“গাড়ি উল্টে চালক মৃ’ত, আমার গায়ে আঁ’চড়টুকুও লাগেনি!” “প্রাণের স্পর্শ পেতাম, মূর্তিতে স্পন্দন অনুভব করতাম” আধ্যাত্মিক যোগসূত্রই কি ভয়াবহ দুর্ঘ’টনায় হয়ে উঠেছিল অলৌকিক রক্ষা-কবচ? মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফেরার অভিজ্ঞতা বললেন ‘বামাক্ষ্যাপা’, অরিন্দম গাঙ্গুলী!

বাংলা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চের পরিচিত মুখ অরিন্দম গাঙ্গুলী ২০২৬ সালকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর বলে উল্লেখ করেছেন। ৬০ বছরের শিল্পজীবন, কালজয়ী ছবি ‘হংসরাজ’-এর ৫০ বছর এবং মঞ্চ অভিনয়ের অর্ধশতক—এই তিনটি মাইলফলক একসঙ্গে ছুঁয়েছে তাঁর কেরিয়ারকে। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করা পথচলা থেকে দীর্ঘ অভিনয়জীবন—অরিন্দমের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরপুর। তবে তাঁর জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় জড়িয়ে আছে একটি ধারাবাহিক এবং এক অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে।

সেই ধারাবাহিকের নাম ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’, ইটিভিতে টানা ১০ বছর চলা (২৯৮৯ পর্ব) এই সিরিয়ালে অরিন্দম প্রায় ৮ বছর বাবা ক্ষ্যাপার চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, চরিত্রটি করতে করতে তাঁর ভেতরে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। “সাধক বামাক্ষ্যাপা’’ করতে করতে ওর সঙ্গে আমার একটা যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেছিল। আমি প্রাণের স্পর্শ পেতাম, প্রাণের স্পন্দন পেতাম মূর্তির মধ্যে,”—এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকে অভিনয় যেন ধীরে ধীরে তাঁর কাছে সাধনার মতো হয়ে ওঠে।

এই আধ্যাত্মিক অনুভূতির মাঝেই ঘটে যায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা। শুটিং সেরে ফেরার পথে হঠাৎ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারায়। ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, গাড়ি প্রায় বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছে যায়। উপস্থিত সকলে আতঙ্কিত হলেও আশ্চর্যজনকভাবে এত বড় অ্যাক্সিডেন্ট হওয়া সত্বেও অরিন্দমের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগেনি। ঘটনাটি স্মরণ করে তিনি বলেন, “এখনো ঘটনাটি মনে পড়লে আমার গায়ে কাটা দেয়!” তাঁর বিশ্বাস, বাবা ক্ষ্যাপার চরিত্রের সঙ্গে যে আধ্যাত্মিক যোগ তৈরি হয়েছিল, সেই শক্তিই তাঁকে রক্ষা করে।

দুর্ঘটনার ঠিক আগে আরেকটি ঘটনা তাঁর জীবনে বড় ধাক্কা আনে। বেলুড় মঠ–এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মহারাজ আপত্তি তোলেন শ্রীরামকৃষ্ণ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় নিয়ে। প্রযোজকদের জানানো হয়, চরিত্রটি সঠিকভাবে ফুটে উঠছে না—অরিন্দমকে বাদ দিতে হবে। প্রায় ২৫০ এপিসোডের পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, এমনকি দূরদর্শন থেকেও তিনি সাময়িকভাবে ব্যান হন। দর্শকদের প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। কঠিন সময়ে সহকর্মীদের সহায়তায় তিনি আবার কাজের জগতে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুনঃ “দু’টি বাইকে করে এসে হু’মকি…আমাকে নিলে শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হবে” বি’স্ফো’রক অভিযোগ চন্দন সেনের! একাই ভাবে কি কোণঠাসা হচ্ছে অনির্বাণও? রাজনীতির চা’পে স্তব্ধ শিল্পীস্বর, এর মাশুল ভবিষ্যতে দেবে গোটা বাংলা থিয়েটার ও সিনেমা! কী জানালেন অভিনেতা?

অরিন্দম গাঙ্গুলীর কথায়, এসব অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পীজীবনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। ‘হংসরাজ’-এর ৫০ বছর পরেও নতুন প্রজন্ম তাঁকে মনে রাখে—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আধ্যাত্মিক অনুভূতি, দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিক রক্ষা এবং জীবনের উত্থান-পতন—সব মিলিয়ে তাঁর যাত্রা কেবল একজন অভিনেতার গল্প নয়, বরং এক বিশ্বাসের কাহিনি।

You cannot copy content of this page