মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্প্রতি একটি নতুন ফাইবারের আবক্ষমূর্তি ও স্মারকফলক উন্মোচন করা হয়েছে। এই মূর্তির উদ্বোধনের পর থেকেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, আবক্ষমূর্তিটির সঙ্গে মহানায়কের মুখের কোনও মিলই নেই। বিষয়টি নিয়ে একের পর এক সমালোচনামূলক পোস্ট সামনে এসেছে। প্রথমে অভিনেত্রী পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মূর্তিকে “কদাকার” এবং “হতকুৎসিত” বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তাঁর সেই পোস্ট ঘিরেও সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিচিত মুখও নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে একই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষালকে। উত্তরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে কিছু বলতে চান না। তবে যাঁরা এই মূর্তি তৈরি করেছেন এবং যাঁরা এটি তৈরি করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের উদ্দেশেই তাঁর বক্তব্য। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি শুভেন্দু অধিকারীকে কিছু বলছি না, তবে যিনি বানিয়েছেন তাঁকে বলছি আর যারা বানাতে দিয়েছিলেন তাদের বলছি যে মূর্তিটা দেখে অন্তত উন্মোচন করা উচিত ছিল। কারণ ওরা উত্তম কুমারের মূর্তি বলে মনেই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এটা কে? কার মূর্তি বসিয়ে দিয়েছে? সুতরাং মহানায়ক কে যখন সম্মান জানাতে ইচ্ছে, এখন সবটা খতিয়ে দেখেই তারপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল!
এবার যদি নিজেদের ভুলটা বুঝতে পেরে নতুন করে ঠিকঠাক মূর্তি বসায়, আমি বলব খুব ভালো করছেন!” রত্না ঘোষাল আরও বলেন, একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে সম্মান জানাতে গেলে সেই সম্মানের যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। তাঁর মতে, মহানায়কের নামে কোনও মূর্তি স্থাপনের আগে সেটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। তিনি মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করলে এই বিতর্কের সৃষ্টি হতো না। একই সঙ্গে অভিনেত্রী জানান, যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ভবিষ্যতে নতুন করে আরও বাস্তবসম্মত ও যথাযথ একটি মূর্তি স্থাপন করেন, তাহলে তিনি সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানাবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের সমাজ মাধ্যমের পোস্টে লিখেছিলেন, উত্তম কুমার বাঙালির আবেগ এবং একজন কিংবদন্তি শিল্পী। তাই এমন একটি আবক্ষমূর্তি প্রকাশ্যে এত আড়ম্বরের সঙ্গে স্থাপন করা তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তাঁর পোস্টের পর নেটিজেনদের একাংশও মূর্তির চেহারা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ মজার ছলে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, আবার কেউ বলেন, মহানায়কের মতো একজন শিল্পীর স্মৃতির সঙ্গে এমন আপস করা উচিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে এবং বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
আরও পড়ুনঃ ‘একজন মহিলার মা’র খাওয়া উদযাপন করতে লজ্জা করে না?’ ‘আপনাদের পরিবারে মা ও বোন নেই, কী করে পারলেন এটা?’ নিজের ডিপফে’ক ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মিমি চক্রবর্তী! কাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা অভিনেত্রীর?
সব মিলিয়ে উত্তম কুমারের নতুন আবক্ষমূর্তিকে ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার রত্না ঘোষালের মন্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দুই অভিনেত্রীরই বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, তাঁরা মহানায়কের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের দাবিই তুলেছেন। সমাজমাধ্যমেও অনেকেই একই মত প্রকাশ করে বলছেন, বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ আইকনের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে হলে তাঁর আদলের সঙ্গে মিল রেখে আরও উপযুক্ত একটি মূর্তি স্থাপন করা উচিত। এখন দেখার, এই বিতর্কের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নেন কি না।






