“একজন প্রকৃত আর্টিস্টের জন্মদিন হচ্ছে, তাঁর মৃ’ত্যুর পর দিন থেকে”, “আমি জীবনভর জ্বলে পুড়ে, প্রতিটি ফোসকার যন্ত্র’ণা অনুভব করতে চাই!” মন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর নিজেকে কোথায় দেখবেন? রাজনীতির বাইরে শিল্পীসত্ত্বা নিয়ে অকপট অভিনেতা ব্রাত্য বসু!

একাধিক পরিচয়ে সমান স্বচ্ছন্দ ‘ব্রাত্য বসু’ (Bratya Basu)। একদিকে রাজনীতির দায়িত্ব, অন্যদিকে থিয়েটার, সিনেমা, সাহিত্য সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে আলাদা করে চেনায়। সম্প্রতি তাঁর নতুন ছবি ‘কর্পূর’ মুক্তি পেয়েছে, যেখানে অভিনয়ের দিক থেকেও তাঁকে এক ভিন্নভাবে দেখেছেন দর্শক। সেই সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততাও তুঙ্গে, ফলে সময়ের চাপও কম নয়। এই ব্যস্ততার মাঝেই এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা।

প্রশ্ন ছিল, কোনও এক সময় যদি তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকেন, তখন নিজেকে কীভাবে দেখতে চান? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিজের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তাঁর কথায়, “এই প্রশ্নটা নিজেকেও করেছিলাম, উত্তরে পেলাম যে আমি যেটা করতে চাই, সেটার পেছনে কোনদিনও দৌড়াই না। জন্য যেটা করতে চাই বা হতে চাই, এখনও পেরে উঠিনি। এছাড়া আমার জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই, মন্ত্রী ছাড়া অবস্থায় থেকেছি।

আর একসময় সত্যিই আমি মন্ত্রী থাকবও না। হয়তো নিজেকে আর্টিস্ট হিসেবেই দেখতে চাই। তবে, আমি এটাও জানি যে আমাদের মতো সমাজে একজন আর্টিস্টের সঠিক অর্থে কোনো মূল্যায়ন হয় না। একজন প্রকৃত আর্টিস্টের জন্মদিন হচ্ছে, তাঁর মৃ’ত্যুর পর দিন থেকে। তারপর মূল্যায়ন হয় আমাদের সমাজে। সারা জীবন তাঁকে পুড়তে হয়, জ্বলতে হয়। আমি এইটুকু কামনা করব, ওই পোড়া আর জ্বলাটা আমি যেন সারা জীবন ধরে নিতে পারি এবং প্রতিটি ফোসকা আমি যেন অনুভব করতে পারি।

যাতে আমি পরের দিন আবার নিজেকে একটা প্রশ্ন করতে পারি!” তাঁর এই বক্তব্যে একধরনের বাস্তবতা যেমন ধরা পড়েছে, তেমনই রয়েছে শিল্পীর জীবন নিয়ে গভীর উপলব্ধিও। নিজের কাজকে কখনও নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখতে চান না তিনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভেতরের শিল্পীসত্ত্বাকেই আরও খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন। এই ভাবনাই তাঁকে আলাদা করে পরিচিতি দিয়েছে অন্য অনেকের থেকে। তাই রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় থাকলেও, ব্রাত্য বসুর কথায় বারবার ফিরে এসেছে শিল্পের প্রসঙ্গ।

আরও পড়ুনঃ ব্র্যান্ড ‘সভেরা’র জন্য অভিনয় ছাড়ছেন প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য? টলিউডের আলোছায়া থেকে দূরে, নতুন করে জীবন শুরু অভিনেত্রীর? কাজের অভাব না ব্যক্তিগত কারণ, হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত তাঁর?

তাঁর মতে, একজন শিল্পীর জীবন সহজ নয়। স্বীকৃতি পেতে অনেকটা সময় লাগে, অনেক সময় সেই স্বীকৃতি জীবদ্দশাতেও আসে না! তবুও সেই পথেই হেঁটে চলাই যেন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই কথা বলতেই হয়ে যে তাঁর কথায় একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা, তেমনই আছে নিজের পরিচয় নিয়ে নিরন্তর অনুসন্ধান। মন্ত্রী, অভিনেতা বা পরিচালক, সবকিছুর মাঝেও তিনি যেন শেষ পর্যন্ত নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবেই দেখতে চান, যে প্রশ্ন করে, খোঁজে এবং নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করেও এগিয়ে যেতে চায়।

You cannot copy content of this page