“ওটার জন্য এখনও নিজেকে অপ’রাধী মনে হয়” পঞ্চমদার সেই শেষ প্রশ্নের জবাব আজও খুঁজে ফেরেন! আর ডি বর্মনের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে কী শুনতে হয়েছিল বীরেশ চট্টোপাধ্যায়কে? কী করতে না পারার আক্ষেপ আজও বয়ে বেড়ান পরিচালক, যে স্মৃতি তাঁকে রোজ কাঁ’দায়?

বিনোদন জগতের ঝলমলে সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক না-পাওয়ার গল্প, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আজীবন বয়ে বেড়ানো কিছু আক্ষেপ। কাজের ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা এবং সময়ের স্রোতে অনেক সময় কাছের মানুষদেরও দূরে সরে যেতে হয়। পরে সেই স্মৃতিগুলোই ফিরে আসে অপরাধবোধ হয়ে। সম্প্রতি প্রখ্যাত পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে উঠে এল এমনই এক আবেগঘন স্মৃতি, যার কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতীয় সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি আর ডি বর্মন, যাঁকে সবাই স্নেহ করে পঞ্চমদা বলে ডাকতেন।

বীরেশ চট্টোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা ছবির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন এবং বিনোদন জগতের বহু কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য পেয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর জীবনের এমন একটি ঘটনার কথা শোনান, যা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পঞ্চমদার শেষ জীবনের এক নিঃসঙ্গ অধ্যায়।

পরিচালক জানান, তখন আর ডি বর্মনের শারীরিক ও পেশাগত অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। অন্যদিকে তাঁর নিজের কাজের ব্যস্ততা এবং সাফল্য তুঙ্গে। সেই সময় একদিন মুম্বইয়ে গিয়ে হঠাৎ তাঁর মনে হয় পঞ্চমদার সঙ্গে দেখা করে আসবেন। তিনি পৌঁছে যান কিংবদন্তি সেই মিউজিক রুমে। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য তিনি দেখেছিলেন, তা আজও তাঁর মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে।

বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, বিকেলের অন্ধকার বারান্দায় পঞ্চমদা একা বসে ছিলেন। চারপাশে কেউ ছিল না। তাঁকে দেখে আর ডি বর্মন নাকি বলেছিলেন, “বীরু, আয়। একেবারে ভুলে গেলি আমাকে?” এই কথাটা শুনে পরিচালক ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন। তিনি পঞ্চমদাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে তিনি তাঁকে ভুলে যাননি। আর ডি বর্মন তখন আরও বলেন, “দেখ, স্বপন ভালো মিউজিক করে, কিন্তু আমিও তোকে অনেক দিয়েছি।” এই কথাগুলো আজও তাঁর কানে বাজে বলে জানান পরিচালক।

আরও পড়ুনঃ “আমি দে’হব্যবসা করেই কামিয়েছি!” বাথরুমের দেওয়ালের ভেতর লুকিয়ে রাখা থরে থরে বিপুল অঙ্কের টাকা, ধরা পড়তেই বি’স্ফোরক দাবি! ১২০টির বেশি ছবির নায়িকা, দুই দশকের রাজত্ব, তবুও এক বিত’র্কেই ধ্বং’স হয় স্বর্ণযুগের অভিনেত্রীর কেরিয়ার! জানেন কে তিনি?

সাক্ষাৎকারে বীরেশ চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করেন, ওই ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেকে বারবার দোষী মনে করেন। তাঁর আক্ষেপ, তিনি নাকি একটি ছবিতে অন্য সঙ্গীত পরিচালককে সরিয়ে পঞ্চমদাকে সুযোগ করে দিতে পারেননি। সেই না-পারা আজও তাঁকে কষ্ট দেয়। পরিচালক বলেন, তিনি কখনও ওই দিনের কথা ভুলতে পারেননি। সাফল্যের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তির নিঃসঙ্গতা এবং একজন পরিচালকের আজীবনের অপরাধবোধ এই স্মৃতিই যেন আবার মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্কের মূল্য অনেক সময় সাফল্যের থেকেও বড়।

You cannot copy content of this page