“ঘুষি মেরে ঠিক করেছি, নোংরামির শাস্তি এটাই!” মাচা শো-তে গিয়ে কেন রীতিমতো মারমুখী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়! পেটালেন ভক্তকে

সম্প্রতি বাঙালি অভিনেত্রী ‘শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ে’র (Srabanti Chatterjee) একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি এক যুবককে চড়-ঘুষি মারছেন। সম্ভবত যুবকটি তাঁর অনুরাগী (fan) বলেই মনে হচ্ছে যা দেখে বেজায় চটেছেন নেটিজেনরা, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন একজন অভিনেত্রী ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তাঁরই অনুরাগীর গায়ে এমনভাবে হাত তোলেন?

স্বাভাবিকভাবেই, এই ভিডিও ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অবশেষে এই ঘটনার আসল কারণ জানালেন শ্রাবন্তী নিজেই। শ্রাবন্তীর কথায়, ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় দুই মাস আগে, অসমে এক মাচা শো-তে। ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা যথেষ্ট ছিল না, আর সেই সুযোগেই এক যুবক অশ্লীল আচরণ করতে যায়। অভিনেত্রীর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি অভদ্রভাবে তার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, “ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ একটা হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যদি আমার দুই হাত বুকের কাছে না থাকত, তাহলে কী হতে পারত, সবাই বুঝতেই পারছেন। সেদিন মাথায় কিছু কাজ করছিল না, শুধু প্রতিরোধের ভাবনাই এসেছিল। সঙ্গে সঙ্গে ওর হাত ধরে পাল্টা চড়-ঘুষি মেরে দিয়েছি। আয়োজকদের যথেষ্ট গাফিলতি ছিল। আমার সাথে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকলেও,

সেদিনের ভিড়ের তুলনায় যথেষ্ট ছিলনা।” তিনি আরও বলেন, “তারকা পরিচয়ের আগে আমি একজন মেয়ে, তাই যখন কেউ অসভ্যতা করবে, তখন আমি চুপ করে থাকব না। এটা শুধু আমার ব্যাপার নয়, প্রতিটি মেয়েরই এমন সাহস থাকা দরকার। আমার মতন অভিনেত্রীর গায়ে যদি নির্দ্বিধায় হাত দিতে পারে, তবে একটা সাধারণ মেয়ের নিরাপত্তা কোথায়?” শ্রাবন্তীর এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন অনেকেই।

বিশেষ করে যারা মাচা শো বা জনসমাগমের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বহুবার মাচা শো-তে অভিনেত্রীদের হেনস্থার শিকার হতে দেখা গেছে। তারকাদের ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস স্বাভাবিক, তবে তা যদি সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে প্রতিবাদ করাই একমাত্র পথ বলে মনে করেন শ্রাবন্তী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “অসভ্যতা করলে পাল্টা জবাব দেব। মার খাওয়ার মত কাজ করলে মার তো খেতেই হবে!

আরও পড়ুনঃ ফের বিনোদন জগতে নক্ষত্রপতন! জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পীর মৃত্যুতে সংগীত জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া

এটা যে কারও হতে পারে, তাই ভয় না পেয়ে রুখে দাঁড়ানো উচিত। তাই আমার মনে হয় আমি কিছু ভুল করিনি যা করেছি ঠিক করেছি!” এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল, জনপ্রিয়তার আড়ালে থাকা তারকাদেরও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। প্রশ্ন থেকে যায়— জনসমক্ষে মহিলাদের নিরাপত্তা কবে নিশ্চিত হবে? কবে মেয়েরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, ভয় ছাড়াই?