বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী দীর্ঘদিন অভিনয়ের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই বছরই বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। এরপর ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। টানা তিনবার মানুষের সমর্থন পেয়ে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে বর্তমানে তিনি আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়েই মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।
সম্প্রতি ‘অভিমান’ ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন চিরঞ্জিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির দলত্যাগ এবং অসন্তোষের খবর সামনে আসছে, তখন তাঁর ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই জানতে চান, তিনিও কি কোনও অভিমান বা ক্ষোভের কারণে রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছেন? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? সেই জল্পনারই জবাব দেন অভিনেতা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিমানের কোনও সম্পর্ক নেই।
চিরঞ্জিত বলেন, “আমি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। আমি রাজনীতিতে নেই আর। এখন আর রাজনীতিবিদ নই, আম জনতা।” নিজের বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “কোনও অভিমান নয়। খালি ট্র্যাক বদলে গিয়েছে। যে ট্র্যাকে দৌড়াচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখলাম ট্রেন লাইন বাঁদিকে বেঁকতে আরম্ভ করল।” অভিনেতার এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবছিলেন। তাই সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া নয়, বরং অনেক দিনের চিন্তার ফল।
এই প্রসঙ্গে চিরঞ্জিত আরও জানান, “যখন থেকে বেঁকছে তখন থেকেই আমি না বলে যাচ্ছি। জানিয়েছিলাম আর থাকতে চাইছি না, বেরিয়ে যাব। এতদিন অ্যাপ্রুভ হচ্ছিল না। এবার শেষ পর্যন্ত হল, ২০২৬ সালে এসে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অনেক আগেই দল ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সময় লেগেছে। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত তিনি ভেবেচিন্তেই নিয়েছেন বলেও স্পষ্ট করেছেন।
আরও পড়ুনঃ “লোকজন ভেবেছে আমিই বুঝি পুরো পরিকল্পনার মূল কারিগর…আমাকেই দো’ষী ভাবা হয়েছে” জানেন, বন্ধুদের পালিয়ে প্রেম করাতে গিয়ে কী কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন মানালি দে?
দলের সঙ্গে কোনও মতবিরোধ ছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন অভিনেতা। চিরঞ্জিত বলেন, “আমার সঙ্গে কোনও সমস্যা ছিল না। আমার নিজের মনে হচ্ছিল চারপাশে যা যা ঘটছে সেটার সঙ্গে আমি যাই না। সেটার কারণেই সরে গিয়েছি। একেবারেই ভাল লাগছে না। হওয়া উচিতও না।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি একটা পার্টি থেকে আরও একটা পার্টিতে যাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। জয়েনও করিনি অন্য কোথাও।” অর্থাৎ অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর নেই বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে থেকে সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাতেই স্বচ্ছন্দ চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।






