বিনোদন জগতে পর্দায় দর্শক যে গল্প দেখেন, তার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে বহু অজানা ঘটনা। বিশেষ করে কোনও কঠিন বা বিতর্কিত দৃশ্য শুট করার সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কী ধরনের প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তা সাধারণ দর্শকের সামনে সবসময় আসে না। বহু বছর পর তারকারা যখন সেই পুরনো দিনের স্মৃতির ঝাঁপি খোলেন, তখনই সামনে আসে এমন কিছু ঘটনা, যা নতুন করে চর্চার জন্ম দেয়। সম্প্রতি তেমনই এক পুরনো স্মৃতি ভাগ করেছেন বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত খলনায়ক সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়। ইন্দ্রানী দত্তের সঙ্গে ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’ ছবির শুটিংয়ের প্রসঙ্গ তুলেই তিনি জানিয়েছেন এক বিশেষ ধ*র্ষণের সিনের কথা।
বাংলা সিনেমার পরিচিত অভিনেতা সুমিত গাঙ্গুলী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে খলনায়কের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের পুরনো দিনের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী ইন্দ্রানী দত্তের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এমনকি তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কীভাবে ইন্দ্রানী দত্তের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একটি কঠিন দৃশ্যের জন্য দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল এবং সেই সময় তাঁদের মধ্যে কী ধরনের বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল।
সুমিত গাঙ্গুলীর কথায়, তিনি ইন্দ্রানী দত্তকে ‘তৈরি’ করেছেন। এই দাবি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’ ছবির একটি বিশেষ সিকোয়েন্সের কথা। ছবিতে তাঁর চরিত্রের একটি দৃশ্য ছিল, যেখানে তিনি ইন্দ্রানী দত্তকে ধ*র্ষণ করতে উদ্যত হন। সেই সিন-এর অভিনয় যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে প্রায় দেড় মাস সময় লেগেছিল বলে জানান অভিনেতা। শুধু শুটিং সেটেই নয়, ইন্দ্রানী দত্তের বাড়িতেও তিনি গিয়েছিলেন এবং তাঁকে অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয় শেখানোর কথা জানান। পাশাপাশি অভিনেত্রীর রান্নারও প্রশংসা করেন সুমিত।
তবে ওই রেপ সিনের শুটিং ঘিরে আরও একটি ব্যক্তিগত ঘটনা শেয়ার করেছেন অভিনেতা। সুমিত গাঙ্গুলীর দাবি অনুযায়ী, সেই সময় তিনি সদ্য বিবাহিত। একই সময়ে ইন্দ্রানী দত্তও জনার্ধন পালের সঙ্গে সদ্য বিয়ে হয়। অর্থাৎ দু’জনেরই তখন সদ্য শুরু হয়েছে দাম্পত্য জীবন। এমন পরিস্থিতিতেই তাঁদের সেই কঠিন দৃশ্যের শুটিং চলছিল। অভিনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের সময় তাঁর স্ত্রী এবং ইন্দ্রানী দত্তের স্বামীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পর্দায় দু’জনকে এমন একটি ঘনিষ্ঠ ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে অভিনয় করতে দেখার পর তাঁদের আচরণেও কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
আরও পড়ুনঃ “একজন সিনিয়র মানুষকে ধাক্কা দিয়ে মুখে পোকা মা’রার স্প্রে করে সরী বললে সব মিটে যাবে?” রাজবীরের হাতে বারবার অপদস্ত ভরত কল, আওয়াজ তুললেন রাজা! “শুধু বয়সে বড় হলেই সম্মান পাওয়া যায় না, ভরতদারও নিজের আচরণ দেখা উচিত!” “কাউকে বারবার উস্কে দিলে এটাই হয়, উনিই আগে অসম্মান করেছেন!” পরিবার তুলে কথা বললে চুপ করে থাকবে কেন?রাজবীরের পাশে দাঁড়িয়ে অভিনেতাকেই পাল্টা দাওয়াই নেটপাড়ার!
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী দু’জনকেই মেকআপ রুমে গিয়ে বসতে বলেছিলেন বলে জানান সুমিত। তাঁর স্মৃতিচারণে উঠে আসে, তখন তিনি এবং ইন্দ্রানী দু’জনেই সদ্য বিবাহিত ছিলেন। ফলে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক এবং পর্দার চরিত্র দুইয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। বহু বছর পর সেই রেপ সিনের শুটিংয়ের স্মৃতি সামনে এনে সুমিত গাঙ্গুলী শুধু একটি ছবির দৃশ্যের নেপথ্যকাহিনি নয়, বাংলা সিনেমার শুটিং সেটের একেবারে অজানা একটি অধ্যায়ও তুলে ধরেছেন।






