তাঁকে মূলত টলিউডের নেতিবাচক চরিত্রের জন্যই চেনেন অনেকে, ছোটবেলা থেকেই বাংলা ছবি ও সঙ্গীতের প্রতি বরাবর আগ্রহী ছিলেন অভিনেতা ‘জয় বদলানি’ (Joy Badlani)। জন্মগতভাবে তিনি একজন বাঙালি হলেও সিন্ধি পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই নাটক ও থিয়েটারে অংশ নেওয়া এবং অভিনয় করা তাঁর অভ্যাস ছিল। তবে, ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবি ‘কবিতা’ দেখার পর তিনি নিজের স্বপ্নকে আরও স্পষ্টভাবে বোধ করেন। ছবিতে কমল হাসানের অভিনয় এবং ‘মোটা গোঁফ’ দেখেই তিনি মনে করেছিলেন, ‘যদি ইনি এমন চেহারা নিয়ে অভিনয় করতে পারেন, তাহলে আমি কেন পারব না?’
সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁর অভিনয়ের পথে যাত্রা শুরু। শুরুর দিনগুলো একেবারেই সহজ ছিল না। কোনও প্রশিক্ষন ছাড়াই, ইন্দ্রপুরী স্টুডিও এবং স্টুডিও পাড়ায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন একটা সুযোগের অপেক্ষায়।কিন্তু তাঁকে কেউ পাত্তা দিত না, বরং দূর করে তাড়াতো! অভিনেতার ভাষায়, “এই মোটা গোঁফ নিয়ে অভিনয় করতে এসেছে, দূর হয়ে যা এখন থেকে!” এমন অপমান এবং উপেক্ষার মধ্যেও তিনি থেমে থাকেননি। একদিকে নিজের অভিনয়ের স্বপ্নকে সামনে রেখেছেন, অন্যদিকে বাবার ব্যবসা সামলাতেও হয়েছে তাঁকে।
পাশাপাশি সিন্ধি পরিবারের প্রথা অনুযায়ী কম বয়সে বিয়ের চাপও ছিল প্রচুর। জয় প্রথমে বিয়ে করার জন্য খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন না। তিনি বারবার বলতেন, “পাত্রী দেখে যদি পছন্দ না হয়, মুখের উপর বলতে পারব না, আর লুকিয়ে বিয়েও করতে চাই না” এবং নিজেকে পারিবারিক সেই প্রথার বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন নিজেকে রক্ষা করার পর শেষ পর্যন্ত পরিবার ও সামাজিক চাপের কারণে বিয়ে করতে হয়। ঠিক সেই সময়ে তার অভিনয়ের জীবনে একটি সুযোগ এসেছিল।
দূরদর্শনে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প অবলম্বনে একটি ধারাবাহিকে কাজ করার সুযোগ। কিন্তু তিন দিনের জন্য কাজ করতে বলা হলেও বাবার জরুরি ব্যবসায়িক কাজে তাকে বোম্বেতে যেতে হয়েছিল। নিজের স্বপ্নের দরজা প্রায় খুলতে যাচ্ছিল, তবুও তিনি বাবার কথা অমান্য করতে পারলেন না। চোখে জল নিয়ে তিনি বোম্বেতে চলে যান এবং সেই কঠিন মুহূর্তকেও জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নেন। পরে বোম্বেতে নিয়মিত যাতায়াতের সুবাদে অভিনয়ের নতুন দরজাও খুলে যায়, কিন্তু শুরুর সেই আক্ষেপ আজও তার মনে রয়ে গেছে।
তবে, জয়ের জন্য জীবন শুধু অভিনয়ের লড়াই নয় বরং কঠিন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েও গিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে হঠাৎ তাঁর শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয়। ত্বকের রঙ কালো হতে থাকে, হাতের আঙ্গুল এবং নাক বড় হতে থাকে। বন্ধু অর্জুনের পরামর্শে ডাক্তার দেখানোর পর তিনি জানতে পারেন যে তার শরীরে বড় হচ্ছে একটি টিউমার! এই কঠিন সময়েও তিনি থেমে যাননি, টিউমার থাকা সত্ত্বেও অভিনয় চালিয়ে গেছেন!
আরও পড়ুনঃ “বাইরের চাকচিক্য শুধু টোপ, চটক দেখে বিভ্রান্ত হয় অনেকেই” “ভুল পথে নিয়ে যাওয়া সঙ্গীর থেকে, নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে হবে”, চাঁচাছোলা মন্তব্যে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়! পরোক্ষ বার্তা কী কাঞ্চন-শ্রীময়ীর উদ্দেশ্যে?
যে সময়ে জয় কার কাছে সবচেয়ে বেশি মানসিক ভাবে আস্থা এবং সাহায্য পেয়েছিলেন জানেন? সেই স্ত্রী, যাকে একদিন বিয়ে করতে চাননি তিনি। জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে তিনি একান্তভাবে পাশে থেকেছেন এবং তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে আজও অভিনেতার চোখে জল চলে আসে। এমন সমর্থন এবং ভালোবাসা তাঁকে পরর্বতী জীবনে প্রতিটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে অটল থাকার শক্তি দিয়েছে। জীবনের উত্থান-পতনের গল্পেরও একটি অংশ হয়ে উঠেছেন তিনি নিঃসন্দেহে। বর্তমানে তিনি সুস্থ, তবে সেদিনের কথা ভুলতে পারেন না আজও।






