“একজন মন্ত্রীর মুখে কথায় কথায় স্যাটা ভেঙে দেব…” “এক মহিলা মন্ত্রী বলছেন কে’টে রেখে দেব…আমি ভীষন ভীত, এই রাজ্যে থাকতেই ভয় পাচ্ছি” গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রতিনিধিদের মুখে এমন ভাষা আর হু’মকি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে, উদ্বেগ প্রকাশ চন্দন সেন ও ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়ের! ‘আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই প্রতিবাদে নামতে হবে’ ক্ষো’ভ উগরে কী বললেন দুই প্রবীণ শিল্পী?

এই মুহূর্তে দেশ জুড়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতি। শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের পর ছাত্র আন্দোলন আপাতত স্থগিত হলেও, ভবিষ্যতে ফের এমন আন্দোলন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে তারা। তবে শুধু যে ছাত্র আন্দোলন তা নয়, দেশ জুড়ে বিভিন্ন পার্টি এবং সংগঠনের তরফ থেকেও এমন মিছিল, আন্দোলন অবরোধ শুরু হয়েছে। এদিন তেমনই একটি মিছিলে নিয়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অভিনেতারা। এদিন তাঁরা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ এবং সমাজে তৈরি হওয়া অস্থিরতা।

এই মিছিলে উপস্থিত হয়ে অভিনেতা ও নাট্যকার চন্দন সেন (Chandan Sen) এবং ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় (Phalguni Chatterjee) নিজেদের মত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। তাঁদের কথায় উঠে আসে, শুধুমাত্র ঘরে বসে আলোচনা নয়, প্রয়োজন হলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোও নাগরিকদের দায়িত্ব। চন্দন সেন শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তার কথা জানান। তাঁর মতে, যাঁরা আজ পড়াশোনা করছে, তাঁদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সমাজের ভবিষ্যৎও। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম বা অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের নীরব থাকা উচিত নয়।

নিজের বক্তব্যে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ছাত্রদের লড়াই শুধু তাঁদের একার নয়, এর সঙ্গে গোটা সমাজের দায়িত্ব ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিসরে ব্যবহৃত কিছু ভাষা ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, জনপ্রতিনিধিদের মুখ থেকে এমন মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সংবেদনশীলতা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তাঁর এই উদ্বেগ মূলত গণতান্ত্রিক পরিবেশে শালীনতা বজায় রাখার প্রশ্নকে সামনে আনে। মিছিলে অংশ নেওয়া শিল্পীরা জানান, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে নাগরিক সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চন্দন সেনের বক্তব্যে যেমন শিক্ষাঙ্গনের স্বচ্ছতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়ের কথায় উঠে এসেছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ। তাঁদের মতে, কোনও সমাজের পরিবর্তনের জন্য শুধু একটি গোষ্ঠী নয়, সকলের সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ“ছোট বউ’-এর জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন দেবশ্রী রায়, আমি কোনওদিনই ওঁর…” এক চরিত্রকে ঘিরেই দুই অভিনেত্রীর সম্পর্কে ফাটল, মুখ দেখাদেখিও ছিল বন্ধ? ওই চরিত্র হাতছাড়া হওয়ার পর কী কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে? এত বছর পর সেই বিতর্কে নিয়ে মুখ খুললেন দেবিকা মুখোপাধ্যায়! সামনে আনলেন চাঞ্চল্যকর সত্যি, এখনও রয়ে গেছে অস্বস্তি?

এই নাগরিক মিছিলকে শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে না দেখে, অনেকেই দেখছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের একসঙ্গে নিজেদের মত প্রকাশের একটি জায়গা হিসেবে। প্রবীণ শিল্পীদের উপস্থিতি এবং তাঁদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে শান্তিপূর্ণভাবে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বার্তা। চন্দন সেন ও ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে মূল সুর ছিল শিক্ষা, গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলিতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা জরুরি।

You cannot copy content of this page