“নকল গান গেয়েই অল ইন্ডিয়ায় ফার্স্ট হয়েছে শ্রেয়া!” “লতা ও আশার পর অলকা-টলকা সবাই নকল…” কোটি টাকার গান গেয়েও তোমার অন্যেরটার প্রতি মোহ! নিজের এত হিট গান, তবু স্টেজে অন্যের গান কেন? শ্রেয়া ঘোষাল, অলকা ইয়াগনিকদের নিয়ে বর্ষীয়ান গায়িকা আরতি মুখোপাধ্যায়ের বি*স্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়!

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ আরতি মুখোপাধ্যায় (Aarti Mukherjee) দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা ও হিন্দি গানের দুনিয়ায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। বাংলা, হিন্দি-সহ একাধিক ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘মাসুম’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘গল্প হলেও সত্যি’র মতো ছবিতে তাঁর গাওয়া গান আজও সমান জনপ্রিয়। দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে তিনি ফিল্মফেয়ার এবং বিএফজেএ-র মতো সম্মানও পেয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বর্তমান প্রজন্মের গায়কদের কাজের ধরন নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী। বিশেষ করে মঞ্চে গান পরিবেশন নিয়ে তাঁর মন্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সাক্ষাৎকারে আরতি মুখোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান সময়ের বহু জনপ্রিয় গায়ক-গায়িকা একটি গান রেকর্ড করার জন্য বিপুল অর্থ পারিশ্রমিক হিসেবে পান। কখনও সেই অঙ্ক কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এত জনপ্রিয় নিজস্ব গান থাকা সত্ত্বেও মঞ্চে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তাঁরা প্রায়ই পুরনো শিল্পীদের বিখ্যাত গানই পরিবেশন করেন। এই প্রবণতা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর আসল পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর নিজের সৃষ্টি এবং নিজের গাওয়া গান। তাই দর্শকদের সামনে নিজের কাজই বেশি তুলে ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে শ্রেয়া ঘোষাল এবং অলকা ইয়াগনিকের নামও উল্লেখ করেন আরতি মুখোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের পর আমরা নকলির জগতেই চলেছি… সবাই তো নকল করে গায়! শ্রেয়া গাইছে সেটাও নকল, সে আবার ফার্স্ট হলো ইন্ডিয়াতে নকল গেয়েই! বললেই অনেকে বলবে যে সুরে-তালে গায়ে। আরে বাবা, সুর ও তাল না থাকলে তো গানই হবে না! সেটা তো করতেই হবে! অলকা গাইলে সবাই বলে না খুব সুরে গায়ে। আমি বলি তাহলে ওখানে গিয়ে ওটা করে কেন? নিজস্বতা রাখতেই হবে, স্টেজে গিয়েও নিজের গানই গাইতে হবে! তুমি শিল্পী, তোমার সৃষ্টিই তোমার পরিচয়! কাজেই অন্যেরটা ছিনিয়ে নেবার প্রয়োজন নেই।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

একই সাক্ষাৎকারে সঙ্গীত চর্চা নিয়েও নিজের ভাবনা ভাগ করে নেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী। তাঁর কথায়, কণ্ঠ ঈশ্বরের দান হলেও ভালো গাইতে হলে নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক পিচের ধারণা এবং নিজের বিচারবোধ খুবই জরুরি। তিনি জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার সুযোগ পান এবং সেখান থেকেই তাঁর দীর্ঘ পথচলার শুরু। প্লেব্যাক গান শুধু গাওয়া নয়, সেখানে অভিনয়ের অনুভূতিও ফুটিয়ে তুলতে হয় বলেও তিনি মনে করেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রসঙ্গীতের রিমেক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের গানকে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ সেই গানের গভীরতা বুঝতে হলে আগে সঙ্গীতের সঠিক শিক্ষা থাকা দরকার।

আরও পড়ুনঃ “আমাকে জীবন উপহার দিয়েছে…স্ত্রী না থাকলে হয়তো আজ বেঁচেই থাকতাম না!” অতীতের কোন দুর্ঘ’টনার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কুশল চক্রবর্তী? দাম্পত্যের অজানা অধ্যায় প্রকাশ্যে, সেদিন চরম বিপদে কীভাবে অভিনেতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সঞ্চারী?

বর্তমান সময়ের রিয়েলিটি শো নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন আরতি মুখোপাধ্যায়। তাঁর বিশ্বাস, সেখান থেকেও ভালো শিল্পী উঠে আসতে পারেন। তবে তাঁদের দিয়ে বারবার পুরনো জনপ্রিয় গান গাওয়ানোর বদলে নতুন গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত, তবেই প্রকৃত প্রতিভা বোঝা যাবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের সময়ে নতুন গান নিয়েই কাজ করতে হতো, অন্যের গান ধার করে পরিচিত হওয়ার প্রবণতা ছিল না। এছাড়া সঙ্গীত জগতে রাজনীতির প্রভাব নিয়েও তিনি বলেন, এখন সব ক্ষেত্রেই রাজনীতি রয়েছে এবং শুধু ভালো গান গাইলেই টিকে থাকা যায় না, তাঁরাও এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। আশা ভোঁসলে তাঁর গাওয়া কিছু গান গেয়েছেন বলে যে কথা শোনা যায়, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমিও শুনেছি, দেখিনি তাই কিছু বলব না।”

You cannot copy content of this page