“ঢুকতে দিয়েছি তাই ঢুকেছিস, শোন বাচ্চা…” “এখন নাকি বাংলায় কিছু বললে হাজত বাস হচ্ছে?” ধান্দাবাজরা এমন ক্ষেপে যায় কেন? দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই তীব্র কটাক্ষ! মুখ খুললেন অরিজিৎ সিং, তারপর যা বললেন তা ঘিরেই শুরু নতুন বিতর্ক!

বাংলার জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিংকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দিল্লিতে ছাত্রদের উপর হওয়া লাঠিচার্জের প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরপরই একাংশের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন। কেউ লিখেছেন, তাঁকে আর ভালো লাগে না, কেউ আবার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আর তাঁর গান শুনবেন না। তবে এই সমালোচনার মুখে চুপ থাকেননি গায়ক। একের পর এক পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি এবং জানিয়েছেন, মত প্রকাশের অধিকার থেকে তিনি সরে আসবেন না।

সমালোচনার জবাবে অরিজিৎ এক পোস্টে লেখেন, “আমি তো সাধারণ কথা বলেছিলাম। ধান্দাবাজরা এমন ক্ষেপে যায় কেন? এই তো কদিন আগে আমরা জনসাধারণ একটা দলকে বাড়ি ঢুকতে দিয়েছি। আমরা ঢুকতে দিয়েছি তাই ঢুকেছিস। এবার আর কোথায় কোথায় ঢুকবি বাপ। আগে থাকতে বলে দে। সেদিন আমার কবিতাটা নিয়ে যেখানে সেখানে চেচামেচি করলি। তা বেশ করলি। এখন তোদের নিয়ে লিখব ভাবি। কিন্তু এখন নাকি বাংলায় কিছু বললে হাজত বাস হচ্ছে? সত্যি কথা? তা হাজতে কত জন ধরে? জায়গা আছে?” এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয় জোর বিতর্ক। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের পক্ষে দাঁড়ালেও, আবার অনেকে কড়া সমালোচনা করেন।

শুধু এখানেই থেমে থাকেননি অরিজিৎ। আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, “শোন বাচ্চা, উপরে যে বসে বসে হাওয়া খাচ্ছে, যেদিন দরকার লাগবে তোমার পিছনে হাওয়া দিয়ে দেবে। মাসি হোক বা মেসো, আসতে করে কেশো।” এদিকে এক নেটিজেন তাঁকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, আগে তাঁর গান খুব ভালো লাগত, কিন্তু এখন তাঁকে ঘৃণা করেন। সেই মন্তব্যেরও সরাসরি জবাব দেন গায়ক। তিনি লেখেন, “আমার সব গান প্লে লিস্ট থেকে মুছে ফেলো। আমার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করো। কিন্তু তাতে আমি আমার মতামত থেকে কেন সরে আসব?” এই উত্তরও সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ক্রমাগত বিতর্কের মাঝেই অরিজিৎ আরও কয়েকটি পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, তিনি কোনওভাবেই “ককরোচ জনতা পার্টি”-র সমর্থক নন। তাঁর দাবি, এই ঘটনাকে ঘিরে এখন অনেকেই নিজেদের স্বার্থে বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, প্রশাসনের উচিত ছিল শুরুতেই আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। একই সঙ্গে কিছু সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্যকে ঘুরিয়ে উপস্থাপন করছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “কাজ পান না বলেই তো লোক ঠকানোর ব্যবসা খুলেছেন!” সিরিয়ালে আর দেখা যায় না মানেই কাজ নেই? ক্রমাগত কটাক্ষের জবাবে নিজের অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রমাণ করতে কী দেখালেন মধুবনী গোস্বামী? চমকে দিলেন সবাইকে!

উল্লেখ্য, দিল্লিতে ছাত্রদের উপর হওয়া লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু অরিজিৎ সিং নন, আরও বহু পরিচিত তারকাও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বরা ভাস্কর, রীতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া ডিসুজা, সোনাক্ষী সিনহা, শাবানা আজমি এবং নাসিরুদ্দিন শাহ। তবে অরিজিতের একের পর এক পোস্ট এবং সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি জবাবই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। সমাজমাধ্যমে তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক যেমন চলছে, তেমনই বহু মানুষ তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষেও সরব হয়েছেন।

You cannot copy content of this page