বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় এমন কিছু চরিত্র থাকে, যাদের নামের থেকেও চরিত্রটাই বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে। সেই তালিকায় নিঃসন্দেহে থাকবেন অহনা দত্ত। অনেকেই তাঁকে আসল নামের চেয়ে ‘মিশকা’ বলেই বেশি চেনেন। দর্শকের কাছে তাঁর পরিচিতির শুরু হয় অনুরাগের ছোঁয়া ধারাবাহিকের হাত ধরেই। পর্দার সেই তুখোড় উপস্থিতি আজও ভুলতে পারেননি অনুরাগীরা।
তবে ক্যামেরার সামনে যেমন তিনি পরিচিত মুখ, ক্যামেরার বাইরের জীবনটাও এখন বেশ বদলে গেছে। বিয়ের পর সংসার, তারপর কন্যাসন্তানের আগমন—জীবনের অগ্রাধিকার যেন নতুন করে সাজিয়েছেন অভিনেত্রী। মেয়েকে ঘিরেই এখন তাঁর দিনের বড় একটা সময় কেটে যায়। তবুও, কাজের জগৎ থেকে নিজেকে পুরো সরিয়ে রাখেননি তিনি—এমন ইঙ্গিতই মিলল সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে।
সেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিক মনোভাবাপন্ন? উত্তরে অহনা জানান, তিনি ভাগ্যের চেয়ে ‘কর্ম’-এ বেশি বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “আজ তুমি যদি কারও খাবার কেড়ে নাও, কাল তোমারটাও কেউ কেড়ে নেবে।” উদাহরণ টেনে তিনি বোঝান, মানুষের কাজই শেষ পর্যন্ত তার জীবনে ফিরে আসে। এই সহজ ব্যাখ্যাতেই ফুটে ওঠে তাঁর জীবনের দর্শন—কোনও বড় বড় তত্ত্ব নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি বিশ্বাস।
এরপরই আসে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বিয়ের পর, মা হওয়ার পর কি তাঁর স্বপ্ন বদলে গেছে? এখানেই অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, মা হওয়া মানেই স্বপ্নের ইতি নয়। এখনও তিনি বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করেন। বিশেষ করে মুম্বইয়ে গিয়ে কাজ করার স্বপ্ন তাঁর আজও অটুট। নিজের কেরিয়ারকে তিনি নতুন করে গড়ে তুলতে চান, সুযোগ এলে পিছিয়ে থাকার প্রশ্নই নেই।
আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পাঁচালী, তারপরেই বঙ্গবিভূষণ! গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগতেই গায়িকাকে ঘিরে ট্রো’লের ঝড়! শাসকদলে যোগের জল্পনা, আজ কালীঘাটে গিয়ে কি সেই সম্ভাবনাকেই ধোঁয়া দিলেন ইমন চক্রবর্তী?
এমনকি বিদেশ থেকেও যদি প্রস্তাব আসে? এই প্রশ্নে অহনার উত্তর আরও দৃঢ়। তিনি জানান, দুবাই থেকেও যদি কাজের অফার আসে, তবে তিনি অবশ্যই যাবেন—প্রয়োজনে মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই। কীভাবে সব সামলাবেন, তা তখন ভেবে নেবেন। অর্থাৎ সংসার ও স্বপ্ন—দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোতেই চান পর্দার ‘মিশকা’। মা হওয়ার পরেও যে স্বপ্ন থেমে থাকে না, অহনা দত্তর কথাতেই মিলল তার স্পষ্ট প্রমাণ।






