বিনোদন জগত মানেই রঙিন আলো, গ্ল্যামার আর সাফল্যের গল্প এটাই আমরা দেখি। কিন্তু এই উজ্জ্বলতার আড়ালে যে কত না বলা কষ্ট, সংগ্রাম আর একাকীত্ব লুকিয়ে থাকে, তা অনেক সময়ই আমাদের অজানা থেকে যায়। যারা প্রতিদিন আমাদের হাসায়, কাঁদায়, মনোরঞ্জন করে তাঁদের জীবনের বাস্তবতা অনেক সময়ই ভীষণ কঠিন। ক্যামেরার সামনে হাসি থাকলেও, ক্যামেরার বাইরে লড়াইটা হয় একেবারে একার।
বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ পল্লবী শর্মা, যাকে দর্শক আজও ‘জবা’ নামেই চেনেন। ‘কে আপন কে পর’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। ‘নিম ফুলের মধু’ শেষ করার পর বর্তমানে তিনি জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে কাজ করছেন। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক গভীর, বেদনাময় গল্প, যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
পল্লবীর জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে খুব ছোট বয়সেই। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় কঠিন অসুখে মাকে হারান তিনি। মা ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ। মাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারতেন না। চিকিৎসার জন্য চেন্নাই, মুম্বই, দিল্লি অনেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁর মাকে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ফিরে আসেননি। সেই সময় পল্লবীকে রেখে দেওয়া হয় পাশের বাড়ির এক মহিলার কাছে শুরু হয় একা থাকার অভ্যাস।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত আসে দশম শ্রেণির আইসিএসসি পরীক্ষার সময়। পরীক্ষার আগের দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা, আর পরীক্ষার দিন সকালে আসে মৃত্যুসংবাদ। স্বাভাবিকভাবেই সবাই তাঁকে পরীক্ষা দিতে যেতে মানা করেন। কিন্তু ভেঙে পড়েননি পল্লবী। বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই তিনি পরীক্ষার হলে যান। অন্যদের মতো পাশে কেউ ছিল না টিফিনে ছিল হবিষ্যি। সেই কষ্টের মধ্যেও ভালো ফল করে পাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “আগের মতো নির্মল হাসি এখন নেই…প্রাপ্তিতেই তৃপ্তি খুঁজুন, আফসোস নয়!” জীবন দর্শন ব্যাখ্যা করলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়! বাংলা কমেডির সংকট, নতুন প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে হাসতে? কী বললেন অভিনেতা?
বাবা-মা হারানোর পর আত্মীয়স্বজন কেউই তাঁকে নিজের কাছে রাখতে চাননি। বরং ছোটবেলাতেই বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু পল্লবী নিজের পড়াশোনা আর স্বপ্ন ছাড়েননি। আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন, ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। আজ তিনি নিজের বাড়ি কিনেছেন, একাই থাকেন এবং নিজের শর্তে জীবন কাটান। তবে তাঁর একটাই অনুরোধ এই গল্প শুনে কেউ যেন তাঁকে করুণা না করেন। কারণ তিনি করুণা নয়, নিজের শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ হতে চান।






