একসময় জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন মানেই ছিল বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ, বন্ধুদের আড্ডা আর রাতভর উদযাপন। কেক কাটা থেকে শুরু করে শ্যাম্পেন খোলা, পরিবারের সবার একসঙ্গে সময় কাটানো, সব মিলিয়ে দিনটা ছিল বিশেষ। ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত স্ত্রী অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এইভাবেই কেটেছে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদের জন্মদিন। কিন্তু ২০২৬ সালে প্রথমবার জয় নেই। তাই এ বছরের জন্মদিনে বাড়ির পরিবেশ একেবারেই অন্যরকম। আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অঙ্কিতা বলেন, “এই প্রথম ওকে ছাড়া ওর জন্মদিন।” তাঁর গলাতেও ছিল স্পষ্ট আবেগ। তিনি জানান, জয়ের মা সকাল থেকেই ভেঙে পড়েছেন। অঙ্কিতার কথায়, “সন্তানের মৃত্যু কোন মা সহ্য করতে পারেন? সকাল থেকে কাঁদছেন অঝোরে।”
জয়ের স্মৃতিকে ঘিরেই এ বছরের জন্মদিন পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। অঙ্কিতা জানান, জীবিত অবস্থায় কারও কষ্টের কথা শুনলেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন জয়। তাই তাঁর জন্মদিনে দক্ষিণ কলকাতার একটি অনাথ আশ্রমে দেড়শো দুঃস্থ শিশুর জন্য বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। পোলাও, মাংস, মিষ্টি এবং পায়েস খাওয়ানো হবে শিশুদের। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হবে উপহারও। অঙ্কিতা বলেন, জয় নিজেও খেতে খুব ভালবাসতেন। তাই তাঁর পছন্দের নানা খাবারের কথা মনে পড়ছে আজও। পরিবারের সবাই মিলে ঘরোয়া পরিবেশে জন্মদিন কাটাতেই বেশি ভালবাসতেন অভিনেতা। সেই স্মৃতিই এখন ঘুরে ফিরে আসছে পরিবারের কাছে।
আট বছর আগের জন্মদিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অঙ্কিতা। তিনি জানান, “জন্মদিন মানেই ঘরোয়া খাবার। হয় মায়ের হাতে, নয় আমার হাতের রান্না। তার মধ্যে পায়েস চা-ই ওর।” সেই সঙ্গে মাছ-মাংসের বিশেষ আয়োজনও থাকত বাড়িতে। জয়ের পছন্দের খাবার নিয়ে বাড়িতে ছোটখাটো উৎসবের পরিবেশ তৈরি হত। অঙ্কিতার কথায়, জয় যেমন শৌখিন ছিলেন, তেমনই ছিলেন ভীষণ ছেলেমানুষি স্বভাবের। তিনি বলেন, “জয় একদিকে ভীষণ শৌখিন। আবার ছেলেমানুষ। দামি সুগন্ধি পেলেই শিশুর মতো খুশি হয়ে উঠত।” পরিবারের সদস্যরাও তাঁর পছন্দের কথা মাথায় রেখেই উপহার দিতেন প্রতি বছর।
জয়ের বোন প্রতি জন্মদিনে বিদেশ থেকে বিশেষ সুগন্ধি এনে দিতেন বলেও জানিয়েছেন অঙ্কিতা। তিনি বলেন, “আমার ননদ প্রতি বছর মনে করে ওর জন্য বিদেশ থেকে দামি সুগন্ধি নিয়ে আসত। আমরাও ওর পছন্দসই উপহার দিতাম।” এ বছর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় এসেছে। জয় বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিজেপির সমর্থক ছিলেন। তাই এই রাজনৈতিক পরিবর্তন তিনি দেখে যেতে পারলে আরও বেশি আনন্দ পেতেন বলেই মনে করছেন তাঁর স্ত্রী। অঙ্কিতার কথায়, “ভীষণ খুশি হত।” সেই অভাবটাই এ দিন আরও বেশি অনুভব করছেন পরিবারের সকলে।
আরও পড়ুনঃ “এমন মহিলাকে হাতকড়া পরানো উচিত…তুমি একজন জাতীয় অপরাধী” বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডলকে নিয়ে কাঞ্চনা মৈত্রর মন্তব্যে তুমুল শোরগোল! ঠিক কী ঘটেছে?
অঙ্কিতা আরও জানান, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁদের বাড়িতে ফোনের পর ফোন আসতে শুরু করে। তিনি বলেন, “৪ মে-র বিকেল থেকে আমাদের বাড়িতে ফোনের বন্যা। সবাই ফোন করে একটাই কথা বলেছেন, ‘দাদা নিশ্চয়ই উপরে গিয়ে কলকাঠি নেড়েছেন। তাই দল জিতেছে!’” তাঁর দাবি, বিজেপি সরকারও জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোলেনি। অঙ্কিতা জানান, জয় সবসময় চাইতেন বাংলাতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হোক। দলের প্রতি তাঁর ভালবাসা ছিল গভীর। সেই কারণেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফাউন্ডেশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করে গিয়েছেন তিনি। পরিবারের মতে, জয় আজ না থাকলেও তাঁর স্মৃতি এখনও একইভাবে জড়িয়ে রয়েছে সবার জীবনের সঙ্গে।






“এমন মহিলাকে হাতকড়া পরানো উচিত…তুমি একজন জাতীয় অপরাধী” বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডলকে নিয়ে কাঞ্চনা মৈত্রর মন্তব্যে তুমুল শোরগোল! ঠিক কী ঘটেছে?