৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান! বাম থেকে তৃণমূল কেউ শোনেনি, বিজেপি জমানার তিন মাসের মধ্যেই অসাধ্য সাধন করে দেখালেন রুদ্রনীল ঘোষ! যে দাবি পাঁচ দশকেও পূরণ হয়নি, সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখলেন তারকা-বিধায়ক?

প্রায় পাঁচ দশক ধরে জল, কাদা আর ভাঙাচোরা রাস্তার দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। বহুবার সরকারের পরিবর্তন হলেও এলাকার মানুষের এই মৌলিক সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। কোনা খালপাড় সংলগ্ন তেতুলতলা ভূতবাগান এলাকার একমাত্র কাঁচা রাস্তা এখন ঢালাই করে পাকা করার কাজ শুরু হয়েছে। বহু বছরের দাবি পূরণ হতে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, এতদিন যে কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে, এবার সেই পরিস্থিতির বদল ঘটতে চলেছে। এলাকাজুড়ে এই কাজ ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।

স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তাটি ছিল এলাকার মূল সড়কের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। বছরের বেশিরভাগ সময় কোনও রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা নামলেই গোটা রাস্তা জল আর কাদায় ঢেকে যেত। ফলে স্কুলপড়ুয়া পড়ুয়াদের স্কুলে পৌঁছতে, কর্মজীবী মানুষদের কর্মস্থলে যেতে এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হতো। অনেক সময় জরুরি অবস্থায়ও যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে যেত। শিশু থেকে প্রবীণ, প্রত্যেকেই বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ সহ্য করে এসেছেন। এলাকার মানুষের মতে, এতদিন এই কষ্ট যেন তাঁদের জীবনেরই অংশ হয়ে গিয়েছিল।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী তৃণমূল সরকারের আমলেও বারবার আবেদন জানানো হলেও এই রাস্তার সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনও কাজ এগোয়নি। ফলে প্রতিবার বর্ষা এলেই পুরনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় মানুষ।

এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, নবনির্বাচিত বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ নির্বাচনের আগে যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা তিনি সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমানে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের কাজ চলতে দেখে তাঁরা খুশি। অনেকেই প্রকাশ্যে বিধায়কের প্রশংসা করছেন এবং জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তব রূপ পাচ্ছে। তাঁদের মতে, এই রাস্তা তৈরি হয়ে গেলে শুধু যাতায়াতই সহজ হবে না, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পথও আরও মসৃণ হবে। বহু বছরের অপেক্ষার পর এমন উদ্যোগ তাঁদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “আমি আপনাদের মতো হতে পারিনি, আর হতে চাইওনি!” “শিক্ষিত হওয়া ভালো, অতিশিক্ষিত হওয়া ভালো নয়…নিজের বিবেক, আত্মসম্মান আর মেরুদণ্ড বিক্রি করিনি!” মোদী পোস্টার বিতর্কে রত্না ঘোষাল, মমতা শঙ্কর ও কনীনিকার সমালোচনার জবাবে কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শ্রীলেখা মিত্রের! একহাত নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

কোনা খালপাড় সংলগ্ন এই এলাকার রাস্তা নির্মাণের কাজ এখন স্থানীয় মানুষের কাছে শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং বহু বছরের কষ্ট থেকে মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে জল, কাদা আর ভাঙা রাস্তার সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এলাকাবাসীর আশা, কাজ দ্রুত শেষ হলে আগামী বর্ষায় আর আগের মতো দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে না। বহু দশকের দাবি পূরণ হওয়ায় এলাকাজুড়ে এখন খুশির আবহ, আর সেই কারণেই নতুন রাস্তা নির্মাণের এই উদ্যোগ ঘিরে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।

You cannot copy content of this page