টলিপাড়ার অভিনেতা ‘জিতু কমল’কে (Jeetu Kamal) অনেকেই শুধু তাঁর অভিনয়ের জন্য চেনেন না, বরং তাঁর ভাবনার ধরনটাও আলাদা করে নজর কেড়ে নেয়। সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এমন কিছু কথা বলেন, যা অনেকের ভাবনাকেও নাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। কোনও বড় ঘটনা নয়, বরং রাস্তায় দেখা এক সাধারণ দৃশ্য থেকেই তাঁর মনে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, আর সেই অনুভূতিটাই তিনি নিজের ভাষায় তুলে ধরেছেন।
ঘটনাটা ঘটেছে শুটিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে। রাস্তার ধারে একটি নামী সাবানের বিজ্ঞাপনের পোস্টার তাঁর চোখে পড়ে। সেখানে একজন মহিলার ছবি ছিল, হাতে পণ্যের ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। কিন্তু পোস্টারটির অবস্থা দেখে থমকে যেতে হয় অভিনেতাকে! কেউ একজন বা একাধিক মানুষ সেই ছবির ওপর নানান রকম আঁকিবুঁকি কেটেছে, কোথাও পানের পিক ছিটিয়ে দিয়েছে, এমনকি পোস্টারের কিছু অংশ ছিঁড়েও ফেলা হয়েছে।
বিশেষ করে মহিলার শরীরের অংশগুলোকে লক্ষ্য করেই যেন এই বিকৃত আচরণ করা হয়েছে, যা দেখে তাঁর অস্বস্তি হওয়াই স্বাভাবিক। এই দৃশ্য দেখে জিতুর মনে যে প্রশ্নটা জেগেছে, সেটাই তিনি স্পষ্টভাবে লিখে ফেলেছেন। তাঁর মতে, এমন আচরণ নিছক দুষ্টুমি নয়। বরং এর মধ্যে এমন এক মানসিকতার ইঙ্গিত থাকে, যা পরে বাস্তব জীবনে আরও বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে। যে মানুষ একটি পোস্টারে থাকা মহিলার প্রতিও সম্মান দেখাতে পারে না, তার ভিতরে নারীর প্রতি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করতেই পারে।
‘ভবিষ্যতের ধ*র্ষক’, এমনটাই ইঙ্গিত করেছেন তিনি। নিজের লেখায় তিনি আরও বলেন, অনেক সময় সমাজে কিছু মানুষ থাকে যারা শান্ত, ভদ্র বা প্রতিবাদহীন মানুষদেরই সহজ লক্ষ্য মনে করে। শিশু হোক বা নারী, যারা লজ্জা বা ভয়ে অনেক সময় মুখ খুলতে পারে না, তাদের দুর্বলতাকেই এই মানসিকতার মানুষরা সুযোগ হিসেবে দেখে। তাঁর মতে, এই ধরনের বিকৃত মনোভাব শুধু বাস্তব মানুষের প্রতি নয়, কখনও কখনও এমন পোস্টার বা ছবির ওপরেও প্রকাশ পায়।
আরও পড়ুনঃ “একা থাকা আমার স্বভাবের সঙ্গে যায় না…” ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার সংসারে ভাঙনের পরও, মানুষ আর সম্পর্কই বড় বললেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়! মন খারাপ হলে, কীভাবে সুখ খোঁজেন অভিনেত্রী?
কারণ, সেগুলো তো প্রতিবাদ করতে পারে না। তাই এই প্রসঙ্গেই তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের আচরণকে ছোটখাটো বিষয় ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। আশপাশে কেউ যদি এমন কাজ করতে দেখা যায়, তাহলে চুপ করে না থেকে তার বিরোধিতা করা দরকার। সমাজে সম্মান আর সচেতনতার পরিবেশ তৈরি করতে হলে সাধারণ মানুষকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে, এই বার্তাটাই তিনি নিজের লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।






