“নন্দিনীরটা হচ্ছে উগ্র আর সৃজলা হচ্ছে একটু পলিশ, দু’জনেই একই, সব সীমা পার করে যাচ্ছে!” “আমি তো ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিতে যাইনি বিগ বসে…” বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়েই নন্দিনী ও সৃজলাকে নিয়ে বি*স্ফোরক সোহিনী পাল! কেন তুললেন একের পর এক অভিযোগ? দুর্নিবার, রাজবীরকে নিয়েও ফাঁস করলেন কোন অজানা কথা?

প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের মেয়ে সোহিনী পাল। তবে বাবার পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়েও দর্শকদের কাছে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্য নিয়েই বিগ বস বাংলার ঘরে প্রবেশ করেছিলেন সোহিনী। কিন্তু মাত্র এক মাসের যাত্রায় নানা অভিজ্ঞতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ঠিক-ভুলের দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন সোহিনী। সেখানে নন্দিনী ও সৃজলাকে ঘিরে তাঁর অসন্তোষ, সৃজলার পড়ে যাওয়ার ঘটনা, দুর্নিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাবার পরিচয় নিয়ে ওঠা বিতর্ক, সবকিছু নিয়েই স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন তিনি। সোহিনীর কথায়, “আমি তাপস পালের মেয়ে, এটা আমার একটা পরিচয়ের বিশাল বড় অংশ, যেটা আমি ডিনাই করতেও চাই না আর করিও না। ওটা আমার গর্ব।” কিন্তু বিগ বসের ঘরে নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে কেন বারবার ঠিক-ভুলের প্রসঙ্গ তুললেন তিনি? কোন ঘটনা নিয়ে এখনও আপত্তি রয়েছে তাঁর?

বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর সঙ্গে সোহিনীর মতবিরোধ যে যথেষ্ট গভীর ছিল, তা সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নন্দিনীর সঙ্গে সংঘাতের প্রসঙ্গে সোহিনী জানান, বাবার পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করায় তিনি কষ্ট পাননি, বরং বিরক্ত হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, বাবার পরিচয় নিয়ে তিনি গর্বিত এবং নিজের জীবনে যে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, তা অস্বীকারও করেন না। সোহিনীর কথায়, “আমি খুব প্রিভিলেজড, আমাকে অনেক কিছু ক্ষেত্রে প্রিভিলেজ দেওয়া হয়েছে, আর সেটা আমি অ্যাকসেপ্ট করি।” তবে সেই পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে আক্রমণ করা হলে তার দায় তিনি নিতে রাজি নন। নন্দিনীর মানসিকতার সঙ্গে নিজের মিল নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। অন্যদিকে, সৃজলাকে নিয়েও তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সৃজলার পড়ে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গে সোহিনী দাবি করেন, তাঁর মনে হয়েছিল নন্দিনী জেনেশুনেই এমনটা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি ওকে তার মধ্যেও বলেছিলাম, হ্যাঁ, তুই জেনে বুঝে ফেলেছিস।” তবে নন্দিনী ও সৃজলা কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে কাছের মানুষ হিসেবে দেখেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। সোহিনীর মতে, প্রতিযোগিতা বা ক্যাপ্টেনসি জেতার জন্যও একটা সীমারেখা থাকা উচিত, যা অতিক্রম করা ঠিক নয়।

