পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সংগঠনে ফের বড়সড় রদবদলের খবর সামনে এসেছে। এক ব্যক্তি এক পদ নীতি মেনে দলের একাধিক দায়িত্বে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই রদবদলের মধ্যেই সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। শুধু দলের সম্পাদক পদেই নয়, বিভিন্ন মোর্চার নেতৃত্বেও বদল আনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মহিলা মোর্চার নতুন দায়িত্ব নিয়ে আসা নামটি। অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুকে মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ অঞ্জনা এবার বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসছেন।
অঞ্জনা বসু দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের পাশাপাশি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন, যখন বাংলায় দলটির বিধায়ক সংখ্যা ছিল খুবই কম। পরবর্তীতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে তৃণমূলের অরুন্ধতী মৈত্রর কাছে পরাজিত হন অভিনেত্রী। তবে নির্বাচনের ফলের পর রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি অঞ্জনা। বরং তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় অনেকেই তাঁকে দলটিতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অন্যদের কথায় কান না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তেই বিজেপিতে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাননি।
অঞ্জনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা অবশ্য শুধু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মধ্যেই আটকে থাকেনি। ২০২১ সালের ভোটের সময় তিনি নিজের কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারেও অংশ নিয়েছিলেন। ভোটে পরাজয়ের পরেও দলের কর্মী সমর্থকদের পাশে থাকার ছবি সামনে এসেছিল। এমনকি সোনারপুর এলাকায় কঠিন পরিস্থিতিতে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে অসুস্থতার কারণে কিছু সময় রাজনীতির কাজ থেকে দূরে থাকতে হলেও আবার দলের কাজে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। অঞ্জনা বলেছিলেন, অভিনয়ের মতো রাজনীতির জগতকেও তিনি গুরুত্ব দেন এবং সুযোগ পেলেই ধীরে ধীরে দলের কাজ শুরু করতে চান। তাঁর কথায়, ভোটের সময় দীর্ঘদিন রাস্তায় নেমে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা এবং সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।
রাজনীতিতে নিজের অবস্থান নিয়েও এর আগে বেশ স্পষ্ট ছিলেন অঞ্জনা। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর অনেক তারকা প্রার্থী দল ছেড়ে দিলেও তিনি বিজেপিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি যখন বিজেপিতে যোগ দেন তখন রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বা লকেট চট্টোপাধ্যায়ও দলে আসেননি। তখন বাংলায় বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি, আর পরবর্তী সময়ে তা অনেক বেড়েছে বলেই তিনি দল ছাড়ার কোনও কারণ দেখেননি। অঞ্জনা আরও জানিয়েছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় অনেকে তাঁকে বুদ্ধিহীন বলেছিলেন এবং দলটিতে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তবে কারও কথা না শুনে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বলেই তিনি জানিয়েছেন। এবার সেই অঞ্জনা বসুকেই মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা নতুন সাংগঠনিক ভূমিকা পেল।
আরও পড়ুনঃ “রাস*ক্যালায়ক! কতটা নির্লজ্জ হলে…” “একটুও লজ্জা থাকলে অলি পাবের ওই নিরীহ ওয়েটারের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান!” লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে পদবির দোহাই দিয়ে ধর্মের বিভাজনে কনটেন্ট, বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃত বিতর্ক সৃষ্টি? ‘বি*ফ-কাণ্ডে’র স্মৃতি উস্কে সায়ক চক্রবর্তীকে তুলোধোনা রূপাঞ্জনা মিত্রের!
অঞ্জনার নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে সম্পাদক পদ থেকে সরানোর বিষয়টিও এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজেপির এক ব্যক্তি এক পদ নীতির আওতায় একাধিক জায়গায় দায়িত্ব বদল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দলের সংগঠনে কে কোন দায়িত্বে থাকবেন, তা নিয়েও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে অঞ্জনার নাম সামনে আসায় অভিনয় জগত থেকে বিজেপির রাজনীতিতে আসা এই পরিচিত মুখকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে অঞ্জনা নিজেই জানিয়েছিলেন, অভিনয় এবং রাজনীতি দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চান। তবে তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব যেন অভিনয়ের জগতে আলাদা করে না পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এবার মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সংগঠনের কাজে অঞ্জনার ভূমিকা কতটা সক্রিয় হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।






