বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ভুয়ো কনটেন্ট তৈরি করার ঘটনা প্রায়ই সামনে আসছে। এবার সেই সমস্যারই শিকার হলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর নাম জড়িয়ে একটি ভুয়ো এবং বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ঘটনার পর আর নীরব না থেকে প্রকাশ্যেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, এই ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক মহিলাকে জনসমক্ষে মারধর করা হচ্ছে। অথচ সেই ভিডিওকেই মিমি চক্রবর্তীর ঘটনা বলে প্রচার করা হয়। বিষয়টি অভিনেত্রীর নজরে আসতেই তিনি সমাজমাধ্যমে স্ক্রিনশট শেয়ার করে স্পষ্ট জানান, পুরো ঘটনাই সম্পূর্ণ ভুয়ো। তিনি লেখেন, “আজকে আমাকে ঘিরে একটা ফেক ভিডিও নজরে এসেছে। সমাজমাধ্যমে অন্য একটা ভিডিও এবং একটি খবর মিলিয়ে পোস্ট করা হয়েছে, যেটা সম্পূর্ণ ফেক। এটা যাঁরা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আমি বাধ্য হব।” তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
মিমি আরও বলেন, “যিনি একজন মহিলা হয়ে এটা পোস্ট করেছেন, তাঁকে বলি, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। আপনি একজন মহিলা হয়ে অন্য একজন মহিলার মার খাওয়া সেলিব্রেট করতে পারেন কীভাবে! বাকিরাই বা কত ছোট মনের হলে, এরকম করতে পারেন? মহিলাদের সম্মান করেন না যাঁরা, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত।” অভিনেত্রীর মতে, শুধুমাত্র কয়েকটি ভিউ, লাইক বা প্রচারের আশায় একজন মহিলার উপর হওয়া নির্যাতনকে ব্যবহার করে অন্য কারও নাম জড়ানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের মানসিকতা সমাজের জন্যও ক্ষতিকর।
এই প্রথম নয়, কয়েকদিন আগেও এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে একটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভুয়ো ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনার কথাও তুলে ধরে মিমি বলেন, “কিছুদিন আগে একজন পলিটিশিয়ানের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে একটা ফেক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এগুলো যাঁরা করছেন, তাঁরা অত্যন্ত অন্যায় করছেন। আপনারা আমার নাম নিয়ে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতে চাইছেন আশা করি। সেটা করার জন্য আমার সাক্ষাৎকার নিতে পারেন। তবে এভাবে ফেক নিউজ করে আপনারা নিজেদেরকেই আসলে অসম্মান করছেন।”
অভিনেত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যেই একজনের বিরুদ্ধে ফেক নিউজ ছড়ানোর অভিযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও ধাপে ধাপে একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আপনাদের পরিবারের সকলে যখন জানতে পারবেন এই বিষয়ে, তাঁরাও লজ্জিত হবেন। তাই আপনাদের বলছি, ফেক নিউজ করা বন্ধ করুন।” তাঁর বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো বা অন্যের সম্মান নিয়ে খেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এবার কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ শুরুতেই বাজিমাত, বাস্তবের আয়না হয়ে উঠছে স্টার জলসার ‘তিলোত্তমা’! সমাজের অন্ধকার সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরছে এই নতুন ধারাবাহিক! শুধু বিনোদন নয়, সমাজকে নতুন করে ভাবাচ্ছে? সুস্মিতার অভিনয় ও গল্প, ইতিমধ্যেই মন জয় করেছে দর্শকদের, আপনাদের কেমন লাগছে?
সবশেষে মিমি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার ভুল করবেন না। যদি নাম নিয়ে ভাইরাল হতে চান, সরাসরি সাক্ষাৎকার নিন। কিন্তু এভাবে ফেক নিউজ বানিয়ে নিজেদের পরিবার ও সমাজের কাছে লজ্জিত হবেন না।” তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ডিপফেক ভিডিও এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।






