“তুই কী সদ্য জন্মানো বাচ্চা, এত ন্যা’কা কেন?” “ইভেন্ট চলছিল না, বন্ধুর চিন্তা হলে নিজেই যেতিস!” দেবলীনাকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ নিয়ে সায়ক-অলকানন্দার বিতর্কে তুঙ্গে! প্রকাশ্যে বন্ধুত্বের নোং’রা চেহারা, পাল্টা জবাব সুকান্তর!

গত সপ্তাহে জনপ্রিয় ভ্লগার তথা গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) আ’ত্মহ*ত্যার চেষ্টার কথা প্রকাশে আসতেই, বিষয়টি নিয়ে নানান স্তরে আলোচনা শুরু হয়। আজ এক সপ্তাহ হতে চললেও, সেই আলোচনা থামার নাম নিচ্ছে না! কারও কাছে এটি উদ্বেগজনক ঘটনা, তো আবার অনেকেই শুরু থেকে গোটা বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। এর মধ্যেই দেবলীনাকে ঘিরে আরও একটি বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে! হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যাওয়া নিয়েই ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল দ্বন্দ্ব!

গতকাল ভ্লগর এবং অভিনেত্রী ‘অলকানন্দা গুহ’ (Alokananda Guha) ফেসবুকে একটি লাইভ করেন। তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty) এবং সুকান্ত কুণ্ডু (Sukanta Kundu) তাঁকে কিছু না জানিয়েই দেবলীনাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। অলকানন্দার অভিযোগ, সায়ক নাকি আগেই তাঁকে বলেছিলেন, এই মুহূর্তে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই! এমনকি কোন হাসপাতালে দেবলীনা ভর্তি, সেই তথ্যও প্রথমে তাঁকে দেওয়া হয়নি।

পরে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট দেখে তিনি জানতে পারেন, সায়ক, সুকান্ত এবং প্রেরণা-সহ অনেকেই সেখানে গিয়েছিলেন! এই বিষয়টাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে বলে জানান তিনি। অলকানন্দার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন সায়ক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কেন রে, তোর নিজের হাত পা নেই? আমি নিয়ে যাইনি মানে? বাচ্চা নাকি? সদ্য জন্মেছিস তুই? এত ন্যাকা কেন!” পাশাপাশি তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, “সুকান্ত, প্রেরণা ওরা গেল কি করে, ওদের তো আমি নিয়ে যায়নি হাতে ধরে!”

সায়ক বলেন, কেউ যদি সত্যিই দেবলীনাকে নিয়ে চিন্তিত হন, তাহলে নিজে থেকেই হাসপাতালে যাওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “এতোই যদি চিন্তা করতিস তো চলেই যেতিস নিজে!” তিনি এটাও পরিষ্কার করেন, কেউ একসঙ্গে গাড়িতে যাননি, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে পৌঁছেছিলেন। এই বিতর্কে সুকান্ত কুণ্ডুও নিজের অবস্থান জানান। তাঁর মতে, অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে যাওয়া কোনও “ইভেন্ট” নয় যে কাউকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। তিনি বলেন, তিনি নিজেই যোগাযোগ করে হাসপাতালে গিয়েছেন এবং কাউকে আটকানোর প্রশ্নই ওঠে না।

আরও পড়ুনঃ পকেটে টাকা ছিল না, পেটে ভাত জোটানোই ছিল কঠিন, —চপ ভেজে চলত জীবন! কঠিন সময় পেরিয়ে আজ টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম নাম সুপ্রিয় দত্ত! অভিনেতার সংগ্রামের গল্প জানলে চোখ ভিজবে আপনার

সায়ক কারও দায়িত্ব নেননি, এই দাবিতেই অনড় থাকেন সুকান্ত। অন্যদিকে অলকানন্দা পাল্টা মন্তব্য করে লেখেন, “একসাথেই তো গেছিস, আমায় কেন বললি যেতে হবে না? হসপিটাল নামও বলতে চাসনি! ম্যাজিক করেই কি একসঙ্গে গেলি সবকটা?” তাঁর ধারণা, তাঁকে বাদ দিয়েই সবাই একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অলকানন্দার বোন অনন্যার সঙ্গে সুকান্তের বিয়ে পাকা। ফলে প্রকাশ্য এই বাকযুদ্ধ দেখে অনেকেই অবাক। দেবলীনার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠাই যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেখানে বন্ধুদের বিতর্ক এখন শিরোনামে! সমাজ মাধ্যমের যুগে যা খুব পরিচিত চিত্র।

You cannot copy content of this page