“আমার কাছে জন্মগ্রহণ করেছে মানেই, পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত আমার সম্পত্তি না!” “বর্তমানে সন্তানদের ওপর অভিভাবকরা সম্পূর্ণ অধিকার দাবি করতে পারে না” স্পষ্ট বার্তা বিশ্বনাথ বসুর! অতীতের অভাব-সংকট বনাম আজকের প্রাচুর্য, তুলনা টেনে কী বললেন অভিনেতা? সত্যিই কি বদলাচ্ছে এই যুগে বাবা-মায়ের ভূমিকা?

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ বিশ্বনাথ বসু। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। মূলত কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও, বিভিন্ন সিরিয়াস ও ভিন্নধর্মী চরিত্রেও তাঁর অভিনয় সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দা সব জায়গাতেই তিনি নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে গিয়েছেন। শুধু অভিনয় নয়, সমাজের নানা বিষয় নিয়েও তিনি সময় সময় নিজের মতামত প্রকাশ করেন।

জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া উপলব্ধি তিনি ভাগ করে নেন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সময়ের পরিবর্তন, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং প্রজন্মের পার্থক্য নিয়ে বাস্তব চিন্তাভাবনা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বনাথ বসু বর্তমান প্রজন্ম এবং তাঁদের সময়ের পার্থক্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এখনকার বাচ্চারা অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়, যা তাঁদের সময়ে ছিল না।

শুধু তাই নয়, তাঁর আগের প্রজন্মের অবস্থাও আরও কঠিন ছিল বলে তিনি জানান। তিনি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ছোট দাদু যখন প্রথমবার বাড়িতে বসে টেলিভিশনে ওয়ার্ল্ড কাপ দেখেছিলেন, সেই আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন। এই ঘটনাই বোঝায়, সেই সময় প্রযুক্তি এবং বিনোদনের সুযোগ কতটা সীমিত ছিল। বিশ্বনাথ বসু বলেন, তাঁদের ছোটবেলায় সন্ধ্যা সাতটার পর আর বিশেষ কিছু করার সুযোগ থাকত না।

তাই বাধ্য হয়েই ঘুমাতে যেতে হতো। বর্তমান সময়ে সন্তান লালনপালন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এখনকার দিনে সন্তানদের ওপর অভিভাবকদের সম্পূর্ণ অধিকার থাকে না। বরং তাঁদের গাইড করা উচিত, কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল তা বোঝানোই আসল দায়িত্ব। তিনি বলেন, “সে আমার কাছে জন্ম গ্রহণ করেছে বলেই, পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত আমার সম্পত্তি নয়!”

আরও পড়ুনঃ “ভিখারি রাজ্য তৈরি করেছে এই ‘গ্যাং’, বেকারত্ব বাড়াচ্ছে যাতে মদ ও ভাতা তুলে দেওয়া যায় হাতে” বাংলায় প্রলোভনের রাজনীতি নিয়ে বি’স্ফোরক চন্দন সেনে! ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে যুবসমাজকে? কী বললেন অভিনেতা?

সন্তানদের নিজস্ব চিন্তা ও স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলেও তিনি মনে করেন। সব মিলিয়ে, বিশ্বনাথ বসুর কথায় স্পষ্ট সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রা, সুযোগ-সুবিধা এবং মানসিকতা সবকিছুই বদলেছে। অতীতের অভাব আর বর্তমানের প্রাচুর্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, মানবিক মূল্যবোধ ও সঠিক দিশা দেখানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তাই যেন তুলে ধরলেন অভিনেতা। আপনারাও কি অভিনেতার সঙ্গে সহমত? জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!

You cannot copy content of this page