‘ফাজলামোর একটা সীমা থাকা উচিত!’ ‘গঙ্গার জল এত স্বচ্ছ হলো কবে থেকে?’ ‘কলকাতায় গঙ্গার গভীরতা ১৪৭ মিটার, এরা নীচে গিয়ে দিব্যি হাঁটাহাঁটি করছে, ভোগ নিবেদন করছে!’ ‘গঙ্গা’র নতুন প্রোমো দেখেই হাসির রোল নেটপাড়ায়!

স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গঙ্গা’ (Ganga) শুরু হওয়ার পর থেকেই টিআরপি তালিকায় ভালো ফল করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেরা পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছে এই মেগা। গল্পে একের পর এক নতুন মোড় এনে আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন নির্মাতারা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি চ্যানেলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকের একটি নতুন প্রোমো প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে গঙ্গা পুজোকে কেন্দ্র করে বড়সড় বিপদের আভাস মিলেছে। তবে প্রোমোর নাটকীয়তা যতটা আলোচনায় এসেছে, তার থেকেও বেশি চর্চা শুরু হয়েছে কয়েকটি দৃশ্যের বাস্তবতা নিয়ে। সেই কারণেই প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল হাসাহাসি ও কটাক্ষ।

নতুন প্রোমোতে দেখা যায়, গঙ্গা পুজোর বিশেষ আয়োজন চলছে। দেবীর উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করার দায়িত্ব পড়ে অর্জুন ও গঙ্গার উপর। দু’জনেই ভোগের পাত্র হাতে নিয়ে নদীতে নেমে যান। ঠিক সেই সময় গঙ্গাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে মেঘনাদ। সে একজন তীরন্দাজকে নদীর জলে পাঠায়, যাতে সে ডুব দিয়ে গঙ্গাকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়তে পারে। কিন্তু ঠিক যখন আক্রমণের মুহূর্ত আসে, তখন একদল শুশুক এসে সেই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে। ফলে সে কিছুতেই লক্ষ্য স্থির করতে পারে না। অন্যদিকে গঙ্গা ও অর্জুন ভোগ নিবেদন করতে গিয়ে এত শুশুক একসঙ্গে দেখে অবাক হয়ে যায়। এই দৃশ্য দেখেই অনেক দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগলেও, সামাজিক মাধ্যমে অন্য বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রোমো প্রকাশের পর থেকেই নেটিজেনদের একাংশ দৃশ্যগুলির বাস্তবতা নিয়ে সরব হয়েছেন। বিশেষ করে নদীর জলের নিচে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা, কথা বলা এবং কোনও অসুবিধা ছাড়াই থাকার দৃশ্য অনেকের কাছেই অবাস্তব বলে মনে হয়েছে। একজন লিখেছেন, “গঙ্গার জল এত পরিষ্কার কবে হলো?” আবার আরেকজনের মন্তব্য, “গঙ্গা নাহয় আগে গঙ্গার নীচ থেকে পয়সা কুড়োতো বলে ওর শ্বাস আটকাতে সমস্যা হয়নি, কিন্তু অর্জুনের লজিকটা তো বুঝলাম না!” এই মন্তব্যগুলিই এখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের পাতায়।

সমালোচনার সুর আরও চড়িয়েছেন অন্য কয়েকজন দর্শক। তাঁদের একজন লিখেছেন, “আমি তো জানতাম জলের নিচে মানুষ বড় জোর তিন থেকে চার মিনিট থাকতে পারে কিন্তু এ তো দেখি জলের নিচে এত কিছু হচ্ছে তাও কারো কিছু হচ্ছে না নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে না! একেই বলে গল্পে গরু গাছে ওঠে।” আবার আরেকজনের কটাক্ষ, “সিরিয়ায় দেখানোর মতন দেখাও কলকাতা শহরে গঙ্গা নদীর গভীরতা ১৪৭ মিটার, সেইখানে ওরা গঙ্গার নিচেই গিয়ে মা গঙ্গা কে ভোগ নিবেদন করছে । ফাজলামোর একটা সীমা আছে!” প্রোমোর এই দৃশ্যগুলি ঘিরে তাই প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও সমান তালে চলছে।

আরও পড়ুন: “শিল্পের ‘স’ জানে না, অথচ গুষ্টিমিলে টলিউডকে নিয়ন্ত্রণ করেছে!” “ইন্দ্রনীল ও ব্রাত্য বসু’র সঙ্গে অরূপ বা স্বরূপকে এক করবেন না!” অযোগ্যদের হাতে ছিল শিল্পের রাশ! এবার যোগ্যতা থাকলে তবেই মিলবে কাজ! সদর্পে ঘোষণা রুদ্রনীল ঘোষের!

যদিও ধারাবাহিকের দর্শকদের আরেকটি অংশের মতে, এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প এবং নাটকীয়তা বাড়ানোর জন্যই এমন দৃশ্য রাখা হয়েছে। তবে তর্ক-বিতর্ক যাই চলুক না কেন, নতুন প্রোমো প্রকাশের পর ধারাবাহিকটিকে ঘিরে যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা বলাই যায়। এখন দেখার বিষয়, নদীর নিচের এই বিপদ থেকে গঙ্গা ও অর্জুন কীভাবে উদ্ধার পায় এবং মেঘনাদের নতুন ষড়যন্ত্রের শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হয়। উল্লেখ্য, এই এক ঘণ্টার বিশেষ পর্ব আগামী ৩০ জুন সম্প্রচারিত হবে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Star Jalsha (@starjalsha)

You cannot copy content of this page