“সন্তানের প্রশ্ন আমাদের কাছে ছোট হলেও, ওদের জগতে সেটা বিশাল…আমি ওদের সম্মান করতে ভালোবাসি!” শিশুর ভাবনাকে ছোট করে দেখা উচিত নয়! আধুনিক মাতৃত্ব ও শিশুদের মানসিকতার বিকাশ নিয়ে কোয়েল মল্লিকের স্পষ্ট মতামত!

আজকের দিনে যেখানে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই সাফল্যের চাপে বেড়ে উঠছে, সেখানে ‘টলি কুইন’ কোয়েল মল্লিকের (Koel Mallick) মাতৃত্ববোধ যেন একেবারেই আলাদা! তাঁর মতে, সন্তানের প্রশ্ন অনেক সময় বড়দের কাছে তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু শিশুর নিজস্ব জগতে সেই প্রশ্নের গুরুত্ব অপরিসীম! একজন মা হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া নয় বরং তা মন দিয়ে শোনা এবং সম্মান করাই সন্তানের মানসিক বিকাশের প্রথম ধাপ।

প্রসঙ্গত, অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও দুই সন্তানের মা কোয়েল জানেন, শিশুর মনে কৌতূহল জন্মানো মানেই শেখার শুরু। তিনি তাই বলেন, সন্তানের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া বা সেটিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে উড়িয়ে দেওয়া মানে তাদের ভাবনার জগৎকে ছোট করে দেখা! তাই তাঁর সংসারে প্রশ্ন করা মানেই বকুনি নয়, বরং আলোচনা, যেখানে সন্তানের মতামতেরও মূল্য থাকে সবার মতোবছের তাঁর অন্যতম পছন্দের কাজ ‘স্বার্থপর’এ ছবিতে ভাই-বোনের সম্পর্কের জটিল আবেগ সহজভাবে ফুটে উঠেছিল।

বাস্তব জীবনেও সেই অনুভূতির প্রতিফলন দেখতে চান কোয়েল। তাঁর মতে, পরিবারের ভিতরে শিশুদের কথা বলার জায়গা না থাকলে তারা ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শেখে, মনের কষ্ট গোপন করতে করতে অবসাদের রূপ নেয়। তাই তিনি চেষ্টা করেন, তাঁর সন্তানরা (কবীর ও কাব্য) যেন নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারে, ভুল বুঝতে পারে এবং আবার শিখতেও পারে। শুধু প্রশ্ন নয়, সন্তানের অনুভূতিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

উল্লেখ, সন্তানের কোনও বিষয়ে মন খারাপ, রাগ বা দ্বিধা সবকিছুকেই তিনি স্বাভাবিক আবেগ হিসেবে দেখেন। কোয়েলের বিশ্বাস, একজন অভিভাবকের কাজ সন্তানের অনুভূতিকে শাসন করা নয়, বরং তা বুঝে পাশে থাকা। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ে, তেমনই তৈরি হয় এক সুস্থ মানসিক ভিত্তি। কোয়েল মল্লিক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আরও জানিয়েছে যে ভালো মানুষ তৈরি করার শুরুটা হয় বাড়ি থেকেই!

আরও পড়ুনঃ “বাজেটে বাংলা ব্রাত্য!” ক্যা*ন্সারের ওষুধ সস্তা হলেও, সাধারণ মানুষেaর স্বস্তি কতটা? কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে কী বলছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ?

অকারণে তুলনা, চাপ বা অযথা প্রত্যাশার বদলে যদি ভালোবাসা আর বোঝাপড়া দেওয়া যায়, তাহলে শিশুরা নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে শেখে। একজন মা হিসেবে তিনি তাই সেই পথেই হাঁটছেন, যেখানে সন্তানের প্রতিটি প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটাই তাদের জগৎকে বড় করে তোলে। আপনারা কতটা সহমত অভিনেত্রীর এই চিন্তাধারার সঙ্গে? জানতে ভুলবেন না কিন্তু!

You cannot copy content of this page