রবিবার দিঘার কাছে তালসারি সমুদ্রতটে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। শুটিং করতে গিয়ে হঠাৎই প্রাণ হারালেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র আধ ঘণ্টা আগেও তিনি সহঅভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রের সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। সমুদ্রের জলে নামার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর জলের নিচ থেকে তাঁকে তুলে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে দিঘার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো টলিপাড়ায়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রকে তখন সামলানোই যাচ্ছিল না। তিনি বারবার জানতে চাইছিলেন, “রাহুল দা কোথায়?” প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, শুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল ও শ্বেতা দুজনেই জলের দিকে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রাহুল। শ্বেতাই প্রথম বিষয়টি বুঝতে পেরে টেকনিশিয়ানদের ডাকেন। তিনি আরও বলেন, “আমি আর রাহুল দা আধ ঘণ্টা আগেও তো শুটিং করছিলাম। আমিও পড়ে গেলাম, আমি তো ঠিক আছি। রাহুল দা ঠিক আছে তো? আমি কথা বলব, আমাকে যেতে দিচ্ছে না!” হাসপাতালে বসে শ্বেতার কান্না আর উদ্বেগের দৃশ্য অনেককেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ছবির শুটিংয়ের জন্যই তাঁরা তালসারিতে গিয়েছিলেন। পুরো ইউনিট তখন শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিল। কাজ শেষ হওয়ার পরই ঘটে যায় এই বিপত্তি। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, তিনি বোট থেকে পড়ে যাননি। বরং জলের ধারে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত সাহায্যের চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই আকস্মিক ঘটনায় সহকর্মীরা হতবাক।
অভিনেতার মরদেহ প্রথমে দিঘা হাসপাতাল থেকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাতের মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ কলকাতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কলকাতার বিজয়গড়ে তাঁর বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন সহকর্মী ও পরিচিতজনেরা। পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন। এই ঘটনায় চারিদিকে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তাঁর সাফল্যের গল্প যেন অনুপ্রেরণা! বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যথা ভুলে ছেলের জন্য ফিরেছিলেন সংসারে, শেষ পর্যন্ত পিতৃহারা করে চলে গেলেন টলিউডের উজ্জ্বল নক্ষত্র রাহুল অরুণোদয়! জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে কী প্রতিক্রিয়া প্রিয়াঙ্কা সরকারের?
এদিকে, অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবার এখন অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তিনি সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন এই সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা হয়। পরিবারের একজন শিশু, মা এবং সকল প্রিয়জন এই ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদমাধ্যম ও সকলের কাছে তিনি সহানুভূতি ও সমর্থন চেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি অনুরোধ করেছেন, যেন কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করেন এবং শান্তিতে শোক পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।
View this post on Instagram






