বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী ‘শ্রীলেখা মিত্র’ (Sreelekha Mitra)। রাজনীতি, সমাজ কিংবা টলিউডের অন্দরমহলের নানান বিষয় নিয়ে তিনি বরাবরই নিজের মত প্রকাশ করেছেন নির্দ্বিধায়। কাজ হারানোর আশঙ্কা থাকলেও কখনও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। দীর্ঘ সময় নিয়মিত কাজ না পেলেও ইন্ডাস্ট্রির নানান অসঙ্গতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর টলিউডের অন্দরে বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়ম নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সময়েই অজিতাভ বরাট পরিচালিত ‘ভূতে বিশ্বাস করেন?’ ছবির মাধ্যমে আবার বড় পর্দায় দেখা যাবে শ্রীলেখাকে। এরই মধ্যে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে সাম্প্রতিক বৈঠকের অভিজ্ঞতা নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, সরকার পরিবর্তনের এক মাসেরও বেশি সময় পর তিনি কি সত্যিই কোনও পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা কী? উত্তরে কিছুটা বিরক্তির সুরেই শ্রীলেখা বলেন, “এক মাসের মধ্যেই হকার উচ্ছেদ থেকে শুরু করে নিরীহ মানুষদের মাথার উপরে ছাদ কেড়ে নেওয়া এবং দেশ থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা নিন্দনীয়। অবশ্যই যদি জরুরী হয় তাহলে করতে হবে, তবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। কারণ যেসব মানুষদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হল, তারা না ভারতের না তাদের বাংলাদেশ নিতে চাইছে ফলে কাঁটাতারের সামনে তারা বসে রয়েছেন।
ক্ষমতায় যে দলই আসুক না কেন, গরীব মানুষের দুঃখ একমাত্র সিপিএম বোঝে। মার খেয়ে হলেও তারা প্রতিবাদ করতে জানে। তৃণমূলের মতো ভালো-মন্দ দল পাকিয়ে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নানান মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসে সম্প্রতি টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শিল্পীদের বৈঠকের ঘটনাও। সেই বৈঠকে শ্রীলেখা আবেগপ্রবণ হয়ে মাঝপথে বেরিয়ে আসেন, যা নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলতেই অভিনেত্রী জানান, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীরা পর্দার সামনে যতটা অভিনয় করতে জানে, তার থেকে অনেক বেশি পর্দার পেছনে করতে পারে।
সেদিন ওখানে স্ক্রিপটেড ভাবে কথা বলছিল সবাই। আমি শুধুমাত্র কথা বলতে চেয়েছিলাম মেন্টাল হেলথ নিয়ে।” তাঁর বক্তব্য, বৈঠকে তিনি কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলতে চাননি, বরং শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হোক, সেটাই চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি পাননি বলেই দাবি করেন অভিনেত্রী। শ্রীলেখা আরও বলেন, “এই যে সকালে উঠে ফোনটা হাতে নিলেই আত্মহত্যার খবর সামনে আসে অথবা শিল্পীর অবসাদে ভুগে নিজেদের শেষ করে দেন এগুলো নিয়েই আবার তুলেছিলাম। তারপর চারিদিক থেকে যেভাবে ঘিরে ধরা হলো… আসলে আমি রাগে কেঁদে ফেলি।
আরও পড়ুনঃ “হঠাৎ পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে নেয়, ভিডিও করে!” ভালোবাসা থাকুক, কিন্তু ভদ্রতাও থাকুক! তারকা মানেই কি ব্যক্তিগত পরিসর নেই? সোশ্যাল মিডিয়ার যুগের এই অভ্যাস নিয়ে বি’স্ফোরক সোহিনী সেনগুপ্ত! সংস্কৃতির পক্ষেই সওয়াল, কী স্পষ্ট বার্তা অভিনেত্রীর?
অন্যদের মতো চোখে নাকে গোলাপি রং লাগিয়ে ড্রামাটা বোধহয় পারি না।” তাঁর দাবি, শিল্পীদের মানসিক অবসাদ এবং সেই নিয়ে সচেতনতা তৈরির বিষয়টিই তিনি সামনে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনার পরিবেশ অন্যদিকে চলে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। রাজনীতি থেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল, আবার শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়, সব ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন শ্রীলেখা মিত্র। দীর্ঘদিন পর নতুন ছবিতে ফেরার পাশাপাশি সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎকারেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনপ্রিয়তার হিসাব কষে নয়, নিজের বিশ্বাস থেকেই তিনি কথা বলেন।






