বিনোদন জগতে আলো, ক্যামেরা আর জনপ্রিয়তার আড়ালে অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে নানা মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব। বড় বড় শিল্পী সংগঠন হোক বা কাজের পরিবেশ—কখনও আর্থিক সিদ্ধান্ত, কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়ই। বিশেষ করে কঠিন সময়ে সেই টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিল্পীদের কল্যাণের জন্য নেওয়া উদ্যোগও মতবিরোধের কারণে আটকে যায়, যার প্রভাব পড়ে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাস্থ্যের উপরেও।
এই বাস্তবতার মধ্যেই দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে কাজ করে চলেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা অরিন্দম গাঙ্গুলী। খুব ছোটবেলায় চাইল্ড আর্টিস্ট হিসেবে ‘প্রস্ত সাক্ষর’, ‘কখনো মেঘ’ এবং ‘স্ত্রী’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেই তাঁর যাত্রা শুরু। পরে ‘হংসরাজ’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। সেই ছবির ৫০ বছরও পূর্ণ হচ্ছে ২০২৬ সালে, যা তাঁর দীর্ঘ শিল্পজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন।
শুধু সিনেমা নয়, টেলিভিশন এবং মঞ্চেও তাঁর অবদান কম নয়। টিভিতে ‘শ্রীরামকৃষ্ণ’ কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। পেশাদারী মঞ্চেও তিনি সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে ‘অ্যান্টনি কোবিয়ালে’ নাটকে ১৬টি গান গাওয়ার রেকর্ড তাঁর অভিনয়জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি গায়ক হিসেবেও তিনি নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, কোভিড লকডাউনের সময় যখন শুটিং বন্ধ হয়ে যায়, তখন বহু শিল্পী আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই সময় তিনি উদ্যোগ নিয়ে আটজন প্রবীণ শিল্পীকে মাসিক ২০০০ টাকা করে পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি ডায়াগনোস্টিক সুবিধা এবং শিল্পীদের জন্য একটি ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালুর প্রস্তাবও দেন। প্রযোজকদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক হয়েছিল যে প্রিমিয়ামের ৯০ শতাংশ দেবেন প্রযোজকরা এবং বাকি ১০ শতাংশ দেবেন শিল্পীরা। যদি কোভিডের সময় কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সেই শিল্পীকে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ সায়ক আর দেবলীনার সম্পর্ক শুধুই বন্ধুত্বের থেকে বেশি কিছু? প্রেমিক-প্রেমিকা নাকি কি খুব তাড়াতাড়ি বসছে বিয়ের পিঁড়িতে? জল্পনার মাঝে মুখ খুললেন দেবলীনা নন্দী, জানালেন সম্পর্কের সত্যতা!
তবে অভিনেতার কথায়, এখানেই শুরু হয় জটিলতা। সবাই মূল পরিকল্পনায় রাজি থাকলেও একটি গোষ্ঠী দাবি তোলে—যে সময়ে এই ইন্স্যুরেন্স পরিকল্পনা কার্যকর করতে ১০-১৫ দিন লাগবে, সেই সময়ের মধ্যেই যদি কারও কোনও অঘটন ঘটে তাহলে তখনই তাকে ২৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এই শর্ত তিনি বাস্তবসম্মত মনে করেননি। তার উপর শিল্পী সংগঠনের ভেতরের চাপ ও মতবিরোধ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে শারীরিক সমস্যাও বাড়ছিল, বিশেষ করে শিরদাঁড়ার অসুখের জন্য অপারেশন করতে হয়। সব মিলিয়ে সেই চাপ আর নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি আর্টিস্ট ফোরামের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।






