ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy)। খুব অল্প বয়সেই হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানে হাতেখড়ি, আর গানেই ডুবে থাকার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয় অন্য এক জগতে, ‘সমাজ মাধ্যমে’। ভ্লগিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি, আর সেই পথ ধরেই নিজেকে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেন। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তিনি ফিরছেন নিজের প্রথম ভালোবাসা গানের জগতে, সঙ্গে বড়পর্দায় অভিনয়েও করতে দেখা যাবে তাঁকে!
এই মুহূর্তে দেবলীনার জীবনে যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ছবিতে প্লেব্যাকের পাশাপাশি অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। প্রয়াত অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনছবিতে, অভিনেত্রীর বোনের চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অসুস্থতা এবং ব্যক্তিগত ঝড় কাটিয়ে ফের শুটিং ফ্লোরে ফেরার এই পরিবর্তনটা তাঁর জীবনের বড় মোড় বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে, এই জায়গায় পৌঁছনোর পথটা একেবারেই সহজ ছিল না। চলতি বছরের শুরুতেই হঠাৎ এক লাইভ ভিডিওতে নিজের মানসিক ও শারীরিক অস্থিরতার কথা জানান তিনি।
পারিবারিক চাপ, বিশেষ করে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির তরফে নিজের মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রসঙ্গ তাঁকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর হঠাৎ করে তাঁর আ’ত্মহানির চেষ্টার খবর সামনে আসতেই ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। সেই সময় তাঁকে ঘিরে নানান ধরনের আলোচনা, সমালোচনা সবকিছুই চলেছে একসঙ্গে। এই পুরো ঘটনার পর থেকেই তাঁর ভ্লগিং নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকেই। অনেকের মত ছিল, ব্যক্তিগত জীবনের এতখানি অংশ সমাজ মাধ্যমে তুলে ধরা থেকেই নাকি সমস্যার সূত্রপাত!
কেউ কেউ আবার পুরনো ভিডিও টেনে এনে তাঁর দাম্পত্য জীবনের নানান দিক বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন। ফলে, ব্যক্তিগত সংকটের সঙ্গে সঙ্গে জনসমক্ষে তৈরি হওয়া এই চাপও তাঁর জন্য কম চ্যালেঞ্জের ছিল না। এই প্রেক্ষিতেই একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় ভ্লগিংয়ের ভূমিকা নিয়ে। শান্তভাবেই দেবলীনা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “ভ্লগিং তো আর পাপ নয়! অনেকেই ভ্লগিংয়ে নামে কী কী করে, আর আমি তাদের কন্টেন্ট দেখেছি তাই জানি যে তারা সবটা শেয়ার করে।
ঘুম থেকে ওঠার থেকে আবার ঘুম পর্যন্ত, কিন্তু আমি তেমন কিছুই করি না। আমি আজ পর্যন্ত শুধুমাত্র জীবনের ভালো মুহূর্ত ভাগ করেছি ভ্লগিংয়ের মাধ্যমে। কোথাও অনুষ্ঠান করতে গেলাম, বিশেষ কোনও উপহার পেলাম বা মাকে কিছু একটা কিনে দিচ্ছি এগুলোই ভাগ করি। অনেক আর্টিস্টদের দেখেছি, নিজেদের স্কিন-কেয়ার রুটিন ভাগ করে, আমিও এগুলোই করি আর টুকটাক এগুলোই করব। এর মধ্যে তো আমি কিছু পাপ বলে দেখিনি। যারা আমায় এমন কমেন্ট করে, ‘তুমি তো সিঙ্গার ছিল, ভ্লগ কেন করতে হচ্ছে?’
আরও পড়ুনঃ “কৌশল অবলম্বন করে ওগুলো করা উচিত হয়নি”, “আমি কিছুই করি না, ঈশ্বরই সব করান, আমি শুধু মাধ্যম” জীবন নিয়ে বড় মন্তব্য মমতা শঙ্করের! বাবা-মায়ের কোন কথা না শোনার আক্ষেপ আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে? কোন ভুলের কথা প্রকাশ্যে আনলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী?
গায়িকা বলেই যে আমি আমার জীবনযাপন ও ভালো মুহূর্ত ভাগ করতে পারবো না, এটা কোনও কথা নয়!” তবে, এই মন্তব্য সামনে আসার পর আবারও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। একাংশের দাবি, তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনেকটাই প্রকাশ্যে এনেছেন আগেও, তাই এই বক্তব্যে বিরোধাভাস রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকেরা বলছেন যে একজন শিল্পীর নিজের মতো করে জীবন ভাগ করে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকতেই পারে। ব্যক্তিগত জীবন, পেশা আর সমাজ মাধ্যমের টানাপোড়েনেই এখন আবার আলোচনার কেন্দ্রে দেবলীনা।






