“আর বোধহয় বাড়ি ফেরা হবে না, প্রতিটা মুহূর্তে ঠাকুরের নাম করছিলাম, সেদিন মনে হচ্ছিল…” জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্তের মুখোমুখি হয়ে কোনমতে প্রাণে বাঁচলেন বুলবুলি চৌবে পাঁজা! অপয়া ১৩-তে কী ঘটেছিল? অনুরাগীদের সঙ্গে প্রাণ সংশয়ের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী? এখন কেমন আছেন তিনি?

বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে ততটাই অনিশ্চয়তা এবং চ্যালেঞ্জে ভরা। শুটিং, অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত কারণে প্রায়ই দেশ-বিদেশে যাতায়াত করতে হয় তাঁদের। আর সেই যাত্রাপথে কখন যে কোন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা আগে থেকে আন্দাজ করা সম্ভব নয়। কখনও দুর্ঘটনা, কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবার কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিপদের মুখে পড়তে হয় তারকাদেরও। সম্প্রতি ঠিক এমনই এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ বুলবুলি চৌবে পাঁজা।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বুলবুলি। একসময় বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। বড়পর্দা এবং ছোটপর্দা দুই ক্ষেত্রেই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে এক গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। গর্ভাবস্থায় সন্তান হারানোর পর দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। প্রায় নয় বছর পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে অভিনয়ের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লগিংয়ের মাধ্যমেও অনুরাগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক ভ্লগে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন বুলবুলি। শুরুতে সবকিছুই ছিল একেবারে স্বাভাবিক। দিল্লির এয়ারপোর্টে ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা এবং যাত্রার নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তিনি। কিন্তু গেট নম্বর ১৩-এর দিকে যাওয়ার সময়ই মজা করে বলেন, “১৩ নম্বর শুনলেই কেন জানি একটু অস্বস্তি লাগে।” তখনও অবশ্য তিনি জানতেন না যে সামনে অপেক্ষা করছে এক রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা। এর মধ্যেই একটি যুদ্ধবিমান দেখতে পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিতও হয়েছিলেন অভিনেত্রী। এরপর নির্ধারিত সময়ে বিমানে উঠে পড়েন এবং জানালার বাইরে নীল আকাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

কিন্তু কলকাতার কাছাকাছি পৌঁছতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। মুহূর্তের মধ্যে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং আবহাওয়া ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করে। সেই সময় বিমানের ক্যাপ্টেন ঘোষণা করেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আপাতত কলকাতায় অবতরণ সম্ভব নয়। এই ঘোষণার পর যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অভিনেত্রীর পাশের আসনে বসে থাকা এক প্রবীণ দম্পতিকে দেখা যায় প্রার্থনা করতে। বিমানটি দীর্ঘ সময় আকাশে চক্কর কাটতে থাকে। পরে জ্বালানির ঘাটতির কথা মাথায় রেখে দুর্গাপুরে অবতরণ করে রিফিউলিং করা হয়। তখন বুলবুলির মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল আদৌ কি সেদিন বাড়ি ফেরা হবে?

আরও পড়ুনঃ ‘আপনি দু’মাস কোথায় ছিলেন?’ ক্যা*ন্সার রো’গীদের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারালেন জুন মালিয়া! তেড়ে এসে কী জবাব দিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ তথা অভিনেত্রী? মুহূর্তে ভাইরাল সেই ভিডিও!

এরপর আবার কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় বিমান। কিন্তু আবহাওয়ার উন্নতি হয়নি। বরং যত কলকাতার দিকে এগোচ্ছিল বিমান, ততই কালো মেঘ এবং বিদ্যুতের ঝলকানি বেড়ে যাচ্ছিল। অভিনেত্রীর কথায়, সেই মুহূর্তে বিমানের সামান্য কাঁপুনিও যেন ভয়ের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। অবশেষে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর নিরাপদে কলকাতায় অবতরণ করে বিমান। রানওয়েতে চাকা ছোঁয়ার আগ পর্যন্ত ঈশ্বরের নাম করছিলেন তিনি। তবে পুরো ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছেন বিমানের পাইলটদের পেশাদারিত্ব দেখে। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শতাধিক যাত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। বুলবুলির এই অভিজ্ঞতা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page