‘আজ সবাই আছে, সময় এলে বদলেও যাবে…খালি তুমি হাত ছেড়ো না বাবা’ আমেরিকায় গিয়ে চরম শারীরিক দুর্ভো’গ! সেই এক ঘটনার পরই বদলে যায় ইমন চক্রবর্তীর জীবন, কীভাবে আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটলেন গায়িকা? ‘বাবা’কে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্টে নিজেই জানালেন সবটা?

বাংলা গানের জগতে ‘ইমন চক্রবর্তী’ (Iman Chakraborty) নিজের পরিশ্রম এবং প্রতিভার জোরেই আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর তিনি জাতীয় পুরস্কারও জিতেছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন গায়িকা। সেখানে তিনি লিখেছেন, “যখন সবাই দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, শুধু তুমি পাশে ছিলে বাবা। আজ সবাই আছে। জানি, সব বদলে যায়। খালি তুমি হাত ছেড়ো না বাবা। তুমি হাত ছেড়ো না।” এই কয়েকটি লাইন ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, কাকে উদ্দেশ্য করে এমন অনুভূতির কথা লিখলেন ইমন।

পরে নিজের জীবন বদলে যাওয়ার গল্পও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ইমন জানান, তাঁর জীবনের বড় পরিবর্তনের শুরু হয় আমেরিকা সফরের সময়। সেখানে গিয়ে তিনি একটি শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। সেই সময় এক বন্ধুর পরামর্শে নিয়মিত যোগব্যায়াম শুরু করেন। গায়িকার কথায়, যোগাভ্যাসের পর থেকেই তাঁর চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি মনে করেন, পৃথিবী যেন তাঁর নিজের মধ্যেই রয়েছে। অন্য কাউকে বিচার করার মানসিকতা বা অভিমান আর আগের মতো কাজ করে না। বরং নিজেকে অনেক বেশি শান্ত এবং ইতিবাচকভাবে দেখতে শিখেছেন তিনি।

যোগব্যায়ামের পাশাপাশি ঈশ্বরের প্রতিও তাঁর বিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে বলেই জানান ইমন। বিশেষ করে জগন্নাথদেবের প্রতি তাঁর ভক্তির কথা বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতি বছর লিলুয়ার বাড়িতে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করেন। স্নানযাত্রা থেকেই শুরু হয় নানা আচার-অনুষ্ঠান। রথের আগের দিনও নিজের হাতে জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রাকে সাজিয়ে তাঁদের সেবা করেন তিনি। এবার বেনারস থেকে বিশেষ বেনারসি শাড়ি আনিয়ে দেবতাদের পরানোর ব্যবস্থাও করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

শুধু পুজোই নয়, ভক্তির প্রকাশ ঘটেছে তাঁর সঙ্গীতেও। এ বছর জগন্নাথদেবকে উৎসর্গ করে একটি গানও গেয়েছেন ইমন, যা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে শোনা যাবে। রথের আগের দিন জগন্নাথ মহাপ্রভুর ছবি শেয়ার করে তিনি নিজের মনের কথাও লিখেছেন। তাঁর একটাই প্রার্থনা, ঈশ্বর যেন সবসময় তাঁর মাথার উপর আশীর্বাদের হাত রেখে দেন। জীবনের নানা ওঠাপড়ার মধ্যেও এই বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি জোগায় বলে মনে করেন গায়িকা।ইমনের এই পোস্ট সামনে আসতেই অনুরাগীরা শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন মন্তব্যের ঘর।

আরও পড়ুনঃ “আমার বাড়িতে যে-ই আসুক না কেন বলি, অন্তত…”, ৮৯ বছর বয়সে এসেও বিয়ের স্বপ্ন দেখেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়? মনের ইচ্ছা লুকোলেন না! একইরকম প্রাণবন্ত এবং স্পষ্টভাষী, কিংবদন্তি অভিনেত্রীর অকপট স্বীকারোক্তিতে মুগ্ধ সকলেই!

অনেকেই লিখেছেন, তাঁর এই উপলব্ধি এবং আধ্যাত্মিকতার কথা তাঁদেরও অনুপ্রাণিত করেছে। জাতীয় পুরস্কারজয়ী শিল্পী হিসেবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও নিজের জীবনের কঠিন সময়, বাবার প্রতি টান এবং ঈশ্বরের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কথা যেভাবে ভাগ করে নিয়েছেন, তা ভক্তদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া এই পরিবর্তনের গল্পই এখন ইমন চক্রবর্তীর অনুরাগীদের কাছে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

View this post on Instagram

 

You cannot copy content of this page