“ইন্ডাস্ট্রিতে কখনো সত্যিকারের বন্ধু হয়না, সবাই শুধু দরকারের সময়ই কাছে আসে”— অকপট চিরঞ্জিত চক্রবর্তী! টলিউডের অদৃশ্য কূট’নীতি ও বিনোদন জগতের অজানা রূপ প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা!

চিরঞ্জিত চক্রবর্তী—টলিউডের এমন এক নাম, যিনি শুধুমাত্র অভিনেতা নন, বরং বাংলা বিনোদন জগতের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অংশ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপোলি পর্দায় নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। একাধিক চরিত্রে সাবলীল অভিনয়, সংলাপে দৃঢ়তা আর ব্যক্তিত্বের স্পষ্ট ছাপ—এই তিনে মিলিয়েই দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন চিরঞ্জিত। সময়ের সঙ্গে বদলেছে টলিউড, বদলেছে ট্রেন্ড, কিন্তু নিজের অভিনয়ের ধারাকে তিনি বরাবরই নিজের মতো করেই ধরে রেখেছেন।

শুধু অভিনয় নয়, পর্দার বাইরেও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন। সোজাসাপ্টা কথা বলার অভ্যাস, কোনও বিষয়ে রাখঢাক না করে মত প্রকাশ—এই স্বভাবই তাঁকে অনেকের কাছে আলাদা করে তুলেছে, আবার তৈরি করেছে বিতর্কও। তবে সেই বিতর্কের মাঝেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কমেনি। বরং দর্শকের একাংশ তাঁর এই স্পষ্টবাদিতাকেই সম্মান করে এসেছে দীর্ঘদিন ধরে।

সম্প্রতি নিজের জীবন নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা। অভিনয় জগতে পা রাখার আগেই তিনি যে একজন সাংবাদিক ছিলেন, সেই তথ্য আবারও সামনে এনেছেন চিরঞ্জিত। সাংবাদিকতার মাধ্যমেই প্রথম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয় তাঁর। সেখান থেকেই অভিনয়ের সুযোগ আসে এবং ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতাদের অন্যতম।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অকপট চিরঞ্জিত। কলেজ জীবনে যে মেয়েটিকে প্রথম পছন্দ হয়েছিল, তাঁর সঙ্গেই সম্পর্কে জড়ান তিনি। পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্কই বিয়েতে গড়ায়। অভিনেতার কথায়, আজও তাঁরা একইভাবে একসঙ্গে সুখী জীবন কাটাচ্ছেন। এক নারীর প্রতিই তাঁর আসক্তি এবং বিশ্বাস—এই কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  “স্ট্রাগল শুধু আমার নয়, দেব-জিৎ-প্রসেনজিত-মিঠুন—সবার জীবনেই লড়াই আছে”—অকপট সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়! ‘খাদান’-এর পরেও কি টলিউডে নিজের জায়গা জায়গা পাচ্ছেন না অভিনেতা? গ্ল্যামারের আড়ালের নির্মম বাস্তবতা নিয়ে কী বললেন তিনি!

ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে চিরঞ্জিতের অভিজ্ঞতাও বেশ কড়া। তাঁর মতে, এই জগতে প্রকৃত বন্ধু খুব কমই থাকে। প্রয়োজন ফুরোলেই যোগাযোগ কমে যায়। বর্তমানে তিনি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অনেকটাই দূরে সরে এসেছেন, আর সেই কারণেই আগের মতো ফোনও আসে না। তবে এসব নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই—নিজের মতো করেই জীবনকে দেখতে শিখেছেন বলেই জানিয়েছেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।

You cannot copy content of this page