতি তাঁর বার্তা স্পষ্ট—এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক ভাবা উচিত নয়, এবং হেনস্তাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও অভিনেত্রী জানিয়েছেন “সমাজে নিরাপত্তা এবং সম্মানের জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে,” ।






