আগামীকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস (International Women’s Day)। যদিও নারীদের সম্মান আর স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আলাদা কোনও দিনের প্রয়োজন হয় না, সারা বছরই তাঁদের অবদান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের দায়িত্ব সামলানো থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, সমাজ কিংবা মহাকাশ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীরা নিজেদের দক্ষতা এবং সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন। নেত্রী, বিজ্ঞানী, অভিনেত্রীর মতো ভূমিকায় তাঁরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে কোনও লক্ষ্যই অধরা থাকে না। তবু নিরাপত্তা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন উঠলেই বাস্তব চিত্রটা যেন অনেকটাই আলাদা!
নারী দিবসকে ঘিরে প্রতি বছরই অনেক আলোচনা হয়। নারীর অধিকার, সম্মান আর সমতার প্রসঙ্গ উঠে আসে বারবার। কিন্তু, নারীদের সংগ্রাম কেবল একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবুও একটা দিনই অনেকের কাছে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এবং নতুন করে ভাবার একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ ‘সুস্মিতা দে’ও (Susmita Dey) নারী দিবসকে তেমনই একটি অনুপ্রেরণার মুহূর্ত হিসেবে দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেও ‘কথা’ ধারাবাহিকের পর তাঁর পরিচিতি আরও বেড়েছে।
তাঁর বিশ্বাস, প্রতিটি নারীর মধ্যেই এক ধরনের অন্তর্নিহিত শক্তি থাকে, যা তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। তাই তিনি মনে করেন, নিজের লক্ষ্যের উপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে পথ যতই কঠিন হোক, এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এদিন অভিনেত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন, কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব! প্রতিযোগিতামূলক কাজের পরিবেশে অনেক সময় বিশ্রাম বা নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়ে যায়।
তাঁর মতে, কাজের চাপের পাশাপাশি নিজের সুস্থতা এবং মানসিক ভারসাম্যের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। কারণ সুস্থ মন আর শরীর থাকলেই মানুষ নিজের কাজের প্রতি সঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত (Swastika Dutta) বর্তমান সময়ে নারী-পুরুষ সমতার বিষয়টি কিছুটা আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, দুই জায়গাতেই কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর মনে হয়েছে যে অন্তত তাঁদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ বেশ সুরক্ষিত আর সহযোগিতাপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ “এখানেও মহিলার শ’রীর রেহাই পায় না…এই মানসিকতাই পরে রে*পিস্ট তৈরি করে!” এই ধরনের কাজ মজা নয়, বিপজ্জনক ইঙ্গিত! শুটিং সেরে ফেরার পথে দেখা দৃশ্য নিয়ে, সমাজ মাধ্যমে বি’স্ফোরক জিতু কমল!
সেখানে আলাদা করে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়নি বলেই তাঁর মনে হয়েছে। তবে স্বস্তিকারও মত, সমাজের সামগ্রিক পরিসরে সমতার ধারণা আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি। এমন একটি পরিবেশ দরকার যেখানে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ খুঁজে পাবে। নারী দিবস তাই শুধু উদযাপনের দিন নয়, বরং সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখানোরও একটি উপলক্ষ।






