অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের মহা-উদ্বোধন! নারীদের যৌ’ন নিগ্রহে নাম জড়ানো অরিন্দম শীলকে মধ্যমণি হয়ে বসে থাকতে দেখে কটাক্ষের ঝড় নেট পাড়ায়!

অক্ষয় তৃতীয়ার (Akshaya Tritiya) পুণ্য তিথিতে দীঘায় সূচনা হল বহু প্রতীক্ষিত জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple)। বিগত কয়েক বছর ধরে এই মন্দির ঘিরে গড়ে উঠেছিল এক উত্তেজনার আবহ, বুধবারের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের (Inauguration) মাধ্যমে খুলে গেল। বাংলার সংস্কৃতি, রাজনীতি ও বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বদের মিলন উৎসব দেখা গেল এদিন। আর সেই মিলনের উৎসবে উপস্থিত থেকে নজর কাড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের একাধিক পরিচিত মুখ—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, নচিকেতা চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সি, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

এদিন গানের সুরে মগ্ন করে তুললেন নচিকেতা। গাইলেন ‘এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’ থেকে শুরু করে ‘তোমার কাছে এ বর মাগি’র মতো মন ছুঁয়ে যাওয়া গান। গলা মেলালেন জিত-শ্রীরাধাও, গাইলেন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ও সুর করা গান। অন্যদিকে ভক্তিগীতির মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথের মহিমা তুলে ধরলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইমন চক্রবর্তী। তাঁর কণ্ঠে মিশে ছিল ভক্তি, আবেগ ও নিখাদ ভক্তসংগীতের আবেদন। এছাড়াও, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর নৃত্যদলের সঙ্গে মিলে মঞ্চ মাতিয়ে দিলেন এক মনোজ্ঞ পরিবেশনার মাধ্যমে।

তবে সকল আলো-আবেগের মাঝেও নেটদুনিয়ার চোখ আটকে গেল একটি ছবিতে। সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেয়ার করা একটি বাসের ভিতরের ছবিতে দেখা গেল জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তিকা নিজে ও পরিচালক অরিন্দম শীলকে পাশাপাশি বসে থাকতে। এই একটি ছবিই যেন বদলে দিল দীঘার মন্দির উদ্বোধনের ভক্তিময় আবহ। বহু নেটিজেন অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—যাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নায়িকা যৌ’ন হেন’স্থার অভিযোগ এনেছেন, তিনি কেমন করে এই পুণ্য মঞ্চে স্থান পেলেন? পুরোটাই কি দলীয় প্রভাবের জোরে?

এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে প্রবল ট্রোল। কেউ লিখেছেন, “সব পুণ্যার্থীর মাঝে সবচেয়ে বড় পাপীও বসে আছেন”, কেউ বলেছেন, “অরিন্দমই সবচেয়ে বড় পুণ্যার্থী,” আবার কেউ সরাসরি কটাক্ষ করে বলেছেন,”অরিন্দমও আছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সাধে কি আরজি কর নিয়ে নোংরা মন্তব্য করেছিল!” অরিন্দম শীলকে নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু এই রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি যেন নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল। সমালোচকদের একাংশের মতে, এই ছবি বাংলার নারীনেতৃত্বের দ্বিচারিতার প্রতিচ্ছবি।

আরও পড়ুনঃ দাদু, বাবার পথেই হিয়া! বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছে শাশ্বত কন্যা! ‘বিখ্যাত বাবার মেয়ে হয়ে নয়, নিজের কাজে সবার মন জিততে চাই’ অকপট নবাগত অভিনেত্রী

যেখানে নারীর সম্মানের কথা বললেও বাস্তবে একাধিক অভিযোগের মুখে থাকা মানুষদের জায়গা করে দেওয়া হয় একই আসনে। সার্বিকভাবে দীঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন ছিল আড়ম্বরপূর্ণ, ঐতিহাসিক এবং আবেগে ভরা। তবে অনুষ্ঠানের মধ্যেই এমন কিছু মুহূর্ত ধরা পড়েছে, যা বাংলা রাজনীতি এবং সংস্কৃতির সম্মিলিত মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দর্শকেরা হয়তো দেব-প্রসেনজিতের ঝলক দেখবেন আশা করেছিলেন, কিন্তু অরিন্দম শীলের উপস্থিতি যেন শাসক দলের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

You cannot copy content of this page