“আমার ক্লিভেজ, শরীর দেখাতেই পারি…যেভাবে বিছানার চাদর পালটাই, সেরকম তোমাকেও পাল্টাবো” শাড়িতেই নারী আবার কী? পোশাক, প্রেম-বিচ্ছেদ নিয়ে অকপট শতাব্দি রায়! সমাজের ভেদাভেদ থেকে নারী স্বাধীনতা, কবিতার মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চান তিন?

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শতাব্দী রায় বহু বছর ধরে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ১৯৮৬ সালে তপন সিংহর ‘আতঙ্ক’ ছবিতে অভিষেকের পর নব্বইয়ের দশকে তিনি বাণিজ্যিক সিনেমার প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত চ্যাটার্জী, তাপস পাল-এর সঙ্গে অসংখ্য হিট ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন শতাব্দী। দুবার বিএফজিএ সম্মান লাভ করে তাঁর অভিনয় ক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। অভিনয় ছাড়াও রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি, ২০০৯ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত। সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন, নারী অধিকার থেকে শুরু করে সমাজের সমস্যা, এমনকি সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের ঘটনায়ও তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা গেছে।

শতাব্দী রায় শুধু চলচ্চিত্র বা রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি সমাজের নানা সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলেন। নারীর স্বাধীনতা, সম্পর্কের জটিলতা, সামাজিক ভেদাভেদ—সবই তাঁর আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নানা বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। এই মনোভাবই তাঁকে কবিতার জগতে নিয়ে এসেছে। ছোটবেলা থেকে কবিতা লিখতেন, স্কুলের ম্যাগাজিনে ছড়া ছাপাতেন।আর বড় হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর লেখা পোস্ট করে ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়ে তিনি কবিতার প্রতি আরো মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।

সম্প্রতি হতে চলেছে তাঁর কবিতা অনুষ্ঠান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শিশির মঞ্চে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের প্রোগ্রামে থাকবে বায়োপিক, কবিতা এবং মিউজিক, শেষে দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথন। টিকিট বুকমাইশো এবং ডিস্ট্রিক্ট অ্যাপে সহজেই পাওয়া যাবে। শতাব্দী তাঁর কবিতার মাধ্যমে বর্তমান সমাজের নানা দিক তুলে ধরবেন—প্রেম, সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, এবং নারীর স্বাধীনতা।

কবিতায় শতাব্দী আধুনিক নারীর স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “শুধু শাড়িতেই নারী কেন? আমার ক্লিভেজ দেখাবো, না দেখাবো,আমার ব্যাপার, এটা আমার শরীর, আমি দেখাবো।” এই লাইনগুলোতে নারীর নিজস্ব শরীর এবং নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী থাকা অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও তিনি উত্থাপন করেছেন, অভিনেত্রী জানিয়েছেন– “প্রয়োজন হলে তোমার সঙ্গে থাকবো, না হলে থাকবো না। মন আর শরীরেও ক্লান্তি আসে, যেভাবে বিছানার চাদর পালটাই, সেরকম তোমাকেও পাল্টাবো।” এই ভাবনাগুলো আজকের প্রজন্মের নারীর মানসিকতা ও স্বাধীনচেতা মনকে প্রকাশ করে, যারা সমাজের সীমাবদ্ধতা এবং পুরুষতান্ত্রিক নিয়মাবলী থেকে মুক্তি চায়।

আরও পড়ুনঃ “আপনার মাকে ডাকুন, দেখা উচিত মেয়ে পাঁচালি গেয়ে আর চেটে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছে!” “কালকে আমার মাকে ছোঁয়া হয়েছে…আমি বিধ্বস্ত, নিতে পারছি না!” মৃ’ত মাকে নিয়ে কটাক্ষে, নেটিজেনদের আক্রমণে বড় সিদ্ধান্ত ইমনের!

প্রেম-বিচ্ছেদ এবং সম্পর্কের অস্থিরতাও শতাব্দীর কবিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, “তুমি বন্ধু ছিলে, আজকে বেস্ট ফ্রেন্ড, কাল প্রেমিক, পরদিন আবার বেস্ট ফ্রেন্ডে ফিরে গেলে। খুব ইজিলি ব্রেকআপ, খুব ইজিলি মুভ অন।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আজকের সম্পর্ক কতটা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং অস্থির। তিনি মনে করেন, প্রেম পাওয়ার পর লেখালেখি থেমে যায়, কারণ তখন শুরু হয় ‘ডাল ভাত খাওয়া এবং ঘুমের জীবন’। এছাড়া সমাজের ভেদাভেদ, রাস্তার মানুষ, ফুটপাতের বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসাও তাঁর কবিতায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এসব লেখার মাধ্যমে সমাজের বাস্তবতা ও মানুষের জীবনের নানা দিককে সমানভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

You cannot copy content of this page