রথযাত্রা উপলক্ষে এই বছরও নিজের বাড়িতে ভক্তিভরে জগন্নাথদেবের পুজোর আয়োজন করেছেন গায়িকা ‘ইমন চক্রবর্তী’ (Iman Chakraborty)। বহু বছর ধরেই লিলুয়ার বাড়িতে তিনি নিয়ম মেনে রথযাত্রা পালন করে আসছেন। স্নানযাত্রার পর থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। এ বছরও জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে নতুন পোশাক, বিশেষ সাজসজ্জা, সোনার মুকুট এবং নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুজো করা হয়েছে। ৫৬ ভোগেরও ব্যবস্থা ছিল। তবে এই আয়োজনের মাঝেই আবার সামনে এসেছে বহুদিনের একটি পুরনো বিতর্ক। জগন্নাথদেবের ছবির পাশে তাঁর মায়ের ছবি রাখার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নানান মন্তব্য করা হয়। সেই প্রসঙ্গেই এবার খোলাখুলি নিজের মত প্রকাশ করলেন ইমন।
সম্প্রতি রথযাত্রা উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গায়িকা কোনও রাখঢাক না করেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বহুদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এতদিন তিনি প্রকাশ্যে খুব একটা মন্তব্য করেননি। তবে এবার তিনি জানিয়ে দিলেন, কারও কটাক্ষের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে এমন অনেক বড় সমস্যা রয়েছে, যার তুলনায় এই ধরনের বিতর্কের কোনও গুরুত্বই নেই। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না। এই প্রসঙ্গেই ইমন বলেন, “মানুষের কাছে যেটা থাকে, মানুষ সেটার মূল্য দেয় না।
আজকাল আমি অনেক সময় এটা দেখি যে জিনিসগুলো প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে পৃথিবীতে, তার থেকে আমি অনেক ভালো আছি। আমার বন্ধুবান্ধব ও অনুরাগীরাও অনেক ভালো আছে, এখানে দেশের পর দেশ জ্বলে যাচ্ছে! মানুষ ম’রছে, কত কিছুই তো হচ্ছে। ধ*র্ষণ হচ্ছে, একজন মানুষ অন্যকে মানুষ বলেই গণ্য করে না! সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই সেটা বোঝা যায়। আমার জগন্নাথ দেবের ছবির পাশে কেন আমার মায়ের ছবি, সেটার টিপ্পনী তো আমি অনলাইনের যে চারটে মানুষ কটাক্ষ করছে তাদের দেব না!” নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, বর্তমান সময়ে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
এরপরই নিজের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে ইমন বলেন, “কারন, আমার কাছে আমার মা জগন্নাথেরও উপরে! ওনারা না থাকলে তো আমি পৃথিবীতেই আসতাম না। আমার মা-বাবার উপরে কোনও জগন্নাথ, দুর্গা বা কালী নেই! আমার বাবা-মাই আমার সর্বপ্রথম ঈশ্বর!” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসকে অস্বীকার করছেন না, বরং নিজের জীবনে মা-বাবার স্থানকে সর্বোচ্চ বলে মনে করেন। সেই কারণেই বাড়ির পুজোর আয়োজনের মধ্যেও তিনি বাবা-মাকে সমান শ্রদ্ধার আসনে রাখেন।
আরও পড়ুনঃ “বাবার একটাই ভুল ছিল…” সেই অভ্যাস কি সংসারের আর্থিক ভিত নড়িয়ে দিয়েছিল? মা চিত্রা সেনের মানসিক যন্ত্র’ণার কারণও ছিল সেটাই? বাবার মৃ’ত্যুতে অল্প বয়সেই, কাঁধে সংসারের দায়িত্ব! অকপট স্বীকারোক্তিতে অতীতের কঠিন দিনগুলোর কথা তুলে ধরলেন কৌশিক সেন!
প্রসঙ্গত, ইমন চক্রবর্তী ২০১৪ সাল থেকে নিজের বাড়িতে রথযাত্রা উপলক্ষে নিয়ম করে জগন্নাথদেবের পুজো করে আসছেন। এ বছরও পুরীর আদলে বিগ্রহের সাজ, বারাণসী থেকে আনা বিশেষ বেনারসি, নতুন সোনার মুকুট এবং ৫৬ ভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ভোগের জন্য মালপোয়া নিজে তৈরি করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর আয়োজন করেছেন গায়িকা। তবে সেই আয়োজনের পাশাপাশি তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্যও এখন সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।






