টলিউডের পর্দায় রেশমি ভট্টাচার্যকে দেখলে অনেকেরই মনে হয়, জীবনটা বোধহয় খুব সহজ। ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী হাসি, পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতি সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ সাফল্যের ছবি। কিন্তু সেই আলো ঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কতটা অন্ধকার, কতটা না বলা যন্ত্রণা তা খুব কম মানুষই জানেন। অভিনেত্রীর জীবনও তার ব্যতিক্রম নয়। নিজের মতো করে বাঁচার জেদ, আর জীবনের কঠিনতম মুহূর্তগুলোর সঙ্গে লড়াই এই দুইয়ের মধ্যেই তৈরি হয়েছে তাঁর আজকের অবস্থান।
খুব অল্প বয়সেই তাঁর যাত্রা শুরু। কলকাতার বিউটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর থেকেই নজরে আসেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু মডেলিং, তারপর ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপন, সিনেমা এবং টেলিভিশনের জগতে প্রবেশ। বড় বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ, জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার, সবই এসেছে খুব তাড়াতাড়ি। তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম আর শৃঙ্খলা। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, কোনওদিন সময়ের মূল্য কম দেননি, কাজের ক্ষেত্রে আপস করেননি। কিন্তু এই ‘না’ বলার সাহসই একসময় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ডেকে আনে।
একসময় যখন অভিনেত্রী সাফল্যের শিখরে, তখনই আসে কঠিন মোড়। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু ‘কম্প্রোমাইজ’-এর পথে হাঁটতে রাজি হননি তিনি। সেই সিদ্ধান্তের মূল্যও দিতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়ে নানা অভিযোগ, শুটিংয়ে দেরি করা, কাজের প্রতি উদাসীনতা,যেগুলো তিনি আজও অস্বীকার করেন। ধীরে ধীরে কাজের সংখ্যা কমে যায়। সেই সময় তিনি অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের চেষ্টা করেন, এমনকি ভোজপুরি ছবিতেও কাজ করেন। কিন্তু টলিউডে তাঁর উপস্থিতি তখন কিছুটা ফিকে হয়ে যায়।
পেশাগত টানাপোড়েনের মধ্যেই জীবনে নেমে আসে একের পর এক অন্ধকার। ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যু, তারপর ২০২৩-এ বাবাকে হারানোএই দুই শোক সামলাতেই যখন তিনি লড়াই করছেন, ঠিক তখনই ২০২৪ সালে আচমকাই চলে যান তাঁর স্বামী। স্বামীর হঠাৎ চলে যাওয়া তিনি কোনওভাবেই মানতে পারেননি। যে মানুষটার কাঁধে মাথা রেখে তিনি নিজের সব কষ্ট ভুলে থাকতেন, সেই মানুষটাই আর নেই এই বাস্তবটা তাঁকে ভিতর থেকে নিঃস্ব করে দেয়। এই ঘটনার পর শুধু মানসিক দিক থেকেই নয়, বাস্তব জীবনেও তাঁকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কাছের মানুষদের অনেকেই সেই সময়ে পাশে থাকেননি, যাঁদের উপর তিনি ভরসা করেছিলেন, তাঁদের থেকেও দূরত্ব তৈরি হয়। আত্মীয়-স্বজনের আচরণ তাঁকে আরও আঘাত দেয়।
View this post on Instagram
স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর ধীরে ধীরে নিজেকে আবার গুছিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস জীবনে যা ঘটে, তা কোনও না কোনও কারণে ঘটে। সেই বিশ্বাসই তাঁকে সামনে এগোতে সাহায্য করেছে। আজ তিনি একা থাকেন, কিন্তু সেই একাকীত্বকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন না। বরং নিজের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করেছেন। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো, নিজের কাজের প্রতি মন দেওয়া এইসবের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছেন শান্তি। তাঁর কথায়, “দুঃখ নিয়ে বাঁচা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, আমি খুশিতে বাঁচতে চাই” আর এই সহজ দর্শনই তাঁকে আবার নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।






