দারুণ সুখবর! ইসলামপুরের আয়ুষ গুপ্তার মাথায় উঠল ‘সারেগামাপা ২০২৫’-এর সেরার মুকুট! পরিশ্রমের জয়, স্বপ্নের জয়! গর্বে ভাসছে গোটা উত্তরবঙ্গ!

উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের আলুপট্টির এক সাধারণ পরিবারের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই গানকে ভালোবেসে নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছিলেন তিনি। সেই পথচলার শেষ ধাপে এসে মিলল বড় সাফল্য। জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা ২০২৫’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের ট্রফি উঠল আয়ুষ গুপ্তা (Ayush Gupta) হাতেই। দীর্ঘ কয়েক মাসের কঠিন প্রতিযোগিতা, একের পর এক প্রশংসিত পরিবেশনা এবং দর্শকদের ভালোবাসার পর অবশেষে সেরার সম্মান জিতে নিলেন উত্তরবঙ্গের এই তরুণ শিল্পী। তাঁর এই জয়কে ঘিরে এখন আনন্দে মেতে উঠেছে ইসলামপুর থেকে শুরু করে গোটা উত্তরবঙ্গ।

ছোট শহর থেকে রাজ্যজোড়া পরিচিতি পাওয়ার পথটা মোটেই সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত গানের চর্চা, নিজেকে আরও ভালো করে গড়ে তোলার চেষ্টা এবং প্রতিটি মঞ্চে নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছেন আয়ুষ। মাঝেমধ্যে নানা প্রশ্ন এবং সংশয়ের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। অনেকেই মনে করেছিলেন, শুধুমাত্র গানকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেই সব মন্তব্যকে পিছনে ফেলে নিজের পরিশ্রম এবং একাগ্রতার জোরেই তিনি আজ বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন। তাঁর এই সাফল্য দেখিয়ে দিল, ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে ছোট শহর থেকেও বড় স্বপ্ন সত্যি করা সম্ভব।

এই জয়ের পেছনে পরিবারের অবদানও কম নয়। আয়ুষের মা রেখা দেবী আগেই জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলের গানের প্রতি আলাদা ভালোবাসা ছিল এবং পরিবারের প্রত্যেকেই সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন ছেলে আরও বড় মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করুক এবং মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুক। অন্যদিকে বাবা মনোজ গুপ্তাও সবসময় বলেছেন, আয়ুষ পড়াশোনা এবং গান দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ছেলের নিষ্ঠা একদিন নিশ্চয়ই বড় সাফল্য এনে দেবে। ফাইনালের ফল প্রকাশের পর সেই বিশ্বাসই যেন বাস্তবে রূপ পেল।

আয়ুষের এই জয় এখন আর শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। ইসলামপুরের বহু তরুণ-তরুণীর কাছে তিনি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। উত্তরবঙ্গের নানা প্রান্তে তাঁর সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মানুষ মনে করছেন, তাঁদের এলাকার এক ছেলে গোটা বাংলার মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তাই এই ট্রফি শুধু আয়ুষের নয়, ইসলামপুর এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছেও গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ছোট শহরের প্রতিভারও যে রাজ্যজুড়ে জায়গা তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আমি ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে থাকা মা নই…এখনও হাত ধরতে দেয়, আর কদিন পর হয়তো…” বদলে যাচ্ছে মা-ছেলের সম্পর্ক, তাই কি মনের ভিতরে জমছে অদ্ভুত এক শূন্যতা? মাতৃত্ব নিয়ে কোন আক্ষেপের কথা জানালেন গায়িকা কৌশিকী চক্রবর্তী?

শুরু থেকেই বিচারকদের প্রশংসা, দর্শকদের সমর্থন এবং ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের জন্য আয়ুষকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফাইনালের আগে বিভিন্ন মহলেও তাঁর জয়ের জোরালো সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশাই সত্যি হলো। শুধু চ্যাম্পিয়নের খেতাবই নয়, দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবেও তিনি বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন। গ্র্যান্ড ফিনালের রাত আয়ুষ গুপ্তার জীবনে যেমন স্মরণীয় হয়ে রইল, তেমনই উত্তরবঙ্গের সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছেও এই মুহূর্ত হয়ে থাকবে গর্বের এক নতুন অধ্যায়।

You cannot copy content of this page