“রাস*ক্যালায়ক! কতটা নির্লজ্জ হলে…” “একটুও লজ্জা থাকলে অলি পাবের ওই নিরীহ ওয়েটারের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান!” লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে পদবির দোহাই দিয়ে ধর্মের বিভাজনে কনটেন্ট, বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃত বিতর্ক সৃষ্টি? ‘বি*ফ-কাণ্ডে’র স্মৃতি উস্কে সায়ক চক্রবর্তীকে তুলোধোনা রূপাঞ্জনা মিত্রের!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের খরচের হিসাব সামনে আসতেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে সায়ক চক্রবর্তী। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভোটের প্রচারের জন্য সায়কের হিসাবে আড়াই লাখ টাকা যাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরই নতুন করে ফিরে এসেছে পার্ক স্ট্রিটের অলি পাবের সেই মাংস বিতর্ক। ভোটের আগে ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে সায়ক দাবি করেছিলেন, মাটনের বদলে তাঁদের গোমাংস পরিবেশন করা হয়েছিল। ঘটনাটি ঘিরে সে সময় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছিল এবং রেস্তোরাঁর এক কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে সায়ক নিজের অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা জানান এবং ঘটনাটি নিয়ে দুঃখপ্রকাশও করেছিলেন। এবার নির্বাচনী খরচের হিসাব সামনে আসার পর সেই পুরনো ঘটনা নিয়েই ফের প্রশ্ন উঠছে, আর মুখ খুলছেন একাধিক তারকা।

সেই ঘটনাকে ঘিরে এবার সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। সামাজিক মাধ্যমে তিনি সরাসরি সায়কের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রূপাঞ্জনার বক্তব্যের মূল সুর, আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য সামনে আসার পরে অলি পাবে গিয়ে ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, শুধু পদবির পরিচয় দেখিয়ে একজন কনটেন্ট নির্মাতাকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে বাহবা দেওয়া হচ্ছে কেন। ধর্মের বিভাজনকে ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে দর্শক টানার চেষ্টা নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। রূপাঞ্জনা লিখেছেন, “একটুও যদি লজ্জা থেকে থাকে তাহলে অলি পাব গিয়ে ওই ছেলেটির সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়া উচিত।” এর পরেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “কতটা নির্লজ্জ হলে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে পদবির দোহাই দিয়ে একজন ফালতু কনটেন্ট নির্মাতাকে এই পচে যাওয়া সমাজ বাহবা দেয়? ধর্মের বিভাজন করে কনটেন্ট দেখাচ্ছ?”

রূপাঞ্জনার এই মন্তব্যের পাশাপাশি আরও কয়েকজন তারকা ও পরিচিত মুখও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় অবশ্য কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আজকে ফেসবুকে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ দেখলাম।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকে সায়ক এবং শমীক অধিকারীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। অন্যদিকে মৃন্ময় দাস ওরফে সিনেবাপও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, একজনের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে ১৩ লাখ টাকা পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে, আর সেই সূত্রেই তিনি দুজনকে নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগগুলিকে বিভিন্ন মহলের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, সেগুলি প্রমাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

‘বং গাই’ কিরণ দত্তও এই বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে দর্শকদের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেই সম্পর্কের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চান না। কিরণের বক্তব্যের সারকথা, তিনি নদিয়ার একটি ছোট জায়গা থেকে উঠে এসেছেন এবং দর্শকের দেওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনকেই তিনি বড় করে দেখেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়ে দর্শকেরা যেভাবে তাঁর পাশে থেকেছেন, তার বিনিময়ে তিনি তাঁদের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবেন না। তাঁর কথায়, “আমি ভাই নদিয়ার একটা ছোট জায়গার ছেলে। সেই ছেলেকে তোমরা যে জায়গা দিয়েছ, যেভাবে আমার খারাপ দিনে পাশে থেকেছ, আমি চাইলেও তোমাদের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না গুরু।” তিনি আরও বলেন, “যা পেয়েছি অনেক বেশি পেয়েছি। এভাবেই ভালো আছি।” অর্থাৎ প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক প্রচারের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে কিরণ নিজের অবস্থান আলাদা করে তুলে ধরেছেন।

এই বিতর্কে শুধু সায়ক ও শমীকের নাম নয়, আরও কয়েকজন সামাজিক মাধ্যমের নির্মাতার নামও উঠে এসেছে। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ইতি কর্মকারের হিসাবে তিন লাখ টাকা এবং আরজে প্রিয়াঙ্কা অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কা সরকারের হিসাবে ১৫ লাখ টাকা যাওয়ার কথা সামনে এসেছে। সুকান্ত কুণ্ডুর নামের সঙ্গে তিন লাখ টাকা এবং তাঁর মায়ের নামের সঙ্গে সাড়ে চার লাখ টাকা যাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও জ্যোতিরাদিত্য রায়ের হিসাবে ১৭ দশমিক ৮ লাখ টাকা যাওয়ার তথ্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতাদের পারিশ্রমিক এবং তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এই অর্থপ্রাপ্তির তথ্য থেকে কোনও নির্দিষ্ট কনটেন্টের উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় না। এদিকে যাঁদের নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাঁদের অনেকের কাছ থেকেই এখনও এই নতুন বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ “এক টুকরো মাং*সের এত দাম? বোতাম খুললে পেমেন্ট আরও বেশি!” “দর্শকদের সঙ্গে বেই’মানি করতে পারব না গুরু!” কেঁচো খুঁড়তে কেউটে? মা-বাবার নামে টাকা নিয়েছেন সুকান্ত, সায়ক-শমীক সহ একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগ! ‘বিপ্লবী না দালাল, অরাজনৈতিক ইমেজ রেখে টাকাও খাবে’ শ্রীলেখা, কিরণ ও মৃন্ময়ের চাঁচাছোলা মন্তব্য ভাইরাল!

অন্যদিকে, অলি পাবের পুরনো ঘটনাটি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এই অর্থের হিসাব প্রকাশের পর। সেই সময় সায়ক দাবি করেছিলেন, মাটনের বদলে গোমাংস পরিবেশন করা হয়েছিল এবং বিষয়টি তাঁর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। ঘটনার পর রেস্তোরাঁর কর্মী গ্রেফতার হন, পরে সায়ক অভিযোগ প্রত্যাহার এবং দুঃখপ্রকাশের কথা জানান। এরপরও ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামেনি। এবার আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার তথ্য সামনে আসায় রূপাঞ্জনা মিত্রের মতো তারকারা সেই পুরনো ঘটনাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। রূপাঞ্জনার বক্তব্যের শেষেও ছিল কড়া ভাষার একটি মন্তব্য, “রাসক্যালায়ক।” ফলে নির্বাচনী খরচের হিসাব, সায়কের পুরনো অলি পাব বিতর্ক এবং তারকাদের একের পর এক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।

You cannot copy content of this page