বাবাকে হারানোর শোক সময়ের সঙ্গে কিছুটা ম্লান হলেও, সেই শূন্যতা কখনও পুরোপুরি ভরে না। সেই অনুভূতিরই কথা আবারও ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী। প্রয়াত অভিনেতা নীলাদ্রি লাহিড়ীর প্রয়াণের এক বছর পূর্ণ হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি পোস্ট করে বাবাকে স্মরণ করেছেন তিনি। সেই পোস্টে ফুটে উঠেছে তাঁর গভীর আবেগ, ভালোবাসা এবং বাবাকে ছাড়া কাটানো কঠিন সময়ের কথা। নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সম্পূর্ণা লিখেছেন, এখনও যেন বিশ্বাসই করতে পারেন না যে তাঁর বাবা আর পাশে নেই। তিনি জানান, কোনও ভাষাতেই এই অভাবের অনুভূতি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁর এই পোস্ট ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।
গত বছর দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নীলাদ্রি লাহিড়ী। তিনি হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলেই জানা গিয়েছিল। বাবার চলে যাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সম্পূর্ণা লিখেছিলেন, “আর কী বলব, বুঝতে পারছি না। কোনও কথাই যেন যথেষ্ট নয়।” সেই যন্ত্রণা আজও একই রকম তাজা রয়েছে তাঁর মনে। এক বছর কেটে গেলেও জীবনের অনেক কিছুই এখনও অবাস্তব বলে মনে হয় অভিনেত্রীর। তিনি জানিয়েছেন, বাবাকে ছাড়া প্রতিটি দিন যেন নতুন করে সেই শূন্যতার মুখোমুখি হওয়ার মতো। এই সময়টা তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি বলেও উঠে এসেছে পোস্টে।
নিজের আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে সম্পূর্ণা আরও লিখেছেন, “যে দিন তুমি চলে গেলে, সে দিন অজান্তে আমি এক রাতেই বড় হয়ে গেলাম। হঠাৎ করেই এমন সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হলো, যা আমি কখনও কল্পনাও করিনি।” বাবার মৃত্যুর পর মুহূর্তের মধ্যেই যেন তাঁর জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। তিনি অনুভব করেন, সেই দিনের পর থেকে আর আগের মতো ছোট্ট মেয়ে হয়ে থাকার সুযোগ নেই। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি দায়িত্ব এখন তাঁকেই সামলাতে হচ্ছে। এই পরিবর্তন যে তাঁকে ভিতর থেকে বদলে দিয়েছে, সেই কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
বাবাকে প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়ে বলেও লিখেছেন সম্পূর্ণা। তাঁর কথায়, “প্রতিটি কাজে আমি তোমার অভাব অনুভব করি। তবুও মনের গভীরে বিশ্বাস রয়েছে, তুমি এখনও আমার সঙ্গেই আছো। আমার উপর নজর রাখছ, আমায় আগলে রাখছ এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে নীরবে আমায় পথ দেখাচ্ছ।” এই কয়েকটি লাইনেই বাবার প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা এবং বিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে। যদিও বাবা আর শারীরিকভাবে পাশে নেই, তবুও তাঁর উপস্থিতি আজও নিজের জীবনে অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই বিশ্বাসই তাঁকে প্রতিদিন এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়।
বাবার উদ্দেশে আরও একটি আবেগঘন আবেদনও করেছেন সম্পূর্ণা। তিনি লিখেছেন, “তুমি যেখানেই থাকো না কেন, দয়া করে আমার হাতটা ধরে রেখো। আমায় এমন শক্তি দিও যেন আমি তোমাকে ও মাকে গর্বিত করতে পারি। সততা, মমতা ও ভালোবাসার সঙ্গে প্রতিটি দায়িত্ব পালনের সাহস দিও। আর জীবনে যেমন পরিস্থিতিই আসুক না কেন, আমাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শক্তি দিও।” বাবার আশীর্বাদই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা বলেও পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই কথাগুলি পড়ে অনেক অনুরাগীও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “এই তুই এমপি হবি, আমি এমএলএ হব… এটা কি ছেলে খেলা?” “আগে শিল্পীদের মানুষ সম্মান করত, এখন কাদা ছুঁড়ছে…লোকে বাংলা সিনেমা দেখতে যাচ্ছে না, ঘেন্নায় যাচ্ছে না!” বাড়ছে অনীহা, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দর্শক! নেপথ্যে কি শিল্পীদের একাংশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড? সরাসরি প্রশ্ন তুলে কাদের ধুয়ে দিলেন ভাস্কর ব্যানার্জি?
পোস্টের শেষেও বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি সম্পূর্ণা লাহিড়ী। তিনি লিখেছেন, “আমায় ভালোবাসার জন্য, আমার উপর বিশ্বাস রাখার জন্য এবং আজকের এই মানুষটি হিসেবে আমাকে গড়ে তোলার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমায় যে কতটা মিস করি, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, বাবা।” অভিনেত্রীর এই আবেগঘন বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তাঁর পোস্টে সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এক বছর পরেও বাবার স্মৃতি যে তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে রয়েছে, এই পোস্টেই তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।






