বিগ বস বাংলার ঘরে রাজবীর দে এবং নন্দিনী দত্তের সম্পর্ক এখন আর শুধুই বন্ধুত্বের মধ্যে আটকে নেই। ক্যামেরার সামনে এবং আড়ালে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দুজনের রোম্যান্স এখন দর্শকদের নজর কেড়েছে। তাঁদের সম্পর্ক কি সত্যিই প্রেমের দিকে এগিয়েছে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। এবার সেই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নন্দিনীর বাবা সন্দীপ দত্ত। মেয়ের সঙ্গে রাজবীরের সম্পর্ককে তিনি কীভাবে দেখছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। শুধু সম্পর্ক নিয়ে কথা বলাই নয়, রাজবীরের বেশ কিছু গুণের কথাও জানিয়েছেন নন্দিনীর বাবা। তাঁর কথায় স্পষ্ট, রাজবীরকে তিনি বেশ পছন্দ করেন। এমনকী বিগ বসের মঞ্চে রাজবীরের সাফল্য নিয়েও তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
রাজবীরের কোন বিষয়টি নন্দিনীর বাবাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে, সেটিও জানিয়েছেন সন্দীপ দত্ত। তাঁর কাছে রাজবীরের জেতার ইচ্ছা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই করে যাওয়ার মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি প্রশংসার। বিগ বসের একটি টাস্কে রাজবীরকে লঙ্কা, কাঁচা ডিম এবং দুধ দিয়ে তৈরি শেক খেতে হয়েছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি যেভাবে টাস্কটি শেষ করেছিলেন, তা দেখে মুগ্ধ হন সন্দীপ। রাজবীরের এই মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের জীবনসংগ্রামেরও মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। নিজের অতীতের কথা বলতে গিয়ে সন্দীপ জানিয়েছেন, তিনিও একেবারে শূন্য থেকে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। নন্দিনীর জন্মের সময় হাসপাতাল থেকে দেওয়া মাত্র ৩৬৫০ টাকার ওষুধের বিল মেটাতেও তাঁর তিন দিন সময় লেগেছিল। তাই কঠিন পরিশ্রম করে জীবনে এগিয়ে যেতে চাওয়া মানুষকে তিনি সবসময় সম্মান করেন।
বিগ বসের ঘরে নন্দিনী এবং রাজবীর কীভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সন্দীপ দত্ত। তাঁর মতে, ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে জীতু ঘরে ঢোকার পর রাজবীরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেই সময় বাড়ির প্রায় সকলেই রাজবীরের বিপক্ষে চলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নন্দিনী কিন্তু রাজবীরের পাশ থেকে সরে যাননি। বরং গোটা বাড়ির বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি রাজবীরকে সমর্থন করেছিলেন। সন্দীপের মতে, সেই কঠিন সময়ে নন্দিনীই রাজবীরকে মানসিকভাবে অনেকটা শক্তি জুগিয়েছিলেন। তিনি নন্দিনীর এই সমর্থনকে রাজবীরের জন্য ‘অক্সিজেন’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর চোখে, এই দুজন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছেন।
রাজবীরের জনপ্রিয়তা নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত নন্দিনীর বাবা। তিনি রাজবীরকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং সুপারস্টার’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিগ বসের শুরুতে যখন অনেকেই রাজবীরকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিলেন, তখনও তিনি মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের যোগ্যতায় পরিস্থিতি সামলেছেন। সেই লড়াইয়ের ফলেই এখন রাজবীরের জনপ্রিয়তা এতটা বেড়েছে বলে মনে করেন সন্দীপ। রাজবীরের প্রতি দর্শকদের সমর্থনের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, “১০০ জন ভোট দিলে তার মধ্যে ৫০ টা ভোট রাজবীর পাচ্ছে। এত লোক যখন পছন্দ করছে, তখন ওর মধ্যে জাদু তো একটা আছেই!” অর্থাৎ দর্শকদের বিপুল সমর্থনই রাজবীরের মধ্যে থাকা বিশেষ গুণের প্রমাণ বলে মনে করছেন নন্দিনীর বাবা।
রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্কের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রফি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সন্দীপ দত্ত। তাঁর কাছে নন্দিনী জিতলেই যে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন, এমনটা নয়। বরং ফাইনালে যদি রাজবীর এবং নন্দিনীর মধ্যে সরাসরি লড়াই হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাজবীর চ্যাম্পিয়ন হন, তাতেও তিনি নিজের মেয়ের জয়ের মতোই আনন্দ পাবেন বলে জানিয়েছেন। এই বক্তব্যই ইতিমধ্যে রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে চর্চা তৈরি করেছে। কারণ নন্দিনীর বাবার মুখে রাজবীরের জন্য এতটা সমর্থন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। বিগ বসের ঘরের সম্পর্ক বাস্তব জীবনে কতটা এগোবে, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে সন্দীপের বক্তব্যে রাজবীরের প্রতি তাঁর আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “মিতিন মাসির ফ্লোরে এক অভিনেত্রীর হেন’স্থার অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্যটা মিস করে গেলাম?” “আজ অবধি কাউকে নিয়ে লড়াই করতে দেখলাম না, এখন জনগণের জন্য যু’দ্ধ হবে!” কোয়েল মল্লিককে নিশানা রূপাঞ্জনার, ‘প্যারাশুট ল্যান্ডিং’ থেকে ‘ইমেজ পলিশিং’, একের পর এক নজিরবিহীন কটাক্ষে আয়না দেখালেন অভিনেত্রীকে!
হবু জামাই হিসেবে রাজবীরকে কেমন লাগে, সেই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দিয়েছেন নন্দিনীর বাবা। তিনি জানিয়েছেন, জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নন্দিনীর সিদ্ধান্তই শেষ কথা। অর্থাৎ মেয়ের পছন্দকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। তবে রাজবীরকে তাঁর নিজের কাছে বেশ ভালো মনের মানুষ বলেই মনে হয়েছে। সন্দীপের মতে, নন্দিনীর জীবনে এমন একজন মানুষ আসা উচিত, যে তাঁকে যত্ন করবে এবং পাশে থাকবে। সেই জায়গা থেকে রাজবীরের প্রতি তাঁর ইতিবাচক মনোভাব স্পষ্ট। ফলে বিগ বসের ঘরে রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে যে জল্পনা চলছে, তার মধ্যেই নন্দিনীর বাবার এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি নন্দিনীর হাতেই রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন তাঁর বাবা।






