“মা হতে চেয়েছিলাম…এক বছরেরও বেশি সময় হল আমরা আলাদা”, “কেউ বন্ধু হিসেবে ভালো হলেও, স্বামী হিসেবে…” ভালোবেসে বিয়ে করেও কেন ভাঙল, ‘বোঝে না সে বোঝে না’ খ্যাত দেবপর্ণা চক্রবর্তীর সংসার? স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পূরণ হয়নি প্রত্যাশা! পাঁচ বছরের দাম্পত্য ভাঙার কারণ জানিয়ে আবেগঘন অভিনেত্রী!

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ দেবপর্ণা চক্রবর্তী বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ ধারাবাহিকে এএসআরের দিদির চরিত্র থেকে শুরু করে ‘ভানুমতীর খেল’-এর নেতিবাচক চরিত্র, প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পরবর্তীকালে ‘ত্রিনয়নী’ এবং ‘মিঠিঝোরা’ ধারাবাহিকেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। যদিও গত কিছুদিন ধরে ছোটপর্দায় তাঁকে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা প্রশ্ন ঘুরছিল অনুরাগীদের মনে। অবশেষে এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন অভিনেত্রী। সেখানেই তিনি জানিয়ে দিলেন, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় আগে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার ঠিক আগে ভালোবেসে জিম ব্যবসায়ী শুভ্রজ্যোতি পালচৌধুরীকে বিয়ে করেছিলেন দেবপর্ণা। ধুমধাম করেই শুরু হয়েছিল তাঁদের নতুন জীবন। তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, “আমরা আলাদা হয়ে গিয়েছি। আসলে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এক বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেল।” দীর্ঘ পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর এই স্বীকারোক্তির পরই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন।

বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেবপর্ণা জানান, ছোটবেলা থেকেই সংসার করার ইচ্ছে ছিল তাঁর, আর সেই স্বপ্ন তিনি পূরণও করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁরা বুঝতে পারেন, জীবন সম্পর্কে দু’জনের ভাবনা এবং প্রত্যাশা এক নয়। অভিনেত্রীর কথায়, “এখনও ওর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এটা পুরোপুরি পারস্পরিক সিদ্ধান্ত। সবার জীবনের দিশা আলাদা হয়, চাওয়া পাওয়াও আলাদা হয়। কেউ বন্ধু হিসেবে খুব ভালো হতে পারে, ছেলে হিসেবে ভালো হতে পারে, কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে একে অপরের যে প্রত্যাশা থাকে, সেটা হয়তো পূরণ হচ্ছিল না। তাই আমরা নিজেদের ভালো থাকাটাকেই বেছে নিয়েছি।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই বিচ্ছেদের মধ্যে কোনও তিক্ততা নেই।

সাক্ষাৎকারে মা হওয়ার ইচ্ছা নিয়েও কথা বলেন দেবপর্ণা। তিনি জানান, “অবশ্যই মা হওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু কবে মা হব, সেটা আমার আর আমার স্বামীর সিদ্ধান্ত ছিল। সেটা আর হয়ে ওঠেনি। এখন তো আমরা আলাদা।” বর্তমানে তিনি একাই জীবন কাটাচ্ছেন এবং এখনই নতুন কোনও সম্পর্কে জড়ানোর ইচ্ছে নেই বলেও জানিয়েছেন। বরং নিজের এই নতুন জীবনকে তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। প্রাক্তন স্বামীর প্রতিও তাঁর মনে কোনও রাগ বা ক্ষোভ নেই, বরং আজও সম্মান বজায় রয়েছে বলেই জানান অভিনেত্রী।

বিবাহবিচ্ছেদের মতো কঠিন সময় কীভাবে সামলেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে দেবপর্ণা বলেন, “সেই সময় আমি নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। প্রতিদিন শুটিং করতাম। কাজ আমাকে ভালো থাকতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি দামিনী বেণী বসুর অভিনয়ের কর্মশালাতেও অংশ নিয়েছিলাম। আমি খুব বাস্তববাদী মানুষ। মানিয়ে নেওয়ার ধরনটাও আমার আলাদা।” তাঁর মতে, জীবনের কঠিন সময়কে কাটিয়ে ওঠার জন্য কাজই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই কারণেই ব্যক্তিগত কষ্টকে কখনও নিজের পেশার উপর প্রভাব ফেলতে দেননি তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আমি আর চুপ করে থাকব না…” বিজেপিকে ‘চাড্ডি’ বলায় রেগে তেড়ে এলেন কাঞ্চনা মৈত্র, মুখ খুলতেই পড়লেন বিপাকে! কড়া জবাব দিতেই উল্টে নেটপাড়ার হাসির খোরাক অভিনেত্রী, প্রতিবাদ করতে গিয়ে এমন কী করলেন যে উঠল সমালোচনার ঝড়? জড়ালেন বড়সড় বিতর্কে?

অভিনয়ের পাশাপাশি একসময় সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন দেবপর্ণা চক্রবর্তী। কামারহাটি এলাকার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছেন। এখন তাঁর সমস্ত মনোযোগ অভিনয় এবং নিজের পেশাগত জীবনকে ঘিরেই। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি কোনও তিক্ততার পথ বেছে নেননি। বরং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page