এখানেই শেষ নয়, বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগীদের খেলার ধরন নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন সোহিনী। দুর্নিবারের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দুজনের সম্পর্ক প্রথমদিকে কিছুটা দূরত্বের হলেও শেষের দিকে একে অপরকে বুঝতে শুরু করেছিলেন তাঁরা। দুর্নিবারকে বুদ্ধিমান প্রতিযোগী বলে উল্লেখ করে সোহিনী বলেন, “দুর্নিবার খুব ইন্টেলিজেন্ট। দুর্নিবার খুব মাথা দিয়ে খেলে।” তবে তাঁর মতে, দুর্নিবার নিজের সীমারেখা অতিক্রম করে নোংরা খেলায় নামেননি। অন্যদিকে, রাজবীরকে একেবারে অপছন্দ করেন না সোহিনী। তাঁর সঙ্গে ঝগড়া হলেও সম্পর্কের অন্য দিকও দেখেছেন তিনি। তবে দীপেন্দুকে ‘ভেড়া’ বলা বা অন্যের সঙ্গে কথা বলার সময় কিছু আচরণ তাঁর ভালো লাগেনি বলে জানিয়েছেন। নন্দিনী ও সৃজলার প্রসঙ্গে আবার তাঁর মন্তব্য, দুজনের মধ্যে কিছুটা মিল রয়েছে। সোহিনীর কথায়, “নন্দিনীর ওটা হচ্ছে একটু উগ্র আর সৃজলা হচ্ছে একটু পলিশ।” অর্থাৎ, দুজনের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। তবে কারও সঙ্গে মতের অমিল থাকলেই যে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকবে, এমনটা নয় বলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন সোহিনী।

আরও পড়ুন: “সম্বিত ফিরে এলে আমরা সবাই বুঝতে পারবো, পৃথিবীর সব ভাইপো ভালো” চোরবাগান কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোকে ঘিরে উঠছে অভিযোগ, ফের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ঘিরে চর্চায় ঋত্বিক চক্রবর্তী! নাম না করেই কাকে বললেন ষাঁড়?

অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যে নিরঞ্জনকে নিয়ে যথেষ্ট গর্বিত সোহিনী। তাঁর মতে, নিরঞ্জন যেমন বুদ্ধি দিয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছে, তেমনই নিজের ঠিক-ভুল সম্পর্কেও সচেতন। সোহিনীর কথায়, “আমি সবচেয়ে বেশি গর্ব করি নিরঞ্জন যেভাবে খেলছে।” তাঁর মতে, নিরঞ্জনের মধ্যে সংবেদনশীলতা রয়েছে এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। পাশাপাশি, বিগ বসের ঘরে কিছু সম্পর্ক তাঁর কাছে ট্রফির থেকেও বড় হয়ে উঠেছিল। তনুশ্রী ও ঝিলম নাকি ক্যাপ্টেন হওয়ার পর সুযোগ পেলে সোহিনীকে বাঁচানোর কথা বলেছিলেন। এই ঘটনা তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের ছিল। অন্যদিকে, ক্যাপ্টেনসি এবং বিভিন্ন শারীরিক টাস্কে নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। সোহিনীর বক্তব্য, নিয়ম মেনে খেলা তাঁর পছন্দ, কিন্তু অন্যের জামা টেনে বা শারীরিকভাবে জোর খাটিয়ে জিনিস কেড়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। সেই কারণেই হয়তো প্রতিযোগিতার কয়েকটি মুহূর্তে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি তিনি। তবে নিজের ব্যক্তিত্ব বদলে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করেননি বলেই জানিয়েছেন সোহিনী।

বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে বাবাকে ঘিরে বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত আবেগ নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। তাপস পালের অতীতের ভুলের দায় মেয়ের উপর চাপানো উচিত নয় বলেই মনে করেন সোহিনী। তাঁর বক্তব্য, “আমার বাবা যদি কোনও ভুল করে থাকেন, সেইটারও দায়িত্ব আমার নয়।” একই সঙ্গে বাবার ভালো কাজের জন্য যে সুযোগ ও পরিচয় পেয়েছেন, তা অস্বীকার করতেও নারাজ তিনি। বাবার মৃত্যুর পর দুর্গাপুজোর আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে বলেও জানান সোহিনী। আগে পুজোয় বেরোনো নিয়ে তাঁর বাবা ভীষণ উৎসাহী থাকতেন, এমনকী শেষ দু’বছর তাঁদের বাড়িতেও দুর্গাপুজো হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে সোহিনীর বক্তব্যে স্পষ্ট, জনপ্রিয়তা বা দর্শকের মন জয়ের থেকেও নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকাকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি তো ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিতে যাইনি বিগ বসে।” তবে তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্যের সঙ্গে দর্শক কতটা একমত হবেন, আর নন্দিনী ও সৃজলাকে ঘিরে তাঁর মন্তব্যের পর বিগ বসের অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।

You cannot copy content of this page