বাংলায় একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের অপমানিত হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। কখনও সময়সীমা নিয়ে বিতর্ক, কখনও আয়োজক বা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধ—স্টেজ শো ঘিরে এমন ঘটনার খবর মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। শিল্পীরা বারবারই অভিযোগ তুলেছেন, দর্শকের ভালোবাসা পেলেও অনেক সময় অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের সম্মান রক্ষা করা হয় না। ঠিক তেমনই এক নতুন বিতর্ক ঘিরে এবার আলোচনায় উঠে এলেন জনপ্রিয় গায়ক শিলাজিৎ মজুমদার (Silajit Majumder)।
ঘটনাটি ঘটেছে সল্টলেকের করুণাময়ী সেন্ট্রাল পার্ক বইমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত চারদিনের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব পয়লা পার্বণ-এ। ১২ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলা এই উৎসবে বাঙালির সংস্কৃতি, খাবার, হস্তশিল্পের পাশাপাশি ছিল একাধিক লাইভ মিউজিক কনসার্ট। ফসিলস, লক্ষ্মীছাড়া, ক্যাকটাস, শিলাজিৎ, ফকিরা সহ একাধিক জনপ্রিয় ব্যান্ড ও শিল্পীর পারফরম্যান্সের ঘোষণা ছিল, যার জন্য আগ্রহ ছিল দর্শকদের মধ্যেও।
তবে ১২ মার্চ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। ফলে কয়েকটি নির্ধারিত পারফরম্যান্স পিছিয়ে যায় এবং ১৩ মার্চ রাতে নতুন করে মঞ্চে ওঠার কথা হয় শিলাজিৎ ও ব্যান্ড ক্যাকটাসের। সেই অনুযায়ী ১৩ মার্চ রাতে গায়ক মঞ্চে ওঠেন এবং গান শুরু করেন। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
অভিযোগ, রাত ১১টার সময়সীমা ঘিরে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আয়োজকদের তরফে নাকি রাত ১১টা পর্যন্ত সময় চাওয়া হলেও, গায়কের দাবি—তার আগেই তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়। এমনকি বিধাননগর পুলিশের একাংশ হাতের ইশারায় তাঁকে স্টেজ ছাড়ার নির্দেশ দেন। সেই আচরণেই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন শিলাজিৎ। দর্শকদের সামনে দাঁড়িয়েই তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “৩২ বছর ধরে বাংলার মানুষ আমাকে দেখছেন, ভালোবাসছেন। একজন শিল্পীকে এভাবে অপমান করে নামিয়ে দেওয়া যায় না।” এছাড়াও তিনি বলেছেন, “ইলেকশনের রাজনৈতিক দলের বোমাগুলো কেমন ভাবে সামলান দেখব?”
আরও পড়ুনঃ তীব্র গ্যাস সংকটে কনীনিকা ব্যানার্জি! ‘আমরা অনেকক্ষণ না খেয়ে ছিলাম’, কেমন পরিস্থিতিতে রয়েছেন অভিনেত্রী?
এরপরই আবেগঘন সুরে দর্শকদের উদ্দেশে তিনি জানান, বাকি গান অন্য কোনও জায়গায় শোনাবেন। এই মন্তব্যের পরই তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও বিস্ময় ছড়ায় এবং দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—বাংলাতেই কেন বারবার বাংলার শিল্পীদের এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়? আর সেই প্রশ্ন থেকেই নতুন করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে পয়লা পার্বণ উৎসবের এই ঘটনা।






