বাংলা বিনোদন জগতের দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় ও রুমকি চট্টোপাধ্যায়। থিয়েটার থেকে টেলিভিশন, সিনেমা বিভিন্ন মাধ্যমে অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেদের সংসার ও পরিবারকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই তারকা দম্পতি। এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের অভিনয়জীবন, থিয়েটারের সঙ্গে সম্পর্ক, একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং দাম্পত্য জীবনের নানা অজানা গল্প শেয়ার করেছেন তাঁরা। ফাল্গুনী জানান, ছোট থেকেই নাটকের পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা। অন্যদিকে রুমকি নিজের সিদ্ধান্তে থিয়েটারে এসেছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক চরিত্রে কাজ করলেও থিয়েটারের চরিত্রগুলির সঙ্গে তাঁর আলাদা টান রয়েছে। সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে বহু ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও ঘোরাঘুরি পিছনে রাখতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এই সাক্ষাৎকারের বড় অংশ জুড়েই উঠে এসেছে তাঁদের ছেলে, অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়ের কথা। পর্দায় যাঁকে দর্শক একজন সফল অভিনেতা হিসেবে চেনেন, বাবা-মায়ের চোখে আবীরের গল্পটা অনেকটাই আলাদা। ফাল্গুনী জানান, আবীর ছোট থেকেই অভিনয়ের পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছে। যদিও নিজে নিয়মিত থিয়েটার করেনি, বাড়ির রিহার্সাল, নাটক এবং অভিনয়ের পরিবেশ খুব কাছ থেকে দেখেছে। পড়াশোনাতেও আবীর বরাবরই ভালো ছিল। বাবা-মা দুজনেই থিয়েটার করেন বলে আত্মীয়দের সামনে তাঁদের মুখ রাখার একটা দায়িত্বও আবীর নিজের মধ্যে অনুভব করত। মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্ট্যান্ড করেছিল সে। পরবর্তীতে ম্যানেজমেন্ট পড়ার সময়ও স্কলারশিপের সাহায্যে পড়াশোনা চালিয়ে যায়।
আবীরের অভিনয়জীবন নিয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা জানিয়েছেন তাঁর বাবা-মা। ফাল্গুনীর মতে, আবীর ধীরে ধীরে নিজের অভিনয়কে উন্নত করেছে এবং এখনও নিজেকে তৈরি করে চলেছে। তাঁর কথায়, একজন অভিনেতাকে একটি জায়গায় থেমে থাকলে চলবে না, সবসময় নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে। আবীরের চরিত্র বাছাই নিয়েও বাবা-মায়ের প্রশংসা শোনা যায়। ফাল্গুনী জানান, প্রচুর কাজের প্রস্তাব এলেও আবীর নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ বেছে নেয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ফেলুদা ও ব্যোমকেশ—দুটি আইকনিক চরিত্রেই অভিনয় করার সুযোগ আবীরের জন্য যেমন বড় দায়িত্বের ছিল, তেমনই পরে নিজের তৈরি করা ‘সোনাদা’ চরিত্র দিয়েও সে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। অভিনয়ের প্রস্তুতির জন্য আবীর প্রচুর পড়াশোনা করে এবং ভালো সিনেমা দেখে বলেও জানান তিনি।
আবীরকে নিয়ে আরও ব্যক্তিগত কিছু কথাও উঠে আসে এই আলোচনায়। রুমকি জানান, ছেলে হিসেবে আবীরকে নিয়ে কোনও কাজ খারাপ লাগলেও তিনি সহজে তা বলতে পারেন না, কারণ ছেলের প্রতি তাঁর স্বাভাবিকভাবেই একটা পক্ষপাত রয়েছে। অন্যদিকে ফাল্গুনী বলেন, আবীর খুব বেছে কাজ করে এবং তার পড়াশোনার অভ্যাস ও চিন্তাভাবনাকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। ছোটবেলায় আবীরের পড়াশোনার পিছনে তাঁর দাদুরও বড় ভূমিকা ছিল। আবীরের স্কুলের পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রস্তুতি সবকিছুতেই দাদু তাঁকে সময় দিতেন। এমনকি অফিসের কাজের ফাঁকেও নাতির পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাতেন। ফাল্গুনীর কথায়, আবীরের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সেই পারিবারিক পরিবেশেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শরীর নিয়ে কটা’ক্ষ, প্রথম ছবি থেকে বাদ পড়লেও তরুণ মজুমদার দেখেছিলেন সেই হীরের ঝলক! শিপ্রা থেকে মহুয়া, মাত্র ১২ বছরের কেরিয়ারে ঝড় তুলেছিলেন আপামর বাঙালির হৃদয়ে! জন্মদিনে ফিরে দেখা সেই অকালপ্রয়াত নায়িকা, মহুয়া রায় চৌধুরীর রহস্যময় জীবন!
সব মিলিয়ে, সাক্ষাৎকারে আবীর চট্টোপাধ্যায়কে শুধু একজন সফল অভিনেতা হিসেবে নয়, বাবা-মায়ের চোখে দেখা একজন ছেলে হিসেবেও পাওয়া যায়। পর্দায় যে মানুষটিকে দর্শক বিভিন্ন চরিত্রে দেখেন, তাঁর ব্যক্তিজীবনের অনেকটাই তৈরি হয়েছে থিয়েটারময় একটি পরিবার, পড়াশোনা, পরিবারের দায়িত্ব এবং নিজের প্রতি কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। ফাল্গুনী ও রুমকির কথায় উঠে এসেছে সেই আবীরেরই অন্য ছবি যেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি রয়েছে পরিবারের প্রতি টান, পড়াশোনার প্রতি গুরুত্ব এবং নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করার চেষ্টা। তাঁদের কথাতেই যেন স্পষ্ট, একজন শিল্পীকে কাছ থেকে চেনার জন্য শুধু তাঁর পর্দার চরিত্র নয়, তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর চোখ দিয়েও তাঁকে দেখা জরুরি।






