“আমাকে জীবন উপহার দিয়েছে…স্ত্রী না থাকলে হয়তো আজ বেঁচেই থাকতাম না!” অতীতের কোন দুর্ঘ’টনার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কুশল চক্রবর্তী? দাম্পত্যের অজানা অধ্যায় প্রকাশ্যে, সেদিন চরম বিপদে কীভাবে অভিনেতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সঞ্চারী?

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ কুশল চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। ছোটবেলাতেই কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘সোনার কেল্লা’ ছবিতে ‘মুকুল’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান। মাত্র ছয় বছর বয়সে অভিনয় জীবন শুরু হলেও পরে কিছু সময়ের জন্য তিনি অভিনয় থেকে দূরে সরে যান। সেই সময় চাকরি করেই জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আবারও ফিরিয়ে আনে বিনোদন জগতে। এরপর ধারাবাহিক, সিনেমা এবং নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা আরও মজবুত করে তোলেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সমান দক্ষ ছিলেন কুশল চক্রবর্তী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার ব্যাকস্টেজেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পরে পরিচালক হিসেবেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘সোনার কেল্লা’, ‘সম্প্রদান’, ‘সমান্তরাল’ এবং ‘কাকাবাবু হেরেই গেলেন’। নায়কের চরিত্রে নয়, বরং একজন দক্ষ চরিত্রাভিনেতা হিসেবেই তিনি দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। আজও তাঁর অভিনয় বহু মানুষের কাছে সমানভাবে প্রশংসিত।

২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিজেদের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের সময়কার কয়েকটি বিশেষ মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন কুশল চক্রবর্তী। ছবির সঙ্গে তিনি একটি আবেগঘন ক্যাপশনও লিখেছিলেন, যেখানে স্ত্রী সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের নজর কেড়ে নেয়। ব্যক্তিগত জীবনের এমন অকপট অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ায় অনেকেই অভিনেতার প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর সেই পোস্ট আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় উঠে আসে। নিজের পোস্টে কুশল লিখেছিলেন, “এই অসাধারণ প্রতিভাবান মেয়েটির সঙ্গে ৯টা বছর কাটিয়ে দিলাম। এই মেয়েটিকে জীবন আমাকে উপহার দিয়েছে।

জীবন শেষ হয়ে যেত এক দুর্ঘটনায়। এই মেয়েটি আমাকে বাঁচিয়েছে। কেবল তাই নয়, ওর থেকে বিচ্ছুরিত পবিত্র আলো আমার জীবনময় ছড়িয়ে আছে। আমার বাকি জীবনও ওঁর সঙ্গেই কাটবে। ও আমার জীবনে পাওয়া সেরা উপহার।” এই কয়েকটি লাইনেই স্ত্রীর প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা, সম্মান এবং কৃতজ্ঞতার প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পোস্টটি সেই সময় ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ২০১৪ সালে অভিনেত্রী সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কুশল চক্রবর্তী। বর্তমানে তাঁদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

অনেকের মতে, তাঁদের ছেলেকে দেখতে অনেকটাই ছোটবেলার ‘মুকুল’-এর মতো লাগে। যদিও কুশল চক্রবর্তী ও সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের শুরুটা খুব বেশি দিনের ছিল না। প্রথম পরিচয়ের মাত্র এক বছর এক মাসের মধ্যেই তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দুজনের মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন যে জীবনের লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের ভাবনা অনেকটাই এক। সেই পারস্পরিক বিশ্বাসই তাঁদের দ্রুত সংসার শুরু করার সাহস জুগিয়েছিল। সঞ্চারী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, রক্ষণশীল পরিবারে বড় হওয়ায় অভিনয়ের জগতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না।

আরও পড়ুনঃ “ভালোবাসাতেও যে স্ব-ইচ্ছায় বন্দি হয়ে থাকা যায়… মনের কোণে সুরসুর করে ঢুকে পড়লাম, আপনারা কিংবা আমরা, কেউই ঠিক টের পেলাম না!” শুভস্মিতার সঙ্গে বিয়ের কাউন্টডাউন শুরু, প্রেমের শুরুর স্মৃতি ভাগ করে আবেগঘন সৌরভ! জানালেন বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন কবে?

তাই তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী চেয়েছিলেন, যিনি তাঁর কাজকে সম্মান করবেন এবং এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবেন। কুশল চক্রবর্তীর মধ্যে সেই সমর্থন খুঁজে পেয়েছিলেন বলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। অন্যদিকে কুশলও মনে করেন, সঞ্চারীর আগমনের পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন অনেক বেশি গুছিয়ে ওঠে এবং তাঁদের দাম্পত্য আরও দৃঢ় ভিত্তি পায়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে একে অপরের পাশে থাকার কথা বারবার তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা। বিবাহবার্ষিকীর সেই পোস্টেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, জীবনের কঠিন সময়ে স্ত্রীর সমর্থনই তাঁকে নতুন করে বাঁচার শক্তি দিয়েছে। তাই তাঁর কথায়, জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার হলেন তাঁর স্ত্রী সঞ্চারী।

You cannot copy content of this page